• " />

     

    ‘লিটন’ ফুলটি ফুটুকঃ আজ অথবা কাল!

    লিটন দাসের খেলা বড় পরিসরে প্রথম দেখি দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে (অন্য নাম ‘বড় মাঠ’)। তারও আগেই নাম শুনেছিলাম অনেক। লিটন তখন অনূর্ধ্ব-১৫ বা অনূর্ধ্ব-১৪ এ খেলেন। ‘মুক্তা স্মৃতি টুর্নামেন্ট’ নামে বয়সভিত্তিক এক টুর্নামেন্টের খেলা। 'প্রচেষ্টা ক্রীড়া চক্র' নামে একটা ক্লাবের হয়ে খেলেন তখন। লিটনের ক্রিকেট পাঠের অনেক অংশ জুড়েই আছে সে ক্লাব। দলকে ফাইনালে তুললেন। কিন্তু ফাইনাল খেলা হলো না। কদিন পরেই কোন এক ট্যুর, লিটন তখন বিকেএসপির ক্যাম্পে। কোচ স্থানীয় ক্রিকেটে খেলতে দেবেন না।

     

     

    লিটন খেললেন না। দিনাজপুরের এক কিশোর থেকে দেশের সম্পদ হয়ে ওঠা শুরু করেছেন যে ততদিনে! প্রচেষ্টা ক্রীড়া চক্রের থেকেও দায়বদ্ধতা তখন বেশি দেশের জন্য।

    ঠিক কত সালের ঘটনা, নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না এখন। ঘটনার মূলসুর একই থাকলেও এদিক-ওদিক হতে পারে একটু।

    তবে হলফ করে বলতে পারি ক'দিন আগের ঘটনা।

    বিশ্বকাপ চলছে। এক পত্রিকায় খন্ডকালীন কাজ করি তখন। রংপুর তখন জাতীয় লীগের শিরোপার দ্বারপ্রান্তে। মাত্র চতুর্থবারের মতো খেলতে এসেই চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা হাতছোঁয়া দূরত্বে! শেষদিনে রংপুরের দরকার ছিল দশ উইকেট। জিততেই হতো। সে ম্যাচের খোঁজ খবর রাখছেন এক ভাই। নয় উইকেট পড়ার পর জয় যখন সময়ের অপেক্ষা, তখনোই জমে গেল শেষ উইকেট জুটি। আমি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছি, পায়চারি করছি। পানি খাচ্ছি। জিজ্ঞাসা করছি স্কোর (নিজে ইন্টারনেটে দেখছিনা!)। এত কাছে এসেও আটকে যেতে হবে! বৃথা যাবে লিটনের এত এত রান! দীপের (সনজিত সাহা, বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার) অভিষেক টুর্নামেন্টেই শিরোপা পাওয়া হবে না! ধীমান ঘোষের আক্ষেপভরা ক্যারিয়ারেও কি জুটবে না একটু পুরস্কার!

    রংপুর বিভাগীয় দলে তো আরও খেলোয়াড় আছেন। তাহলে কেন শুধু এই তিনজনকে নিয়ে চিন্তা! অথবা কেন রংপুরকে নিয়েই চিন্তা! প্রশ্ন আসতেই পারে। উত্তরও বুঝে যাওয়ার কথা। আর কী, আঞ্চলিকতার টান! লিটন-দীপ যে ঘরের ছেলে!

    ঠিক চার মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচ জিতলো রংপুর। মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আর মুখভঙ্গি, দুটোই প্রকাশ করছিল একটাই শব্দ, ‘ইয়েস!’ গর্ব করে অফিসের বাকিদের বললাম, লিটন আমার এলাকার। মনে মনে অবশ্য আফসোস ছিল কিঞ্চিত। সেটি অবশ্য বিচিত্র মানবমনের পরিচয়! দীপ (সনজিত) আমার স্কুলে পড়লেও লিটন যে পড়েননি! তবে লিটনকে নিয়ে গর্বে তাতে খেদ পড়েনি। যেমন লিটন খেদ রাখেননি সেই জাতীয় লীগে রান করতে।

    টুর্নামেন্ট জুড়েই তো লিটন কুমার দাসকে নিয়ে ছিল মাতামাতি! টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান (১০২৪), সেঞ্চুরি (৫টি) তাঁর। ৭ ম্যাচে ৮৫.৩৩ গড়ে করেছিলেন এ রান। রান, সেঞ্চুরি সংখ্যা- দুটিই ছিল রেকর্ড। এর আগে প্রিমিয়ার লীগেরও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল তাঁর (১৬ ম্যাচে ৪২.৮৭ গড়ে ৬৮৬ রান)। প্রথম নজরে আসেন ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। ৬ ম্যাচে করেছিলেন ৫২.৪০ গড়ে ২৬২ রান। এনামুল হকের আলোতেও ছিলেন আপন আলোয় ভাস্বর! ব্যাটসম্যান লিটন দিনে দিনে ছাড়িয়ে গেছেন নিজের উইকেটকিপিং সত্ত্বাকেও!

    জাতীয় লীগের পর থেকেই লিটনের দলে আসার আশা! বিশ্বকাপে এনামুল হকের বদলি হিসেবেও নাকি তাঁকে চাচ্ছিলেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত গিয়েছেন ইমরুল। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজেও রনি তালুকদারের সঙ্গে দৌড়ে ছিলেন। রনিকেই ডেকেছেন নির্বাচকরা। টি-টোয়েন্টিতে ডাক পেলেন এবার লিটন।

    লিটন আজ খেলুন, নাইবা খেলুন। জাতীয় দলের হয়ে একদিন মাঠে নামবেন নিশ্চয়ই। আরো পরিণত হয়ে। ব্যাটটা আরও ‘চওড়া’ করে। বয়স তো মাত্র বিশ! নামবেন, আলো ছড়াবেন। লিটন দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের গন্ডি পেরিয়েছেন সেই কবে। দেশের গন্ডি পেরোবেন একদিন। হবেন বিশ্বসেরাদের একজন। আমার মতো দিনাজপুরের কেউ নয় শুধু, লিটনকে নিয়ে গর্ব করবে গোটা বাংলাদেশ।

    আশা করতে দোষ কী!      

    সেই আশাপূরণের অপেক্ষাও তো মধুর!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন