• জাতীয় ক্রিকেট লিগ ২০১৮/১৯
  • " />

     

    শেষ ম্যাচেও 'সেরা' রাজিন সালেহ

    শেষ ম্যাচেও 'সেরা' রাজিন সালেহ    

    সিলেট-ঢাকা, কক্সবাজার 
    সিলেট ১ম ইনিংস ২৩৮ (রাজিন ৬৭, জাকের ৫৫, শাহাদাত ৩/৬৪, সাইফ ২/১৩, মোশাররফ ২/৬২)ও ২য় ইনিংস ৩০৩/৬ (রাজিন ৮৭, জাকের ৭৭*, শাহানূর ৭০*, শাহাদাত ২/১৯)
    ঢাকা ১ম ইনিংস ৩৪৬ (মজিদ ১০৪, মোশাররফ ৫০, রকিবুল ৪০, এনামুল ৫/৮৭, এবাদত ২/৫৯)
    ম্যাচ ড্র 


    রাজিন সালেহর প্রথম শ্রেণিতে অভিষেকের সময় জাকের আলির বয়স ছিল দুই, শাহানূর রহমানের চার।

    প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে এসে রাজিন তৃপ্তি নিয়ে গেলেন, তার মতো করে ইনিংস খেলতে পারেন তরুণরাও। নিজের শেষ ইনিংসে ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন রাজিন, তার আউটের সময় নিরাপদ ছিল না সিলেট। ৭ম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১২২ রানের জুটিতে জাকের-শাহানূর নিশ্চিত করেছেন, রাজিনের শেষ ম্যাচে হারছে না সিলেট। 

    ১০ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল সিলেট আগেরদিন, আবারও সিলেটকে উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন রাজিন। আজ সকালে দ্রুতই ফিরেছিলেন এনামুল হক জুনিয়র, রাজিনের সঙ্গে এরপর যোগ দিয়েছিলেন জাকের আলি। তার সঙ্গে রাজিনের জুটি ৭২ রানের, ২২৪ বলে ৮৭ রান করে রাজিন বোল্ড হয়েছেন শুভাগত হোমের বলে। প্রথম ইনিংসে রাজিন করেছিলেন ২০১ বলে ৬৭। 

    রাজিনের উইকেটের সময় সিলেটের লিড ছিল মাত্র ৭৩ রানের, হাতে ৪ উইকেট, খেলা বাকি প্রায় আড়াই সেশন। সিলেট পথ হারাতে পারতো, ঢাকা চেপে ধরেছিল তাদের। জাকের-শাহানূর হতে দিলেন না সেটা। ১৭৮ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন জাকের, ১৩৬ বলে ৭০ রান শাহানূরের। প্রথম ইনিংসেও জাকের অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে। 

    এই ড্রয়ের পরও দ্বিতীয় স্তরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রইল সিলেট, আর সবার ওপরে থেকে প্রথম স্তরে উন্নতি হয়েছে ঢাকার। ম্যাচসেরা হয়েছেন খন্দকার মোহাম্মদ রাজিন সালেহ আলম, প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো। ক্যারিয়ার শেষ করলেন ৮৪৮১ রানে, ১৮ সেঞ্চুরি ও ৪৪ ফিফটি নিয়ে। শেষ ম্যাচে এসে তার সেঞ্চুরি নিয়ে হয়তো আক্ষেপ হতে পারে। তবে সেসব আক্ষেপ মিলিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট তার ম্যাচসেরার পুরস্কার। সিলেটের না হারা। আর জাকের-শাহানূরের ব্যাটিং। 


    ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার 
    মেট্রো ১ম ইনিংস ৩২৮ অল-আউট (আইয়ুব ১১০, শরিফুল্লাহ ৪০, নাঈম ৪/৯৮, সাখাওয়াত ৩/১০৫)ও ২য় ইনিংস ২৬১/৬ (শামসুর ১২১, আশরাফুল ৪৩, সাখাওয়াত ২/৭৫)
    চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস ৩৪৫ (সাদিকুর ১০০, পিনাক ৭৬,ইয়াসির ৬৪, নাঈম ৪৩*, আবু হায়দার ৪/৯৭, অনিক ৩/৬৪) ও ২য় ইনিংস ১৪২/৪ (ইরফান ৪৪, তাসামুল ২৬*, আসিফ ২/২৯) 
    ম্যাচ ড্র 


    শেষদিনে এসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন শামসুর রহমান, ড্র-ই হয়েছে মেট্রো ও চট্টগ্রামের ম্যাচ। আগের দিন ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা শামসুর এদিন রান-আউট হয়ে থেমেছেন ১২১ রানে, ১৭৩ বল খেলে ১০ চারের সঙ্গে মেরেছেন ২ ছয়। মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তার জুটি ১০১ রানের, ৬ষ্ঠ উইকেটে শরিফুল্লাহকে নিয়ে যোগ করেছেন আরও ৪২ রান। চট্টগ্রামকে ২৪৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ঢাকা মেট্রো। 

    ২৬ রানে ওপেনার সাদিকুর রহমানকে হারিয়েছে চট্টগ্রাম, পিনাক ঘোষ ও ইরফান শুক্কুর মিলে সামাল দিয়েছেন সেই চাপ। ইরফান করেছেন ৪৪, সঙ্গে সাজ্জাদুলের ২৬ ও তাসামুলের অপরাজিত ২৬ রানে ড্র নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম। 

    পয়েন্ট টেবিলে ঢাকা বিভাগকে টপকে যাওয়া হয়নি মেট্রোর, পরের মৌসুমেও দ্বিতীয় স্তরেই থাকছে তারা। দ্বিতীয় স্তরের মেট্রোর পরে তিন নম্বর জায়গা নিয়েই লিগ শেষ হলো চট্টগ্রামের।