• ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজ
  • " />

     

    সিনিয়রদের সিদ্ধান্তেই তাসকিনের ফেরা

     

    কী দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনটাই না হলো তাসকিন আহমেদের! ত্রিশঙ্কুর মতো ঝুলে ছিলেন শূন্যে। সেখান থেকে এমন দাপটের সঙ্গে মাঠে ফিরলেন যে দেশজুড়ে তাঁর নামে প্রশস্তি। সবচেয়ে বড় প্রশংসাটা পেয়েছেন অধিনায়কের কাছ থেকে। ১৯ ওয়ানডে খেলা তাসকিনকে দলের ‘মেইন বোলার’ এর স্বীকৃতি দিয়েছেন খোদ মাশরাফি বিন মুর্তজা।

    ৭৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান তখন অনেকটাই সংহত করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। জস বাটলার ও জনি বেইরস্টোর সাবলীল ব্যাটিং চোখ রাঙাচ্ছে সিরিজ হারের। ঠিক তখনই চিন্তিত মুখে বোলিং প্রান্তে জড়ো হলেন চার সিনিয়র খেলোয়াড়। অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে সেখানে ছিলেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল। জটলা থেকে সিদ্ধান্ত হলো বোলিং করবেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু তিনি কী পারবেন? প্রথম স্পেলে যে বেধড়ক পিটুনি খেয়েছে তাঁর বোলিং। দুই ওভারে দিয়েছিলেন ১৯ রান। চার ‘বড় ভাই’ এর আস্থার প্রতিদান বল হাতে দুর্দান্তভাবেই দিয়েছেন তাসকিন। তৃতীয় বলেই আউট বেইরস্টো। সে সময় তাসকিনকে বেছে নেয়ার কারনটা জানালেন মাশরাফি নিজেই, “মোসাদ্দেক বা সাব্বিরকে দিয়ে চেষ্টা করার অপশন ছিল। কিন্তু আমরা তাসকিনকেই বেছে নেই। সে আমাদের মেইন বোলার। তার বলে পেস আছে। উইকেট এনে দিতে পারে। আমাদের সৌভাগ্য যে সে তিনটা উইকেট পেয়েছে।”
     

    কী ছিল সেই জাদুমন্ত্র, যা দিয়ে দ্বিতীয় স্পেলে অমন বদলে গেলেন তাসকিন? মাশরাফি মনে করেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের চমকে দিয়েছে গতি, “ওই স্পেলটা করার সময় তাসকিন অনেক ছন্দে  ছিল। অনেক জোরে বল করেছে। ওই সময় উইকেট না পেলে হয়তো ম্যাচটা জেতা হতো না।” শুধু তাসকিনের গতির অনুরক্ত নন, অধিনায়ক মাশরাফির কাছে তরুণ পেসারের আসন আরো উঁচুতে, “বড় বোলাররা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাসকিনের স্পেলটাকে আমি ওই দৃষ্টিতে দেখবো।”

    পাতাল দেবতার কব্জা থেকে মুক্তি নিয়ে নিমেষে স্বর্গশীর্ষে পৌঁছে গেছেন তাসকিন আহমেদ। কনুই বাঁকানোর জটিল ধাঁধায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী তরুণ। সেখান থেকে ফেরাটা সহজ নয়। ফিরলেও বোলিংয়ে আগের সেই ধার ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই। তাসকিন পেরেছেন। যে আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, সেটাতেই নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৭ উইকেট। গতকালের ম্যাচেও বোলিং করেছেন বড় বোলারের মতোই। যাতে মুগ্ধ অধিনায়ক নিজেই।

     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন