• শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ সফর ২০২১
  • " />

     

    তরুণদের ওপর ভরসা করতে চান তামিম, সমালোচনা নয়

    তরুণদের ওপর ভরসা করতে চান তামিম, সমালোচনা নয়    

    দ্বিতীয় ম্যাচে আফিফ হোসেন নেমেছিলেন ১৬.৩ ওভার বাকি থাকতে। যখন আপনি সাত নম্বরে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান খেলাবেন, নিশ্চিতভাবেই তার জন্য হবে সেটি ‘আদর্শ’ মঞ্চ। তবে আফিফ ফিরেছিলেন ৯ বলে ১০ রান করেই। শেষ ম্যাচে যখন নামলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৮.২ ওভারে ১৬১। আফিফ ব্যর্থ এদিনও, ১৭ বলে ১৬-এর বেশি করতে পারেননি।

    এদিন নিজের প্রথম ওয়ানডে ইনিংস খেলতে নেমেছিলেন নাইম শেখ, যাকে এ ম্যাচ সামনে রেখে ডাকা হয়েছিল স্কোয়াডে। লিটনের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর দলে নেওয়া হয়েছিল তাকে, তবে নাইম করেছেন ১ রান, আউটও হয়েছেন শুরুতেই আলগা এক শটে। শুধু আফিফ বা নাইম নন, এ সিরিজেও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম বা মাহমুদউল্লাহ ছাড়া সেভাবে অন্তত ব্যাটিংয়ে পারফর্ম করতে পারেননি কেউ ধারাবাহিকভাবে। ফল- প্রথম দুই ম্যাচে জিতলেও শেষ ম্যাচে বড় পরাজয়। ম্যাচশেষে তামিম ইকবাল বলছেন, সিরিজ জিতলেও অনেক কিছু নিয়েই সিরিয়াসলি কাজ করার আছে তাদের। তবে তিনি নিজ খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতে চান না।



    “সিনিয়রদের ওপর ভরসা করাটা দুশ্চিন্তার, কিন্তু আমি সবসময়ই তরুণদের উপর ভরসা রাখি”, বলেছেন তামিম। “আমি তাদের দিকে আঙুল তুলি না কারণ আমি জানি তারা কতটা পরিশ্রম করে। তারা পারফর্ম করলে আমরা দল হিসেবে আরও ভাল করব, তবে সমালোচনা করা সব সময়ই সহজ। নিজেদের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করব, আমি এমন কেউ নই।”

    “যেমন ধরেন, মিরাজ আমাদেরকে বোলিংয়ে দুটি ম্যাচজয়ী পারফম্যান্স দিয়েছে। এমন আরও আসলে আরও শক্তিশালী হব আমরা, শুধু দেশে না, দেশের বাইরেও। তবে সমালোচনা সহজ, আমি সেটা পছন্দ করি না।” 

    এ ম্যাচে লিটনকে বাদ দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, "আমার মনে হয় লিটন যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। সে মনে হয় ৮-৯টা ম্যাচ খেলেছে। সে তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। তবে এটাই ওর জন্য শেষ নয়। আমরা জানি সে কতোটা ভালো খেলোয়াড়। যখন একটা ক্রিকেটার ৭-৮ ম্যাচে ব্যর্থ হয় তখন আমাদের মনে হয়েছে আরেকজনকে সুযোগ দেওয়া। আপনি সৌম্য ও নাঈমের ব্যাপারে বলতে পারেন, কিন্তু আমরা সবাই ভেবেছি নাইমের কথা। নেটে বা প্রস্তুতি ম্যাচে যা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে সে ভালো ব্যাটিং করছে। তবে আজ তার প্রথম ম্যাচ (ইনিংস)। আশা করি সে আরও সুযোগ পাবে।"

    আগের ম্যাচের পর তামিম বলেছিলেন, ‘পারফেক্ট’ ম্যাচটা বাকি তাদের। একই কথা বলেছিলেন মাহমুদউল্লাহও। তবে শেষ ম্যাচে এসেও দেখা মেলেনি তেমন পারফরম্যান্সের, তামিম তাই বলছেন, অনেক কিছু নিয়েই কাজ করতে হবে তাদের, “গত ম্যাচের পর এবং এ ম্যাচের শুরুতে আমি যেমনটা বলেছিলাম, আমরা সিরিজ জিতেছি কিন্তু একবারও নিখুঁত ম্যাচ খেলিনি। আমরা এই সিরিজে আমাদের সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেলতে পারিনি। সিরিজ জেতার পর আমি বলতে পারি যে আমাদের কাজ করার মতো কিছু জায়গা আছে।”

    এর আগে ফিল্ডিংয়ে উন্নতি কথা বললেও এদিনও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে সেটি, তামিম বলেছেন সেটিও, “ওরা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে এ ম্যাচে এসেছিল এবং আমরা তাদের সেটি করতে সহায়তা করেছি। আমরা বেশি শর্ট বল করেছি। আমরা আমাদের সুযোগগুলো নেইনি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি ক্যাচ ফেলেছি। (সেসব নিলে) আমাদের হয়তো ৩০ রান কম তাড়া করতে হতো।”

    এ সিরিজেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৪ হাজার পূর্ণ করেছেন তামিম। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও দল হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে আরও অনেক কিছু অর্জনের বাকি তার, আছে স্বপ্নও- বলেছেন তিনি। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন