• ফর্মুলা ওয়ান
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বাহরাইন গ্রাঁ প্রিঃ মৃত্যুমুখ থেকে ফিরলেন গ্রোজন, হ্যামিল্টনের আরো একটি জয়

    বাহরাইন ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে লুইস হ্যামিল্টন তুলে নিলেন তাঁর ৯৫তম গ্রাঁ প্রি শিরোপা। এই মৌসুমে এই নিয়ে ১১টি রেসে জিতে নিজেরই ২০১৬ এ করা রেকর্ড স্পর্শ করলেন মার্সিডিজের এই ব্রিটিশ রেসার। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বাহরাইনের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে হাসের ফ্রেঞ্চ-সুইস রেসার রোমেইন গ্রোজনের ভয়ানক দুর্ঘটনার জন্য। 
    আগেরদিন পোল পজিশান জিতেছিলেন লুইস হ্যামিল্টন। গ্রিডে তার পাশে ছিলেন তাঁর মার্সিডিজ সতীর্থ ভ্যালটেরি বোটাস এবং রেড বুলের ম্যাক্স ভারস্টাপেন। হাসের দুই ড্রাইভার কেভিন ম্যাগনাসেন এবং রোমেইন গ্রোজন রেস শুরু করেছেন একেবারে পেছনের সারিতে। রেস শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মাথাতেই গ্রোজনের নিজের ভুলেই তাঁর গাড়ি পেছনের আলফাটাওরির ড্যানি কভিয়াটের গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্র্যাক থেকে ছিটকে আঘাত হানে কনক্রিটের ব্যারিয়ারে। প্রচন্ড গতির কারণে গ্রোজনের গাড়ি ব্যারিয়ারে ধাক্কা খেয়েই মাঝখান থেকে ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়, ট্যাংক থেকে ফুয়েল বের হয়ে এসে নিমিষেই গাড়িতে আগুন লেগে যায়। ট্র্যাকে সাথেই সাথেই রেড ফ্ল্যাগ দিয়ে রেস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মেডিকাল সেফটি কারের গ্রোজনের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে লাগে ৩০ সেকেন্ডের মত। এই আধ মিনিট ট্র্যাকের সবািকেই হৃদস্পন্দন বন্ধ করেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। সবাইকে স্বস্তি দিয়ে এফআইএ এর নিয়োজিত ডাক্তার ইয়ান স্টুয়ার্টের সহযোগিতায় অগ্নিকুন্ড থেকে বের হয়ে আসেন রোমেইন গ্রোজন। সেখান থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুখের ব্যাপার হুল, এমন ভয়ঙ্কর ক্র্যাশ এবং ১০-১২ সেকেন্ড অগ্নিকুন্ডের ভেতর কাটানোর পরও গ্রোজন অল্পের উপর দিয়েই পার পেয়ে গিয়েছেন। পাঁজরের হাড়ে ফ্র্যাকচার এবং হাতে ও পায়ের সামান্য অংশ পুড়ে যাওয়া ছাড়া তেমন কোন বড় ক্ষতি তাঁর হয় নি। ব্যারিয়ার ঠিক করে রেস আবারো শুরু করতে লেগে যায় বেশ কিছুক্ষণ। তবে রেস শুরু হওয়ার পরপরই আবার দুর্ঘটনা। এবার শিকার রেসিং পয়েন্টের লান্স স্ট্রোল। টার্ন নেওয়ার সময় আলফাটাওরির ড্যানি কভিয়াটের গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে উলটে যায় স্ট্রোলের গাড়ি। এর পর আবার রেস শুরু হলে বাহরাইনের শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ায় মাথা ঠান্ডা রেখেই নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেই শেষ করেছেন হ্যামিল্টন। ওদিকে তাঁর মার্সিডিজ টিমমেট বোটাস আবহাওয়ার সাথে যুঝতে গিয়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছিলেন। এই সুযোগে রেসিং পয়েন্টের সার্জিও ‘চেকো’ পেরেজ এবং রেড বুলের ম্যাক্স ভারস্টাপেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করে নেন। রেসিং পয়েন্টের ভাগ্যটা আসলেই খারাপ ছিল কারণ রেসের একেবারে শেষে যখন ৩ ল্যাপ বাকি, তখন ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে পেরেজের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। ফলে রেসিং পয়েন্টের দুই ড্রাইভারের কারও রেস শেষ করা হয় নি। পোডিয়ামে হ্যামিল্টনের সাথে জায়গা করে নিয়েছেন রেড বুলের দুই ড্রাইভার ভারস্টাপেন এবং অ্যালবন। সর্বশেষ রেড বুল দুইটি পোডিয়াম পেয়েছিল ২০১৬ সালে যখন ড্যানিয়েল রিকার্ডো তাদের টিমে ছিলেন।


    রেসিং পয়েন্টের দুর্ভাগ্যে সুবিধে হয়েছে রেনোঁ এবং ম্যাকলারেনের।  কন্সট্রাক্টর চ্যাম্পিয়নশিপ টিম মার্সিডিজ আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে আর ২য় স্থানেও রেড বুলের থাকাটা মোটামুটি ধরেই নেওয়া যায়। ৩য় স্থানের দৌড়ে এগিয়ে ছিল রেসিং পয়েন্ট। এক বাহরাইন থেকে কোন পয়েন্ট না পাওয়ায় ম্যাকলারেন চলে এসেছে তৃতীয় স্থানে। চমৎকার পারফর্মেন্সে ৪ ও ৫ এ শেষ করেছেন ম্যাকলারেনের ল্যান্ডো নরিস এবং কার্লোস সাইঞ্জ। রেসিং পয়েন্ট থেকে মাত্র ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রেনোঁর দুই ড্রাইভার ড্যানিয়েল রিকার্ডো এবং এস্তেবান ওকোন শেষ করেছেন ৭ ও ৯এ। কাজেই ফরমুলা ওয়ানের এই মৌসুমের শেষ দুটো গ্রাঁ প্রিতে ম্যাকলারেন, রেসিং পয়েন্ট এবং রেনোঁর জমজমাট ত্রিমুখী লড়াই দেখার আশা করা যাচ্ছে। 
    ওদিকে মাইকেল শুমাখার এবং সেবাশ্চিয়ান ভেটেলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৩টি রেস জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে আগামী দুটি গ্রাঁ প্রিই জিততে হবে হ্যামিল্টনকে। জিততে পারলে এটিই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। আগামী সপ্তাহে আবার বাহরাইনেই সাখির গ্রাঁ প্রিতে ট্র্যাকে নামবেন হ্যামিল্টন। হাস এখনো নিশ্চিত করে নি সাখিরে গ্রোজনের বদলি হিসেবে কে আসছেন। গ্রোজন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এমনটাই সবার প্রার্থনা থাকবে। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন