• বুন্দেসলিগা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    শেষের বাঁশিতে শুরুর ইতিহাস

    বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কারণে সপ্তাহখানেক বিরতির পর আবারো মাঠে নামছে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো। আর এই সপ্তাহে বুন্দেসলিগায় হয়ে যাচ্ছে অন্য একটা ইতিহাস। রবিবার হার্থা বার্লিন বনাম ওয়ের্ডার ব্রেমেনের মধ্যকার ম্যাচে রেফারি থাকবেন বিবিয়ানা স্টাইনহাউজ; পুরুষদের ফুটবলের ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে এবারই প্রথম কোনো প্রমীলা রেফারিকে মাঠে দেখবে বিশ্ব।

     

    ফুটবলের সাথে স্টাইনহাউজের সম্পর্কটা নাড়িতেই পোঁতা। ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারির বাবাও ছিলেন একজন ফুটবলার। বাবার দেখাদেখি একজন ফুটবলার হিসেবেই জার্মান ক্লাব এসভি ব্যাড লটারবার্গে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। তবে মেয়েদের ফুটবলে রেফারিং দিয়েই মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন স্টাইনহাউজ, হাতেখড়িটা হয় স্বদেশেই। ১৯৯৯ সাল থেকে ‘ফ্রন বুন্দেসলিগা’ বা মেয়েদের জার্মান লিগে রেফারিং শুরু করেন ‘বিবি’। ২০০৩ সালে প্রমীলা জার্মান কাপের রেফারিও ছিলেন তিনি। ২০০৮ এবং ২০১০-এ মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ইউরো ’০৯-এরও রেফারি ছিলেন স্টাইনহাউজ। ২০১১ সালে নারীদের বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ’১২-এর অলিম্পিক্সের ফাইনালেও রেফারি ছিলেন তিনি।

     

    বিশ্বকাপ ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রমীলা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়াটাই বাকি ছিল স্টাইনহাউজের। চলতি বছরের পহেলা জুনে লিওঁ এবং পিএসজির মধ্যকার ইউসিএল ফাইনালের দায়িত্ব পেয়ে হয়ে যায় সেটাও। স্টাইনহাউজের রেফারিং পারদর্শীতার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলে জার্মান ফেডারেশন। সেই সূত্র ধরেই গত মৌসুমের শেষদিকে ঘোষণা আসে, ১৭-১৮ মৌসুম থেকে পুরুষদের বুন্দেসলিগায় দায়িত্ব পালন করবেন ‘বিবি’।

    এই ঘোষণার পর স্বভাবতই আনন্দে আত্মহারাই ছিলেন স্টাইনহাউজ। সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “দ্বিতীয় বিভাগে দায়িত্ব পালন করলেও কখনো ভাবিনি আমি বুন্দেসলিগায়ও দায়িত্ব পাবো। এটা আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় আমি অনেক খুশি। আশা করি, ফেডারেশনের আস্থার প্রতিদান দিতে পারবো”। স্টাইনহাউজের এমন অর্জনের পর তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জার্মান ফুটবলার ইলকে গুন্ডোগান, লিরয় সানেরা। টুইটারে স্টাইনহাউজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কিংবদন্তী অলিভার কানও। বুন্দেসলিগার প্রথম প্রমীলা রেফারি হলেও পুরুষদের জার্মান দ্বিতীয় বিভাগে প্রায় বছর দশেক রেফারিং করেছেন স্টাইনহাউজ। সেই সাথে এই মৌসুমেই জার্মান কাপের প্রথম রাউন্ডে চেমনিৎজার এফসির বিপক্ষে আঞ্চেলত্তির বায়ার্নের ম্যাচেও রেফারিং করেছেন তিনি।

     

    পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি স্টাইনহাউজের প্রণয়ের জীবনেও মিশে আছে রেফারিং। স্টাইনহাউজের জীবনসঙ্গী হাওয়ার্ড ওয়েব পুরুষদের ফুটবলের অন্যতম স্বনামধন্য একজন রেফারি। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারিও ছিলেন তিনি। অর্ধাঙ্গীর এমন অর্জনে অত্যন্ত খুশি অবসরপ্রাপ্ত ওয়েব। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে উৎসাহ, অনুপ্রেরণার মূল উৎসও ছিলেন ওয়েব- এমনটা জানিয়েছেন  স্টাইনহাউজই। 

     

    রেফারিংয়ের পাশাপাশি বিবিয়ানা স্টাইনহাউজ পেশায় একজন পুলিশ অফিসারও। সে কারণেই হয়তো ম্যাচে নিয়ন্ত্রন রাখতে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হননা তিনি। ২০১৫ সালে বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় বিভাগের এক ম্যাচে ফরচুনা ডুসেলডর্ফের কেরেম ডেমিরবাইকে লাল কার্ড দেখান স্টাইনহাউজ। ‘ছেলেদের ফুটবলে মেয়েদের স্থান নেই’- ডেমিরবাইয়ের এমন কটূক্তির পরও মেজাজ হারাননি তিনি। ওদিকে চলতি বছরে বায়ার্নের ম্যাচে ফ্রিকিক নেওয়ার সময় ঠাট্টাচ্ছলে স্টাইনহাউজের বুটের ফিতা খুলে দেন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। অবশ্য কার্ড না দেখিয়ে ঐ কাহিনী হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন স্টাইনহাউজ। এরপর থেকেই মূলত পুরুষ ফুটবলারদের কাছে প্রমীলা রেফারিদের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সবার প্রিয় ‘বিবি’ কি পারবেন লিঙ্গ বৈষম্যের এই বাধা টপকে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে? উত্তরটা সময়ই বলে দেবে...

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন