• ফর্মুলা ওয়ান
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    সাখির গ্রাঁ প্রিঃ পেরেজের আনন্দের অশ্রু এবং রাসেলের হতাশার অশ্রুতে শেষ হল এক নাটকীয় দিন

    স্বপ্নের এতটা কাছে চলে গিয়ে লক্ষ্যটাকে ছুঁতে না পারা, আর ১০ বছর ধরে স্বপ্নের পেছনে দৌড়ে আরেকজনের দূর্ভাগ্যের সুযোগে স্বপ্নপূরন - মুদ্রার দুপিঠই দেখা গেল বাহরাইন ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে হয়ে যাওয়া সাখির গ্রাঁ প্রিতে। রেসিং পয়েন্টের সার্জিও ‘চেকো’ পেরেজ জিতে নিলেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গ্রাঁ প্রি। আর খুব কাছে এসেও জয়ের দেখা পেলেন না মার্সিডিজের বদলি ড্রাইভার জর্জ রাসেল। মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত পোডিয়ামে নেই মার্সিডিজ বা রেড বুলের কেউ। 

    বাহরাইন গ্রাঁ প্রিতে হাসের রোমেইন গ্রোজনের ভয়ানক দুর্ঘটনা এবং এর পরপর লুইস হ্যামিল্টনের কোভিড১৯ পজিটিভ হওয়ার কারণে এই সপ্তাহের ফরমুলা ওয়ানের ড্রাইভারদের লাইন আপে এসেছিল তিনটি পরিবর্তন। হাসে গ্রোজনের জায়গা নিয়েছেন ফরমুলা ওয়ানের কিংবদন্তী এমারসন ফিটিপাল্ডির নাতি পিয়েত্রো ফিটিপাল্ডি। আর মার্সিডিজে লুইস হ্যামিল্টনের জায়গা নিয়েছেন উইলিয়ামসে ড্রাইভার ব্রিটিশ তরুণ জর্জ রাসেল। ২২ বছরের জর্জ রাসেল মার্সিডিজ ইউথ একাডেমিরই প্রোডাক্ট, তাঁর প্রতিভার কারণে এখন থেকেই সবাই ধারণা করছে ভবিষ্যতে মার্সিডিজে তিনি লুইস হ্যামিল্টনের জায়গাটা পূরণ করবেন। গোটা মৌসুমে তিনি চালিয়েছেন উইলিয়ামসের হয়ে। মার্সিডিজের ডাক আসাতে যোগ দেন বোটাসের পার্টনার হিসেবে এবং উইলিয়ামসে রাসেলের বদলি হিসেবে আসেন ব্রিটিশ ড্রাইভার জ্যাক এইটকেন। মার্সিডিজের গাড়িতে রাসেল কেমন করেন দেখবার জন্য উৎসুক ছিলেন সকলেই। তিনি কাউকেই নিরাশ করেন নি। শনিবারের কোয়ালিফাইং এ  সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য পোল পজিশান হারিয়েছেন মার্সিডিজ সতীর্থ বোটাসের কাছে। কিন্তু কোয়ালিফাইং এর চমৎকার পারফরমেন্স আশা জুগিয়েছিল মূল রেসের জন্যও। রবিবারে মূল রেসেও ২য় পজিশানে শুরু করলেও শুরু থেকে ৬০তম ল্যাপ পর্যন্ত সবগুলো ল্যাপই শীর্ষে থেকেই শেষ করেছেন জর্জ রাসেল। রেসের ২য় ল্যাপেই সার্জিও পেরেজের সাথে এক দুর্ঘটনায় রেস থেকে ছিটকে যান এই রেস জয়ের জন্অয ন্যতম দুই দাবীদার রেড বুলের ম্যাক্স ভারস্টাপেন এবং ফেরারির শার্ল লেক্লের। চমৎকার ড্রাইভিং এ রাসেল তার সহজাত প্রতিভা দিয়ে সহজেই টিমমেট বোটাস এবং বাকি সবার থেকে এগিয়ে ছিলেন। রেসের প্রায় শেষ দিকে গিয়ে জ্যাক এইটকেনের একটা দুর্ঘটনার কারণে ট্র্যাকে সেফটি কার নামানো হয় আর তখনই হয় বিপত্তিটা। মার্সিডিজের পিট ক্রু এর ভুলের কারণে পিটস্টপে রাসেলের গাড়িতে লাগানো হয় ভুল চাকা, আর ওদিকে বোটাসের গাড়িতে লাগানোর জন্য চাকাই খুঁজে পাচ্ছিল না মার্সিডিজের ক্রু ! শেষ পর্যন্ত যেই চাকা খোলা হয়েছিল সেটাই আবার লাগিয়ে দেওয়া হয় বোটাসের গাড়িতে। ভুল চাকা লাগানোতে এক ল্যাপের মাঝেই আবার রাসেলকে পিটে ফিরে গিয়ে ঠিক চাকা লাগিয়ে নিতে হয়। এতে শীর্ষ স্থান থেকে পিছিয়ে তিনি চলে যান ৫এ আর বোটাস ২য় স্থান থেকে চলে যান ৪এ। সেফটি কার নেমে যাওয়ার পর আরো একবার দারুণ ড্রাইভিং দেখিয়ে রাসেল ৫ থেকে উঠে আসেন ২এ। কিন্তু আবারো বিধিবাম, সামনের বামের চাকা পাংচার হওয়ায় রেসে ৪র্থ বারের মত রাসেলকে ফিরতে হয় পিট লেইনে। একেবারে শেষ থেকে শুরু করে শেষ ১০ল্যাপের মাঝেই আবারো ৯এ চলে আসেন এবং ৯এই শেষ করেন। ৩০ ল্যাপের পুরনো, ক্ষয়ে যাওয়া চাকায় বোটাস শেষ করেছেন ৮ম হয়ে। এটাই রাসেলের ফরমুলা ওয়ানের ক্যারিয়ারের সেরা ফলাফল। 


    ওদিকে রেসের শুরুতে দুর্ঘটনার কারণে একদম পিছে ১৮তম অবস্থান থেকে শুরু করেন সার্জিও পেরেজ। অভিজ্ঞতা আর নিখুঁত ড্রাইভিং এ রেসের মাঝপথেই ৩য় অবস্থানে চলে আসেন রেসিং পয়েন্টের এই মেক্সিকান ড্রাইভার। মার্সিডিজের পিটস্টপের গোলমালের সুযোগে উঠে আসেন শীর্ষস্থানে, এরপর বাকি রেস শীর্ষে থেকেই শেষ করেছেন। ফরমুলা ওয়ানের ১০ বছরের ক্যারিয়ারে ৯বার পোডিয়ামে থাকলেও গ্রাঁ প্রি জেতা হয় নি পেরেজের। ২০১২ সালে মালয়শিয়ান গ্রাঁ প্রিতে প্রথম পোডিয়ামে উঠেছিলেন পেরেজ। এরপর আরো ৮বার পোডিয়ামে উঠলেও রেস জয়টা অধরাই থেকে গিয়েছিল। প্রথম পোডিয়ামের ৮ বছর পর জিতলেন প্রথম গ্রাঁ প্রি শিরোপা। পোডিয়াম থেকে শিরোপা পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার রেকর্ড এখন তাঁরই। ওদিকে পেরেজের সাথে পোডিয়ামে ছিলেন রেনোঁর এস্তেবান ওকোন এবং তাঁর রেসিং পয়েন্টের টিমমেট লান্স স্ট্রোল। ওকোনের এটাই প্রথম পোডিয়াম, দুইবছর আগে পেরেজের টিমমেট হিসেবেই টিম ফোর্স ইন্ডিয়ার হয়ে ফরমুলা ওয়ানের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই ফ্রেঞ্চ তরুণ। একই সাথে দুইটি পোডিয়াম পজিশান জিতে এই মৌসুমের ফরমুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাকলারেন থেকে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে গেল রেসিং পয়েন্ট। মৌসুমের শেষ রেসেই নির্ধারণ হবে কে হচ্ছে ৩য়। 
    পরের সপ্তাহে ইয়াস মারিনা সার্কিটে আবু ধাবি গ্রাঁ প্রি দিয়েই শেষ হবে ফরমুলা ওয়ানের ঘটনাবহুল ২০২০ মৌসুম। হ্যামিল্টন অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, আর ৩য় হবে কোন দল এই দুটো প্রশ্নই অপেক্ষা করছে আবু ধাবির জন্য। 
     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন