• " />

     

    জার্মানিতে ক্রিকেট বিপ্লব

    বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ক্রিকেট ক্লাব খুলে বসলে অবাক হবেন না! ফুটবল পাগল জার্মানিতে যে গতিতে ছড়িয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট, আপনার প্রিয় ক্লাবটিও সে উৎসবে শামিল হলে চোখ কচলানোর জো থাকবে না। জার্মান মুলুকের প্রতিটি শহর-উপশহরে দেদার খেলা হচ্ছে ক্রিকেট, উঠোন থেকে শুরু করে দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠগুলোতে লড়াই চলছে ব্যাট-বলের। এই উৎসবের আলো চোখে পড়েছে এক চলচ্চিত্রসংস্থার। ক্রিকেটের বাড়ন্ত জনপ্রিয়তা নিয়ে ‘রাইটস অব প্যাসেজ’ নামের সিনেমা বানানোর কাজ শুরু করেছে তাঁরা। সহজ বাংলায় যেটাকে বলা যেতে পারে ‘পালাবদল’।

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও আফ্রোএশিয়ার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ঘণীভূত হয়েছে ইউরোপের শরণার্থী সংকট। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দিয়ে লাখো মানুষ আশ্রয় খুঁজেছেন সমৃদ্ধ ইউরোপে। তাঁদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে জার্মানি। গত বছর ৮ লাখ ৯০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে জার্মানি।যাঁদের ৪০ হাজারই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মানুষ। জার্মানিতে ক্রিকেট জাগরণের পেছনে আছেন এই ভাগ্যহত মানুষগুলোই।

    খোদ জার্মান ক্রিকেট ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ম্যান্টল মুগ্ধ ক্রিকেটের এই উত্থানে, “এই গ্রীষ্মটা ছিল অবিশ্বাস্য! আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে সাফল্য পেয়েছি এবং স্পন্সরদেরও আকর্ষণ করেছি।” ক্রিকেট যে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে জার্মানিতে সেটারই সাক্ষ্য দিল তাঁর পরের কথাটা, “জার্মানির যেকোন একটা এলাকার নাম বলুন। সেখানে হয় এখন ক্রিকেট ক্লাব আছে কিংবা হতে যাচ্ছে।” জার্মানির ক্রিকেট প্রেম বোঝাতে নির্মীয়মান চলচ্চিত্রটিরও প্রসঙ্গ টেনেছেন এই ক্রিকেট কর্তা, “এটা দারুণ ব্যাপার। শীঘ্রই আমরা একটি চলচ্চিত্র দেখতে যাচ্ছি জার্মান ক্রিকেট ও আফগান শরণার্থীদের ওপর তার প্রভাব নিয়ে।”

    গত বছর শরণার্থীরা আসার আগে জার্মানিতে ৭০টি ক্লাবে প্রায় দেড় হাজার ক্রিকেটার খেলছিলেন। এক বছরের মধ্যেই ক্রিকেটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার। ক্লাবের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১০৮। এর কারণ নাকি শরণার্থীরা জার্মানিতে এসেই একে-ওকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন, “এখানে ক্রিকেট খেলা যায় কোথায়?”

    অনুমিতভাবে জার্মানির জাতীয় দলেও ছড়াছড়ি দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের। তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানে শেকড় থাকলেও যূথবদ্ধ হয়ে জার্মানিকে সাফল্য এনে দিয়েছেন তাঁরা। আইসিসির ডিভিশন টু থেকে ডিভিশন ওয়ানে উন্নীত হয়েছে জার্মানি। ব্রায়ান ম্যান্টল জানিয়েছেন তাঁদের লক্ষ্য আরো সুদূরে, “আগামী বছরের লক্ষ্য হলো ডিভিশন ওয়ান থেকে প্রমোশন পাওয়া। তাহলে আমরা বিশ্ব ক্রিকেট লিগে খেলতে পারব।”

    জার্মানিতে ক্রিকেটের জয়জয়কার দেখে রূপালি পর্দায় তা ফুটিয়ে তুলতে আগ্রহী হয়েছে লন্ডনভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র সংস্থা। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখছেন ও’নিল শর্মা যিনি এর আগে কাজ করেছেন ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ ও ‘ভালকাইরি’র মতো সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে।তিনি বলেছেন গল্পটা হতে পারে সহনশীলতার সূত্র, “শরনার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এটা হলো এমন একটা গল্প যেখানে বিভিন্ন  সংস্কৃতির মধ্যে মিলন হচ্ছে খেলার মাধ্যমে।”

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন