• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান
  • " />

     

    অশ্বিন জাদুতে গদা ভারতের

    দিনের মাত্র ২ বল বাকি। দরকার এক উইকেট। এই একটা উইকেটের জন্য কি কাল আবারো মাঠে নামতে হবে? হোলকার স্টেডিয়ামের ২০ হাজার দর্শককে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখেননি রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১ বল বাকি থাকতেই বোল্টকে আউট করে পুরো স্টেডিয়ামকে আনন্দে ভাসান। তাঁর জাদুকরি স্পিনে ৩২১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। ৩ ম্যাচের সিরিজে ধবলধোলাইয়ের লজ্জাও পেতে হয়েছে কেন উইলিয়ামসনের দলকে । দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন অশ্বিন, সিরিজ সেরার পুরষ্কারটাও গেছে তাঁর কাছেই।

    নিউজিল্যান্ডকে ফলো-অন না করিয়ে গতকাল ব্যাট করতে নামে ভারত। গম্ভীর কাঁধে চোট পেয়ে ফিরে গেলে পূজারা-বিজয় ১৮ রান তুলে ৩য় দিনের খেলার শেষ করেন। আজ সকালে শুরুতেই বিজয়কে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়। ক্রিজে ফেরত আসেন গম্ভীর। নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে জিতান প্যাটেলের বলে আউট হন। বিরাট কোহলিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান প্যাটেলের বলেই এলবিডব্লিউ হন, যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি হতে পারেননি। পূজারা-রাহানে জুটি দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকে। পূজারা নিজের ৮ম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার সাথে সাথেই ২১৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন কোহলি। কিউইদের লক্ষ্য দাড়ায় ৪৭৫ রান।

    জয়ের আশা হয়ত কেউ করছিলেন না। তবে কিউই ব্যাটসম্যানরা একেবারেই প্রতিরোধ গড়তে পারবেন না, তা হয়ত কেউ ভাবেননি। টম লাথামকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন উমেশ জাদব।  চা বিরতির পর শুরু অশ্বিনের ঘূর্ণিজাদু। সিরিজের চতুর্থবারের মতো কেন উলিয়ামসনকে সাজঘরে ফেরান, টেইলর, রঙ্কিও  বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়াটলিং-স্যান্টনার জুটি একটু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল বটে, কিন্তু আবারো সেই অশ্বিনের আঘাতেই ভাঙ্গে জুটি। ক্যারিয়ারের ২১ তম ৫ উইকেট শিকার করে একাই ধসিয়ে দেন কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। ৪৪ ওভার ৫ বলে মাত্র ১৫৩ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। 

    ম্যাচে ১৪০ রানে ১৩ উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন। এই নিয়ে ৬ ষ্ঠ বারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন। সপ্তমবারের মতো ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়েছেন। ম্যান অফ দা সিরিজের সংখ্যাটাও সাত। টানা ৪ সিরিজেই সেরা হলেন।

    পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কোহলির হাতে গদা তুলে দিলেন সুনীল গাভাস্কার। তাঁর নেতৃত্বে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। ঘরে কিংবা বাহিরে, দুই জায়গাতেই দারুণ খেলছে দল। কতদিন এই গদা ধরে রাখতে পারেন কোহলি, এটাই দেখার বিষয়।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন