• " />
    X
    GO11IPL2020

     

    লেট কাট : স্মার্টফোন, হেলমেট আর নেলসন

    ক্রিকেটেই বেঁধেছি প্রাণ!

    প্রথম দেখা নয় বছর বয়সে। তখন তারা প্রতিপক্ষ। অনূর্ধ্ব-১১ পর্যায়ের একটা দলে দুজনই ছিল উইকেটকিপার, দায়িত্বটা ভাগাভাগি করেই পালন করতো দুজন। মিচেল স্টার্ক এরপর উইকেটকিপিং ছেড়ে হয়ে গেলেন ফাস্ট বোলার, অ্যালিসা হিলির হাতে ঠিকই রইলো কিপিং গ্লাভস। দুজন এবার বাঁধা পড়লেন পরিণয়ের বাঁধনে, ১৫ এপ্রিল দীর্ঘদিনের বন্ধুরা প্রণয়কে নিয়ে গেছেন পরের ধাপে। অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার স্টার্ক আর সাউদার্ন স্টারসের উইকেটকিপার, জীবনের নতুন ইনিংসটা শুরু করে ফেললেন অবশেষে!

    ২০১৪ সালে একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিলেন দুজন। হিলি এবারের আসরেও খেলেছেন, তবে চোটের কারণে খেলা হয়নি স্টার্কের। চোট থেকে পাওয়া ‘অবসর’-এর সময়টাই বেছে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার, ‘ফিট’ থাকলে তো তাঁর এসময় আইপিএল খেলার কথা! ‘স্টিলি’ জুটির বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন তাঁদের অস্ট্রেলিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের সতীর্থরা।

     

     

    নেলসন নেলসন

    ডেভিড শেফার্ডের সেই পা-তোলা ভঙ্গি মনে পড়ে? নেলসন নাম্বারের স্কোর হলেই এই কাজটা করতেন ইংলিশ আম্পায়ার। অনেক ইংলিশ ক্রিকেটারের কাছেই নেলসন নাম্বার ‘দুর্ভাগ্যের’ পরিচায়ক। শেফার্ড সেই ‘শাপ’ কাটাতেই যেন পা তুলতেন! সেই নেলসনেই এবার কাটা পড়লেন অ্যাডাম লাইথ। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়র্কশায়ারের হয়ে ১১১ রান করে আউট হয়েছেন লাইথ, হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে ম্যাচটা হয়েছে ড্র। লাইথ নেলসনে আউট হতেই পারেন, তবে লাইথের টেস্ট নাম্বারটা জানলে একটু কুসংস্করাচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারেন আপনিও! ৬৬৬, এই নাম্বারটাকে যে প্রায়ই ‘ডেভিলস নাম্বার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়!

    নেইল ওয়াগনারের কাউন্টি অভিষেকের বোলিং ফিগারটাও চোখে পড়ার মতো। প্রথম ইনিংসে ৬৬ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট, মানে একবারে লিখলে দাঁড়ায় ৬-৬৬। পরের ইনিংসে ৪৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের কিউই পেসার, ম্যাচ ফিগারটা দাঁড়িয়েছে ১১-১১১!

     

    হেলমেট নিয়ে হট্টগোল

    প্রায় দশ হাজার রান করেছেন টেস্টে, ওই রকমের হেলমেট পরেই। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে এসেক্সের প্রথম ম্যাচেও গ্লসাস্টারশায়ারের সঙ্গে নেমেছিলেন তাঁর পুরোনো মডেলের হেলমেট পরেই। প্রথম ইনিংসে ১০৫ এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ১৩৫। ইংলিশ গ্রীস্মের শুরুটা দারুণ হলো অ্যালেস্টার কুকের। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো তাঁর ওই হেলমেট নিয়েই! ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা ইস্যুর সব ‘প্যারামিটার’ যে পূরণ করে না কুকের ওই হেলমেট! তাঁর গ্রিল ও হেলমেটের ওপরের অংশের মাঝের ফাঁকা জায়গাটা যে বোর্ড নির্ধারিত মাপের চেয়ে বেশী!

    বোর্ড থেকে অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো। তবে কুক নতুন হেলমেট নিয়ে অস্বস্তিটাও জানিয়েছিলেন, বল দেখতে পুরোনো হেলমেটেই যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন! আট ব্র্যান্ডের প্রায় ত্রিশটা হেলমেট পরখ করে দেখার পরও যুৎসই একটা খুঁজে পাননি। তবে এসেক্সের পরের ম্যাচে নতুন মডেলের হেলমেট পরেই নামলেন কুক। প্রথম ইনিংসে আউট হয়ে গেলেন ৫ রান করে! তবে কি হেলমেটের জন্যই! নাহ্‌, কুক ভুল প্রমাণ করে দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই আবার করলেন সেঞ্চুরি!

     

     

    আসল 'দুর্ভাগা'

    লাইথ বা ওয়াগনারের জন্য নেলসন তেমন  দুর্ভাগ্য আনেনি। লুখান্যা সিকির ‘দুর্ভাগ্য’-এর পেছনেও অবশ্য নেলসনের ‘হাত’ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ ক্রিকেটার মৃত্যুবরণ করেছেন ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সময়েই! বর্ডারের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই অলরাউন্ডার করছিলেন ‘ব্লিপ টেস্ট’(এক জায়গা থেকে দৌড়ে গিয়ে আবার সে জায়গায় ফিরে আসা)। সাবেক আফ্রিকান পেসার ফুনেকো এনগামের ফোর্ট হ্যার একাডেমিতে। ‘সে ২০ বার ইয়ো-ইয়ো(ব্লিপ টেস্ট) দিতে পারে। ১৭ বার করার পর সে শার্ট খুলে ফেলে বসে পড়ে, কাশতে থাকে। একসময় পড়ে যায়। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে!’ সিকির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে উদীয়মান এই ক্রিকেটারের মৃত্যুর কারণটা সঠিক জানা যায়নি এখনও।

     

    হ্যাঁ ‘গোলাপী’, না ‘গোলাপী’

    অস্ট্রেলিয়া সফরে একটা টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ফ্লাডলাইটের আলোয়, গোলাপী বলে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা ‘আপত্তি’ জানিয়েছেন এতে! অস্ট্রেলিয়ানদের চেয়ে সুবিধাগত দিকে পিছিয়ে থাকবে বলেই ধারণা প্রোটিয়াদের। ডেল স্টেইনের মতটা আবার ভিন্ন! অবসর নেয়ার আগে অন্তত একটা টেস্ট গোলাপী বলে খেলে যেতে চান আফ্রিকান পেসার!

    আফ্রিকা যতোই ‘আপত্তি’ করুক, ভারতীয়রা গ্রহণই করতে চলেছে গোলাপী বলকে! এ বছরের শেষে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজেই একটা টেস্ট গোলাপী বলে আয়োজন করতে চায় বিসিসিআই। প্রস্তুতি হিসেবে দুলীপ ট্রফি আয়োজন করা হবে কৃত্রিম আলো ও গোলাপী বলে। এমনিতে ভারতের মাটিতে টেস্ট মানেই এসজি বল, তবে গোলাপী বল হিসেবে কুকাবুরাকেই বেছে নেবে ভারত। বিসিসিআই মহাসচিব অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন, গোলাপী কুকাবুরার ‘পারফরম্যান্স’ দেখার পরই তাঁরা এসজিকে এমন বল বানানোর কথা বলতে পারেন।

     

    এবার সেন্সর শরণ

    স্টুয়ার্ট ব্রড আজও দুয়ো শোনেন অস্ট্রেলীয়দের কাছে! ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে কট-বিহাইন্ড হয়েও যে ‘ওয়াক’ না করে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি! ‘এজ’ হওয়ার পরেও ব্যাটসম্যানদের দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ হয়ে এলো বুঝি এইবার! ক্রিকেটে বহুল ব্যবহৃত ‘হক-আই’ প্রযুক্তির জনক পল হকিন্স এবার এমন এক সেন্সর বানিয়েছেন, যা জানান দিবে বল ব্যাটকে ছুঁয়ে গেল কিনা! একটা ছোট পয়সার আকারের সেন্সর লাগানো থাকবে ব্যাটে, যেটা কাজ করবে একটা স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে। মাঠের দুই আম্পায়ারের কাছেই থাকবে স্মার্টফোন। অতি সুক্ষ্ণ ‘এজ’ও ধরা পড়বে এতে, সেন্সর বানাতে খরচ পড়বে ২৫ পাউন্ডের মতো। প্রথমে প্রযুক্তিটা পরীক্ষা করে দেখা হবে ইংল্যান্ডের গ্রেড ক্রিকেটে।

    স্মার্টফোন আর তার অ্যাপ্লিকেশনের যুগে ক্রিকেটই বা পিছিয়ে থাকে কেন!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন