• এশিয়া কাপ ২০১৮
  • " />

     

    শেষ বলে গিয়েই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের শিরোপা-স্বপ্ন

    বাংলাদেশ ২২২ অল-আউট, ৪৮.৩ ওভার (লিটন ১২১, কুলদীপ ৩/৪৫) 
    ভারত ২২৩/৭ ৫০ ওভার 
    ভারত ৩ উইকেটে জয়ী 


    ফাইনালের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের। শেষটা তেমন হলো না। 

    আবারও শেষ ওভার, আবারও শেষ বল। তবে বাংলাদেশ পার হতে পারলো না এবারও। ভারতের মিডল অর্ডার উন্মুক্ত করলেন বোলাররা। তবে লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তার সঙ্গে পেরে উঠলো না বাংলাদেশ। ২২২ রানের সম্বল নিয়ে দারুণ লড়াই করেও শিরোপাটা ভারতকেই দিতে হলো। এশিয়া কাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৩ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ভারত। অবশ্য মাশরাফির অধিনায়কত্ব ও তার পেসারদের সমর্থন ছাড়া ম্যাচটা শেষ ওভার পর্যন্তও যেতো না। 

    লিটন দাসের দারুণ সেঞ্চুরির পরও ২২২ রানের বেশি তুলতে না পারা বাংলাদেশ ভারতকে চেপে ধরেও শেষটা করতে পারলো না আরও কয়েকটা রানের অভাবেই। রোহিত শর্মার সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংসের পরও তাই দিনশেষে জয়ী ভারতই। রুবেল হোসেনের ১০ ওভারে ২৬, মাশরাফি বিন মুর্তজার ১০ ওভারে ৩৮, মুস্তাফিজুর রহমানের ১০ ওভারে ৩৮ রানের ফিগারও যথেষ্ট হয়নি। 

    শুরুতে ব্রেকথ্রু দিয়েছিল নাজমুলের রিস্টস্পিন, ধাওয়ান তুলে মারতে গিয়ে মিড-অফে ক্যাচ দিয়েছেন। এই টুর্নামেন্টে এই প্রথমবার ফিফটির নিচে ভাঙলো ভারতের ওপেনিং জুটি। মাশরাফির সিম করা বলে আউট রাইডু, ভারতের মিডল অর্ডারের পরীক্ষা নিতে বসলো এবার বাংলাদেশ। রোহিতকে ফেরালেন দিনের সেরা বোলার রুবেল, পুল করতে গিয়ে ডিপ মিড-উইকেটে নাজমুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক, ৪৮ রানে। 

     

     

    দীনেশ কার্তিক ও এমএস ধোনির ৫৪ রানে জুটি ভেঙেছেন মাহমুদউল্লাহ, পরে ধোনি ক্যাচ দিয়েছেন মোস্তাফিজের বলে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে এরপর উঠে গেছেন কেদার যাদব, তবে ‘কিলারস ব্লো’টা দিতে পারেনি আর বাংলাদেশ। 

    রবীন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর কুমারকে যথাক্রমে রুবেল ও মোস্তাফিজ ফেরালেও দেরি হয়ে গেছে তখন। আবার নেমে শেষটা করেছেন কেদারই। 

    এর আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। আর শেষটা বিভৎস। 

    টপ অর্ডারে কাউকে দরকার ছিল বাংলাদেশের। লিটনের দরকার ছিল বড় ইনিংস। লিটন বেছে নিলেন এশিয়া কাপের ফাইনালের মতো মঞ্চকে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন। লিটনের সঙ্গে নেমেছিলেন মিরাজ, ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই খেলেননি মিরাজ। সেই টোটকা কাজে লাগলো, চাপটা ছিল ভারতের ওপরই। এরপর? 

    ধস। 

    ২০.৫ ওভারে ০ উইকেটে ১২০ রান থেকে বাংলাদেশ নিজেদের আবিষ্কার করলো ১৫১ রানে ৫ উইকেটে, ১১ ওভারে ব্যবধানে। ভারত ম্যাচে ফিরলো দারুণভাবে। উলটো চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। যে মিডল অর্ডার এর আগে ছিল বাংলাদেশের শক্তি, সেটাই ভেঙে পড়লো হুড়মুড় করে। ২২২ রানেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশ। 

     

     

    ওপেনিংয়ের সমস্যা মেটাতে বাংলাদেশ উড়িয়ে নিয়েছে দুই ওপেনারকে, এবার নামিয়ে দেওয়া হলো মিরাজকে। ভারতের দুই প্রিমিয়াম পেসারকে পাত্তা দিলেন না লিটন, স্পিনারদেরও ব্যতিব্যস্ত রাখলেন সুইপ করে। স্কয়ার অব দ্য উইকেটে ছিলেন দারুণ শক্তিশালী, স্ট্রোকপ্লেতেও ছিলেন অসাধারণ। 

    ৩৩ বলে ফিফটি করেছেন চার মেরে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম ওপেনিং জুটিতে সেঞ্চুরি পেরিয়েছে বাংলাদেশ। ৫২ রানে লিটনকে জীবন দিয়েছেন যুঝভেন্দ্র চাহাল, জাদেজার বলে কাভারে সহজ ক্যাচ ছেড়ে। এরপর লিটন আর সুযোগ দেননি, ৮৭ বলে সিঙ্গেল নিয়ে করেছেন সেঞ্চুরি। 

    তবে এর আগেই যাওয়া-আসা শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশের। 

    শুরুটা হয়েছিল মিরাজকে দিয়ে,  কেদার যাদবকে অনেক জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে কাভারে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন মিরাজ, ৫৯ বলে ৩২ রান করে। ইমরুল এসে সুবিধা করতে পারেননি, ১২ বলে ২ রান করে চাহালের দারুণ টার্নিং ডেলিভারিতে হয়েছেন এলবিডব্লিউ। 

    মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ অযাচিত বড় শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন। কেদারের হাফ-ট্র্যাকারকে টেনে মারতে গিয়ে ডিপ মিড-উইকেটে ক্যাচ ইন-ফর্ম মুশফিকের, আর কুলদীপকে স্লগ করতে গিয়ে টপ-এজ হয়ে বাউন্ডারিতে বুমরাহর আরেকটি ভাল ক্যাচে পরিণত হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।  

    মাঝে দুর্দশা বাড়িয়েছে মিঠুনের রান-আউট, লিটন কাভারে খেলেছিলেন, দারুণ ফিল্ডিং করেছেন জাদেজা। তবে আগে থেকেই দৌড় শুরু করেছিলেন মিঠুন, শেষ পর্যন্ত গিয়ে হাজির হয়েছেন লিটনের সঙ্গে একই প্রান্তে।

    সৌম্য এসে লিটনের সঙ্গে ধসের চাপটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, ১০.৪ ওভারের মাঝে প্রথম বাউন্ডারি মারলেন সৌম্য। এরপর লিটনও আভাস দিলেন শেকল ভাঙার। তবে অসাধারণ ধোনিতে শেষ হয়ে গেল লিটনের ইনিংস, সঙ্গে জুটিটাও। ১১৭ বলে ১২১ রান করে লিটন হয়েছেন স্টাম্পড, কুলদীপের বলে। আম্পায়ার রড টাকারকে দিতে হয়েছে সূক্ষ্ম কলগুলোর একটি। 

    কুলদীপকে ছয়ের পর আবার মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন মাশরাফি। নিজেদের ভুল বুঝাবুঝিতে রান-আউট নাজমুল ও সৌম্য। বুমরাহর ইয়র্কারে রুবেলের বোল্ডে ৯ বল বাকি থাকতেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। 

    আর শেষ বলে গিয়ে শেষ হলো তো আরেকটি শিরোপা-স্বপ্নই!