• বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
  • " />

     

    যে কারণে মুশফিকের অমন বাঁধভাঙা উদযাপন...

    যে কারণে মুশফিকের অমন বাঁধভাঙা উদযাপন...    


    বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিটা মুশফিকুর রহিমের। আজকের অর্জন একদিক দিয়ে তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। সেঞ্চুরিও এর আগে পেয়েছেন, প্রতিটাই আবার আলাদা আলাদা ভেন্যুতে। তারপরও মিপুরের সেঞ্চুরি আর ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপন বলে দিল, এই ইনিংসটা তাঁর কাছে ‘ভেরি ভেরি’ স্পেশাল। সেঞ্চুরি উদযাপনে যেমন কাল মিশে ছিল বন্যতা, ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপনে রোমান্টিকতার সঙ্গে থাকল পরম করুণাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। মুশফিক নিজে এই ইনিংসটা উৎসর্গ করেছেন নিজের সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডিকেই।

    মিরপুরের এই ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিকের জন্য আলাদা নানা কারণেই। দেশের মাটিতে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি থাকলেও মিরপুরে কখনো ছিল না। সেই ব্যাপারটাও মাথায় ছিল, ম্যাচ শেষে বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘ মিরপুরে ফার্স্ট হান্ড্রেড, এটা ব্যাক অব মাইন্ড ছিল। আমি যখন আস্তে সেভেন্টি এইটি এটলিস্ট একটা সেঞ্চুরি করতে পারলে আমার জন্য ভালো।’

    দেশের মাটিতে রেকর্ডটা খুব একটা ভালো ছিল না, মুশফিক বললেন এই আবেগের তারই খানিকটা বহিঃপ্রকাশ, ‘বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের হোম গ্রাউন্ডে ভালো রেকর্ড থাকে, এখন পর্যন্ত আমার মিরপুরে একশ নাই। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম যেন একশ হয়। আর আমরা এই সিরিজে পিছিয়ে আছি। সবকিছু মিলে এটার বহিঃপ্রকাশ। ওরা যেভাবে বল করছিল আমার জন্য সহজ ছিল না।’

    আজ  বাবা মাহবুব হামিদ গ্যালারিতে ছিলেন, ছেলের অর্জন দেখেছেন কাছ থেকেই। স্ত্রী অবশ্য শিশুপুত্রকে নিয়ে মাঠে আসতে দেখা যায়নি। ডাবল সেঞ্চুরির পর মুশফিক শুরুতে হেলমেট খুলে ব্যাট ছুঁড়লেন। পরে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে অদৃশ্য কাউকে ছুঁড়ে দিলেন ভালোবাসা। তারপর সিজদা দিয়ে স্মরণ করলেন পরম করুণাময়কে। ম্যাচ শেষে মুশফিক জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটা কাকে উৎসর্গ করবেন, সেটা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন, ‘আজকেরটা আগে থেকে প্ল্যান ছিল ওই জায়গায় যেতে পারলে আমার সহধর্মিনীকে উৎসর্গ করব। কারণ এটা আসলেই স্পেশাল। ওর অবদান অনেক বড়। কারণ আপনারা জানেন, আমি মন খারাপ করে থাকি বা এটা করে থাকি। কিন্তু বিয়ের পর এটা আমার অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে। বাচ্চার পর তো আরও বেশি। আর আমার ফোনের ওয়ালপেপারে ওর ছবি। একটু হাসি দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। সবকিছু মিলে আলহামদুলিল্লাহ।’