bracket bracket
bracket bracket
  • ক্রিকেট

হারিয়ে যাওয়া 'ডিবলি-ডবলি'রা...

১৯৩৬ সালে হোবার্ট চিড়িয়াখানায় মৃত্যু হয় বেঞ্জামিনের। তাসমানিয়ান বাঘ বা থাইলাসিনের শেষ স্বীকৃত নমুনা ছিল সে। এরপর তাদের বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। হাজার হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বাস ছিল এই শিকারী প্রাণীদের। সেই তারাই মানব বসতির ক্রমাগত চাপে কোণঠাসা হতে হতে গিয়ে একসময় ‘আবদ্ধ’ হয়ে পড়েছিল তাসমানিয়ার দ্বীপে। শিকারের আশায় এরপর কৃষকদের ভেড়ার পালে হানা দিতে হতো তাদের। উলটো তারাই বনে যেত মানুষের শিকার। ক্যাঙ্গারুর মতো থলে-ওয়ালা এদের প্রজাতিটা আবার ছিল কুকুরের মতো। এদের করোটির সঙ্গে আবার মিল আছে ‘গ্রে ওলফ’ আর ‘রেড ফক্স’-এর। বিবর্তনের এ এক অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী উদাহরণ। 

তবে শিকার করা না হলেও থাইলাসিনদের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়তো বলেই মত বিজ্ঞানীদের। তাদের জিনগত বৈচিত্র ছিল বেশ সীমিত। তবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে দেখতে পাওয়ার অন্তত হাজার চারেক রিপোর্ট পাওয়া গেছে নানাভাবে। অবশ্য বিজ্ঞানীরা সেসব মানেননি। এখনও খাতা-কলমে তাই থাইলাসিন বিলুপ্ত এক প্রজাতি। 

তবে খুব সম্প্রতি মেলবোর্নের একদল বিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রিউ পাস্কের নেতৃত্বে এই থাইলাসিনের ক্লোন বানানোর খুব কাছে চলে গেছেন। মানে বেঞ্জামিনের মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর, আবার দেখা যেতে পারে তার মতোই কাউকে।  


****

১৯৯২ বিশ্বকাপ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। নিউজিল্যান্ডে তখন ধীরগতির নিচু সব উইকেট। তার ওপর রিচার্ড হ্যাডলিদের অবসর ফাস্ট বোলিংয়ে তৈরি করেছে শূন্যতা। সম্বল বলতে মিডিয়াম পেসাররা। উইলি ওয়াটসন ছিলেন, তবে ঠিক এক্সপ্রেস গতির নয়। তার সঙ্গে ওপেনিং বোলিংয়ে আসতেন স্পিনার দীপক প্যাটেল। মাঝের ওভারগুলোতে ছিলেন গেভিন লারসেন ও ক্রিস হ্যারিস। সঙ্গে রড ল্যাথাম। 

লারসেন-হ্যারিস-ওয়াটসন-ল্যাথাম, তারা যেন আশির দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস চতুষ্টয়ের অপভ্রংশ। নিরীহ গোছের, তবে তাদেরকে মারা শক্ত। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচে এক ধারাভাষ্যকার চারজনের নাম দিলেন, ‘ডিবলি-ডবলি-উইবলি-ওবলি’। তবে কে কোনজন, সেটা অবশ্য নিশ্চিত নয়। ওয়াটসনকে তার ভক্তরা উইবলি নামে চিনতেন, আর শারীরিক গঠনের কারণে ল্যাথাম হতে পারেন ওবলি। ডিবলি-ডবলির একজন লারসেন, অন্যজন হ্যারিস। 

ওয়াটসন-ল্যাথামের ক্যারিয়ার তখন সায়াহ্নে, তবে নিউজিল্যান্ড দলে টিকে গেলেন লারসেন-হ্যারিস। হয়ে উঠলেন ‘ডিবলি-ডবলি’র প্রতিশব্দ। হয়ে উঠলেন বোলারদের জনপ্রিয় এক প্রজাতি। 

 

 

ঘন্টায় ১২০-৩০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতেন শর্ট অব আ লেংথে, অফস্টাম্প ঘেঁষা লাইনে। তাদের এই কম গতিই তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধার বিষয়। ছোটখাট কাটার, হালকা সুইং, স্লোয়ারে ভরসা করা সেইসব বোলারদের বিপক্ষে বড় শট খেলার ঝুঁকি নিতে চাইতেন না ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়কদের জন্যও ফিল্ড-সেটিংয়ে সুবিধা করে দিতে পারতেন তারা, নিখুঁত লাইন লেংথের কারণে। মূলত তারা আসতেন ৩০ গজের বৃত্তের বাইরের ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা শেষ হলেই, মানে প্রথম ১৫ ওভারের পর। আর ৪০ ওভারের আগে। যখন ওয়ানডে ম্যাচ ছিল বাংলা সিনেমার মতো। প্রথমে রোমাঞ্চ, মাঝে একঘেয়ে সব কাহিনী, সংগ্রাম, গান, নাচ (অন্তত আমাদের মতো দর্শকদের কাছে বাংলা সিনেমা ছিল এমনই), এরপর শেষে গিয়ে মারামারি। এই ওয়ানডে সিনেমার মাঝের সময়টার কলাকুশলী ছিলেন ডিবলি-ডবলিরা। ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে ৫ জন ফিল্ডার থাকবেন তখন, সাধারণত পয়েন্ট, ডিপ এক্সট্রা কাভার, লং-অফ, লং-অন আর স্কয়ার লেগ। তারা রান আটকাবেন। 

নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক ওয়ানডে দলেই অন্তত একজন করে এমন বোলার থাকতেন। কোনো কোনো দলে ছিলেন একাধিক। এরা হাবভাবে ছিলেন মিডিয়াম পেসার, তবে তাদের মস্তিস্ক ছিল স্পিনারদের মতই। যেমন থাইলাসিনরা একই সঙ্গে ক্যাঙ্গারু আর নেকড়ে বা কুকুরের মিশেল। 

 

ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল হারের পর কান্না চেপে রাখছেন গারসেনরা...
 

১৯৯৯ বিশ্বকাপে এক পাকিস্তান ছাড়া প্রায় প্রত্যেক দলেই ছিলেন অন্তত এমন একজন। শুধু ছিলেন না, পারফরম্যান্সও ছিল বলার মতো। পুরো টুর্নামেন্টে লারসেনের ইকোনমি রেট ছিল ৩.৪৬। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে কম ইকোনমি ছিল শুধু একজন বোলারের। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এক ম্যাচে ১০ ওভারে লারসেন দিয়েছিলেন ২৬ রান। একই রকম ছিলেন হ্যারিস, সঙ্গে থাকতেন ন্যাথান অ্যাস্টলও। 

অস্ট্রেলিয়ার টম মুডির ইকোনমি রেট ছিল ৪.৩৫। ভারতের ছিলেন রবিন সিং, ৩৫ বছর বয়সী বোলার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নিয়েছিলেন ৩১ রানে ৫ উইকেট। ইংল্যান্ডের মার্ক এলহামও ছিলেন দারুণ, ম্যাচপ্রতি গড়ে নিয়েছিলেন ২টি করে উইকেট। জিম্বাবুয়ের নিল জনসন নিয়েছিলেন ১২টি উইকেট, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয়ের ম্যাচে ২৭ রানে ৩টি। সঙ্গে ছিলেন গাই হুইটাল। 

 

 

এসব বোলারদের দলে নেওয়ার আবার একটা সুবিধাও ছিল। প্রায় সবাই ছিলেন ‘মিনি’ অলরাউন্ডার, দলেও জায়গা পেতেন মূলত ব্যাটিংয়ের কারণেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্স ৩.৫ এর নিচে ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন সেবার, হ্যানসি ক্রনিয়ের উইকেট টু উইকেট বোলিং ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার টিকে থাকার পাথেয়। সৌরভ গাঙ্গুলির বোলিং বিদায় করে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। 

ইংল্যান্ডের মাটিতে সেই বিশ্বকাপের পর হয়েছে আরও চারটি। সেই ইংল্যান্ডেই ২০১৯ সালে হবে আরেকটা বিশ্বকাপ। তবে এরও অনেক আগেই আসলে মৃত্যু ঘটেছে ডিবলি-ডবলারদের। সবচেয়ে সফল ক্রিস হ্যারিস তার শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০০৪ সালে। 

ডিবলি-ডবলি নামের প্রজাতিটা তাই এখন কার্যত বিলুপ্তই। 


****

ডিবলি-ডবলাররা আসলে কিসের শিকার হয়ে হারিয়ে গেল? 

১৯৯৯ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের চার মিডিয়াম পেসারের একজন অ্যাডাম হোলিওয়াকের বিশ্বাস, মূল কারণ অধিক ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন। ২০০৫ সাল থেকে চালু হয়েছিল তিনটি করে পাওয়ারপ্লে, একটা সাধারণ ১০ ওভারের, ৫ ওভার করে একটা ব্যাটিং ও একটা বোলিং। এই বাড়তি ৫ ওভার মূলত আঘাত করেছে ডিবলি-ডবলারদের। তাদের লাইন-লেংথ ঠিক রেখে করা বোলিং কার্যকরী হওয়ার মূল শর্তই হলো, ঠিক জায়গায় বৃত্তের বাইরে থাকতে হবে ফিল্ডার। 

২০১২ সালে একটা পাওয়ারপ্লে কমিয়ে আনা হলো। তবে সেটার সঙ্গে যেটা করা হলো, তা যেন মূলে গিয়ে আঘাত করলো ডিবলি-ডবলি বোলারদের । পাওয়ারপ্লে ছাড়া সাধারণ ওভারগুলোতে বৃত্তের বাইরে পাঁচজনের জায়গায় সর্বোচ্চ ফিল্ডারের সংখ্যা দেওয়া হলো চার। ২০১৫ সাল থেকে এ নিয়মটা শিথিল করে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন শেষ ১০ ওভারে ৫ জন ফিল্ডার বাইরে থাকতে পারবেন, তবে সাধারণ ওভারগুলোতে ওই চারজনই থাকবেন। এখন তাই আর প্রথম ১৫ ওভারে রান তুলে পরের ২৫ ওভার দেখেশুনে শেষ ১০ ওভারে স্লগ করার অলিখিত নিয়মটা নেই। 

‘বৃত্তের বাইরে পাঁচজন থাকলে আপনি এমন জায়গাতে বল করবেন, যাতে সবচেয়ে বেশি ফিল্ডার যেখানে আছে, ব্যাটসম্যানরা সেখানেই মারতে বাধ্য হয়। তবে একজন কম ফিল্ডার থাকার অর্থ, আপনি আসলে এমন বোলিং নিয়ে টিকে থাকতে পারবেন না’, হোলিওয়াকের কথায় বাস্তবতার সুর। 

 

দ্য রং ফুটেড হ্যারিস

 

ডিবলি-ডবলারদের হারিয়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ, দুই দিক থেকে দুইটি নতুন বলের নিয়ম। ২০১২ সাল থেকে চালু হয়েছে এটা, তার মানে এক বল দিয়ে এখন খেলা হয় এখন সর্বোচ্চ ২৫ ওভার করে। বল পুরোনো হয় কম, নরমও হয় না সেভাবে। অথচ এমন পুরোনো, নরম বলই ছিল ডিবলি-ডবলারদের প্রধান হাতিয়ার। 

এরপর আছে পিচের পরিবর্তন। এবং সেটা অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে ডিবলি-ডবলারদের সূতিকাগার নিউজিল্যান্ডে। গত কয়েক বছরে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া উইকেটে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সেই নীচু ধীরগতির উইকেট হারিয়ে গেছে, এখন সব বাউন্সি উইকেট। সেখানে টিকে থাকতে হলে তাই প্রয়োজন গতি, আর নাহয় স্পিন বোলিং। একটা নতুন ধরনের ডিবলি-ডবলি আসতে শুরু করেছিল, যারা পিচের ওপর অনেক নির্ভর করতেন। তবে মূল ডিবলি-ডবলাররা ধীরগতির নীচু উইকেটে সিম-সুইংয়ে টিকে থাকার উপায় বের করেছিলেন। নতুন ডিবলি-ডবলিরা টেকেনি তাই। 

‘উইকেটগুলো আসলে অনেক উন্নত হয়ে গেছে এখন। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট দেখলেই বুঝা যায়। ১২৫-১৩০ কিলোমিটার গতির বোলাররা এসে শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলতেন, বাকি কাজটা পিচই করে দিত আগে। এটা মনে হয় একটা ত্রুটিই ছিল ক্রিকেট কাঠামোতে। এখনকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ডিবলি-ডবলি বোলাররা ঠিক বছর দশেক আগের মতো করে সাফল্য পায় না। এটা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্যই ভাল, বোলারদেরকে উইকেট নিতে এখন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়’, নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান রস টেলরের এসব কথারও প্রায় ৯ বছর বয়স হয়ে গেল। 

 

 

সঙ্গে আছে ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরনে পরিবর্তনও। এখন ৩৬০ ডিগ্রি স্টাইলে খেলতে চান একেকজন, প্রায় সবদিকেই তাই শট খেলার ফন্দি থাকে তাদের। অফস্টাম্প ঘেঁষা লাইনের বলকে নিজের পছন্দমতো জায়গায় খেলতে ব্যাটসম্যান তাই শাফল করে অফস্টাম্পে সরে যাবেন, খেলবেন লেগসাইডে। অথবা, খুব সহজ করে মারবেন ছয়। ডিবলি-ডবলাররা যখন পেখম মেলেছিলেন, তখন ব্যাটসম্যানরা সুইচ হিট খেলতেন না, স্কুপ করতেন না, রিভার্স সুইপে এতো মনোযোগ ছিল না। রিভার্স স্কুপ তো তখন এলিয়েনদের কান্ডকারখানা। ব্যাটসম্যানই যখন এত কিছু করছেন, বোলারদের তাই এখন করতে হয় অনেক কিছু। পুরো উলটো ছিলেন ডিবলি-ডবলাররা, তাদের কাজকারবার ছিল অনুমেয়, কোন লাইনে কোন লেংথে বল করবেন, সেটা তো জানতেনই ব্যাটসমানরা। 

 

ডিবলি-ডবলারদের কাছে ব্যাটসম্যানদের এমন কান্ডকারখানা অবিশ্বাস্য..

 

ডিবলি-ডবলারদের বলে উইকেটকিপার সাধারণত আগে এসে দাঁড়াতেন। ব্যাটসম্যানও উইকেট ছেড়ে যেতে ভয় পেতেন, কিছু শট তাই বাদ দিতে হতো তাদের। তবে ইংলিশ উইকেটকিপার ক্রিস রিডের মতে, ব্যাটসম্যানদের এ মানসিকতা বদলেছে। তাদেরকে আসলে এখন সামনে এগিয়ে আটকিয়ে রাখা যায় না, লেংথ মেরে ব্যাটিং করতে তারা এখন যেভাবেই হোক ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে যাবেনই। 

টেইল-এন্ডারদের ব্যাটিংয়েরও প্রভাব আছে একটা। এখন কমবেশি সবাই ব্যাটিংয়ের দিকেও মনোযোগ দেন যথেষ্ট, আলাদা করে তাই বোলিং আর ব্যাটিংয়ে মোটামুটি ধরনের ক্রিকেটাদের জায়গা হয় না স্কোয়াডে। পার্ট টাইমার বোলাররাও তাই এখন প্রায়ই হন স্পিনারই। 

 

 

‘আমার মনে হয় জীবনে আরও অনেক কিছুর মতো সময়ও বদলায়। নতুন জিনিস তৈরী হয়। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনে এখনকার পরিবর্তনগুলো আমার কাছে অনেক ইতিবাচকই মনে হয়’, লারসেনরা ক্রিকেটের এই ব্যাপারটা নিয়েছেন ভালভাবেই।

শুধু ক্রিস হ্যারিসের মতো কাউকে ধীরগতিতে দৌড়ে এসে, ‘রংফুট’ এ ল্যান্ড করে ‘জেন্টল মিডিয়াম পেস’ বা ডিবলি-ডবলি বোলিং করতে দেখা যায় না এখন। পল কলিংউড, গ্রান্ট এলিয়ট, জেসি রাইডাররা ডিবলি-ডবলার হতে পারেননি। তারা হয়ে থেকেছেন ওই থাইলাসিন দেখার দূর্বল দাবির মতো করে, যেসবে বিশ্বাস নেই বিজ্ঞানীদের। অত্যাধুনিক ক্রিকেটের গতি কেড়ে নিয়েছে স্লো মিডিয়াম পেসারদের। তবে ডিবলি-ডবলিরা মনে করিয়ে দেন, সে সময় ক্রিকেটে আসলে কতো বিচিত্র কিছুর প্রয়োজন হতো। 

**** 

জিনগত অনুক্রমের ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে থাইলাসিনদের ক্লোন তৈরী করাটা কতখানি নৈতিক, সে প্রশ্ন উঠছে এখন। তবে এর চেয়েও বড় চিন্তা, আদতে বর্তমান পরিবেশে তারা টিকে থাকতে পারবে কিনা। তাদের সেই রেখে যাওয়া পৃথিবী কি আছে এখনও তেমন? 

নেই। বিজ্ঞানীরা তাই শঙ্কিত, থাইলাসিনের দ্বিতীয় জীবনের স্থায়ীত্ব নিয়েও। 

থাইলাসিনদের মতো করে ডিবলি-ডবলি যদি ক্রিকেটে ফিরে আসে, তবে তারাও মুখোমুখি হবেন একই রকম বাস্তবতার। তাদের কাছে ৩০০ রানের ওয়ানডে স্কোর ছিল খুব নিরাপদ একটা দূরত্ব, ক্রিকেট এখন সে সীমাকে নিয়ে গেছে অনেক অনেক দূর। আজকের দিনে একজন ব্যাটসম্যানেরই ওয়ানডেতে তিনটি (এই লেখার সময়) ডাবল সেঞ্চুরি আছে। 

ডিবলি-ডবলিরা আজকের দিনে তাই বড্ড বেমানান। ব্যাটসম্যানদের অনেক অনেক স্কোর আর পেসারদের এক্সপ্রেস গতির যুগে তারা থাকলে কী করতেন, সেটাও শুধু কাব্যিক এক কল্পনাই।

সময়ের প্রয়োজনে ক্রিকেটে তারা এসেছিলেন। হারিয়ে গেছেন বিবর্তনের বাঁকে।

ডিবলি-ডবলিদের জায়গা তাই আপাতত স্মৃতির সংগ্রহশালাতেই।

 


তথ্যসূত্রঃ 

১) দ্য গার্ডিয়ান 

২) বিবিসি

৩) ইএসপিএনক্রিকইনফো