• টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ২০২১
  • " />

     

    অবসরের ঘোষণা দিলেন সময়ের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ওয়াটলিং

    অবসরের ঘোষণা দিলেন সময়ের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ওয়াটলিং    

    অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ডের বিজে ওয়াটলিং। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এবং এরপর ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাবেন তিনি, জানিয়েছে ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও থাকবেন না ৩৫ বছর বয়সী ওয়াটলিং। পরিবারকে সময় দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। 

    ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওপেনার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হলেও শীঘ্রই গ্লাভস হাতে ওয়াটলিং হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বস্ত। তার অভিষেকের পর থেকে টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে যে কোনো দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও ডিসমিসাল আছে তার। এখন পর্যন্ত ৭৩ টেস্টে করেছেন ৩৭৭৩ রান, ৩৮.১১ গড়ে, ৮ সেঞ্চুরিতে। সঙ্গে আছে উইকেটকিপিংয়ে ২৫৭টি ডিসমিসাল। ইংল্যান্ড সফরে তিনটি টেস্টই খেললে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা উইকেটকিপারের রেকর্ডেও অ্যাডাম প্যারোরেকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

    অবশ্য নিউজিল্যান্ডের হয়ে এতো বেশি রানের সঙ্গে এতো ডিসমিসাল নেই আর কারও। ফলে পরিসংখ্যানে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তিনি তাদের। টিম সাউদি (৭৩), ট্রেন্ট বোল্ট (৫৩) ও নেইল ওয়্যাগনারের (৫৩) সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ইতিহাসে সবচেয়ে সফল তিনটি বোলার-উইকেটকিপার জুটিও তার ক্যাচের দিক দিয়ে। 

    নিউজিল্যান্ড ইতিহাসের চতুর্থ, পঞ্চম ও সপ্তম উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটিতে অংশ ছিলেন ওয়াটলিং- যথাক্রমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে ২০১৪ সালে ৩৬২, একই বছর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৩৬৫* ও মিচেল স্যান্টন্যারের সঙ্গে ২০১৯ সালে ২৬২ রানের জুটিতে। বিবৃতিতে ওয়াটলিংকে তাদের ‘সবচেয়ে সম্মানিত’ ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। 

    “এটা উপযুক্ত সময়”, অবসরের ঘোষণার সঙ্গে বলেছেন সম্প্রতি দ্বিতীয়বার বাবা হওয়া ওয়াটলিং। “নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা দারুণ সম্মানের, বিশেষ করে টেস্ট ক্যাপ পরা। টেস্ট ক্রিকেট সত্যিই সবকিছুর ওপরে এবং সাদা পোশাকে সতীর্থদের সঙ্গে প্রতিটি মিনিট উপভোগ করেছি আমি।” 

    “ড্রেসিংরুমে বসে পাঁচদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর বিয়ার খাওয়াটা সবচেয়ে বেশি মিস করব আমি। আমি দারুণ কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছি, বেশ কজন ভাল বন্ধু পেয়েছি। চলার পথে অনেক সহায়তা পেয়েছি, যেসবের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব আমি।”

    এসবের সঙ্গে অবসরের কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, “আমার স্ত্রী জেস আমার স্থিতিশীলতা ও সহায়তার চিরন্তন এক উৎস, নিশ্চিতভাবেই তার ও বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মুখিয়ে আছি আমি। আমাকে ঠিক পথে ঠেলতে আমার মাকেও বড়সড় একটা ধন্যবাদ দিতে হবে, যে সবসময় আমার পাশে ছিল।”


    সফরের ঠিক আগে অবসরের ঘোষণা দিলেও তার ফোকাসটা নড়বে না বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াটলিং, “এই সফরটা বেশ কয়েকটা দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জের, এবং সফল হতে হলে সেরা খেলাটা খেলতে হবে, দল হিসেবে সেটি জানি আমরা।”

    ওয়াটলিংকে তার ‘অসাধারণ সাহস’ ও ‘সংকল্পের’ কারণে মনে রাখা হবে, বলেছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট, “বিজে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারত। তার মতো ইতিবাচক, প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে এমন সফল আর কারও কথা ভাবতে পারছি না আমি।” 

    হেড কোচ গ্যারি স্টিড বলেছেন, “তার সতীর্থরা তাকে কেমন সম্মান করে, সেটি দেখলেই চলবে। প্রতিপক্ষরা তার কেমন প্রশংসা করে।” 

    সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন বলে ওয়াটলিং ছাড়ছেন নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের হয়ে খেলাও। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের হয়েই দেশের মাটিতে সব ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি, সঙ্গে ২০১৯ সালে ডারহামের হয়ে কাউন্টিতে খেলেছিলেন এক মৌসুম। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন