• " />

     

    সেদিনের এই দিনেঃ ভিভ রিচার্ডসের দানবীয় ব্যাটিংয়ে হলো 'ইতিহাস'

    সেদিনের এই দিনেঃ ভিভ রিচার্ডসের দানবীয় ব্যাটিংয়ে হলো 'ইতিহাস'    

    অন্য দিনগুলোর মতো সেদিনও হয়তো চুইঙ্গাম চিবুতে চিবুতেই অ্যান্টিগার সেন্ট জোনস মাঠে নেমেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ভিভ রিচার্সস অনেকটা ধীরস্থিরভাবেই শুরু করলেন ব্যাটিং। তখনও হয়তো ইংলিশ অধিনায়ক ডেভিড গাওয়ার ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, তাঁর দলের বোলারদের জন্য কী দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করছে! ইয়ান বোথাম, জেমস নিল ফস্টারদের রীতিমতো ‘তুলোধুনো’ করে ভিভ গড়লেন ‘ইতিহাস’। ১৯৮৬ সালের আজকের দিনেই মাত্র ৫৬ বলেই সেঞ্চুরি করে হয়ে গেলেন তখনকার দিনের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক।

     

    সেদিন চা বিরতির ২৮ মিনিট আগে ক্রিজে নেমেছিলেন ভিভ। বিরতির আগেই তুলে নিলেন ২৮ রান, রিচার্ড এলিসন ও জন এম্বুরের বলে মারলেন বিশাল দুই ছয়। চা বিরতির পর ভিভ যেন হয়ে উঠলেন ইংলিশ বোলারদের জন্য রীতিমত ‘আতংকের প্রতিমূর্তি’! বোথামের বলে তাঁরই মাথার একটু ওপর দিয়ে সোজাসুজিভাবে ছয় মেরে বুঝিয়ে দিলেন, দিনটা শুধুই তাঁর। পুরো ইনিংসে মেরেছেন সাতটি ছয়, যার মাঝে ছিল এম্বুরের বলে এক হাতে মারা সেই ছয়টিও।

     

     

    শুধু কী তাই? এদিন বাহারি শটের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ভিভ। একটা বল তো গিয়ে পড়েছিল স্টেডিয়ামের বাইরের জেলখানায়! একের পর এক বোলিংয়ে পরিবর্তন এনেও কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না, বাউন্ডারি থেকে বল কুড়িয়ে আনতে আনতে হয়রান ছিলেন সকলেই। ৩৫ বলে তুলে নিলেন ফিফটি। তখনো হয়তো কেউ ভাবেননি সেদিন কী হতে যাচ্ছে।

     

    অবিশ্বাস্য, অতিমানবীয়, জাদুকরি; সব বিশেষণও এরপর কম পড়ে গেলো। ৫৬তম বলে চার মেরেই পূর্ণ করলেন সেঞ্চুরি। রচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। ঘরের মাঠের কয়েক হাজার দর্শক তুমুল করতালিতে সম্ভাষণ জানাল 'মাস্টার ব্লাস্টার'কে। ৫৮ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়লেন। ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে জয়ী হল ক্যারিবিয়রা। ৫ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে হারলো ইংলিশরা, সেটার নাম দেওয়া হলো ‘ব্ল্যাকওয়াশ’।

     

     

    ভিভের এই কীর্তি স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ২৮ বছর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুবাইতে ৫৬ বলে সেঞ্চুরি করে সেখানে ভাগ বসান পাকিস্তানের মিসবাহ উল হক। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের বিদায়ী টেস্টে ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে ভিভ ও মিসবাহর রেকর্ড ভাঙেন কিউই অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।