• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    • বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর

    প্রস্তুতি 'আদর্শ' নয়, তাই বেশি আশায় বারণ মাশরাফির

    এ যেন কয়েকটা দিন বান্দরবানের পাহাড়ে দৌঁড়ঝাপ করে এভারেস্টে ওঠার প্রস্তুতির মতো। বিপিএলে দেশের মাটিতে এক মাস খেলার পর কয়েক দিনের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে খেলতে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কাল রংপুরের ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে রসিকতা করেই বলেছেন, এবার ভালো করলে পরের বার থেকে প্রস্তুতি নিয়েই যাবে বাংলাদেশ। সব মিলে বাস্তবতার নিরিখে বেশি আশা করতেও বারণ করলেন।

    রসিকতা করে বললেও মাশরাফির অসহায়ত্ব কিছুটা বোঝা গেছে কন্ঠেই। এবার প্রস্তুতি আসলে কিছুই হয়নি। এর মধ্যে এক দফায় খেলোয়াড়েরা চলে গেছেন। তবে বিপিএলের জন্য মাশরাফি, তামিম রুবেল, সাইফ উদ্দিনরা রওনা দেবেন ৯ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, মূলত নিউজিল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স দলের তরুণরাই সেখানে প্রতিপক্ষ। অথচ সেখানে ১১ জন নাও হতে পারে বাংলাদেশের। মাশরাফি বললেন, সেরকম হলে অনুশীলনের জন্য প্রতিপক্ষ থেকে এক দুইজনকে ধার নেবে বাংলাদেশ, ‘আমাদের আসলে টিকিট যাদের যাদের পাওয়া যাচ্ছে আগের থেকে, বাংলাদেশ বিমান বা যেভাবেই হোক, অ্যাভেইলেভেল যা পাচ্ছে সেটা দিয়ে চলে যেতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে যেন ১২-১৩ জন খেলোয়াড় অন্তত থাকে। স্কোয়াডে ১৬ জন আছে, এর মধ্যে ফাইনাল খেলবে ৪-৫ জন। চেষ্টা করা হচ্ছে ওখান থেকে কাউকে নিয়ে খেলা যায় কিনা।নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো হেল্প নেওয়া যায় কিনা। অ্যাটলিস্ট যারা আছে তারা যেন অনুশীলন ম্যাচটা ঠিক মতো খেলতে পারে। মেইনলি আমাদের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করা এবং বোলাররা বোলিং করার সুযোগ পেলে ভালো হবে। যদিও ভেরি আইডল না আমাদের জন্য। বাংলাদেশেও সিরিজটা হলে একটা কথা ছিল। যেহেতু নিউজিল্যান্ডে আমাদের জন্য প্রপার যে প্রস্তুতি সেটা হয়তো হবে না। কিন্তু কিছু করার নেই। ১০ তারিখ রাতে গিয়ে পৌঁছাবো। চেষ্টা করবো দুই দিনে যতটা অ্যাডজাস্ট করা যায়। এবং সেরা খেলাটা খেলতে চাই।’

    প্রস্তুতিটা কতটা খারাপ হলো সেটা নিয়ে মাশরাফিক মজাই করলেন, ‘প্রস্তুতি নিয়ে গিয়ে গতবার পারিনি। এবার প্রস্তুতি ছাড়া গিয়ে যদি পারি তাহলে পরেরবার প্রস্তুতি ছাড়াই যাবো।’ তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ মানছেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য এটা খুব ভালো প্রস্তুতি। অ্যাটলিস্ট সামনের ছয় বা পাঁচ মাসের দিকে তাকান এ কন্ডিশনের জন্য এটা খুব আইডল কন্ডিশন। বিশ্বকাপের জন্য একটা বেইস তৈরি করা যাবে।’

    কোচ স্টিভ রোডস অবশ্য বলে গিয়েছিলেন, ওয়ানডেতে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। মাশরাফি জোর গলায় সেরকম কিছু বলতে পারলেন না, ‘বেশি আশা কাউকে দেব না। আমি অনেক ইতিবাচক অবশ্যই। বলার সময় এতেটা আত্মবিশ্বাস থাকে না আমার। তবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলবো আশা করি। সম্ভাবনা তো অবশ্যই আছে।’

     সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালে প্রথম ওয়ানডেতে আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক সেটি থেকেই প্রেরণা নিতে চাইছেন এবার, ‘শেষ সফরে কিন্তু আমরা একটায় জয়ের কাছাকাছি ছিলাম (নেলসনের প্রথম ওয়ানডেতে)। ২৫১ রানে ওদের অলআউট করি। একশর মতো জুটি হয়েছিল ইমরুল ও সাব্বিরের। তারপর কলাপস হয়। খুব ভালো একটা সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম। হাতছাড়া করেছি। আশা করবো এবার যদি ওই রকম সুযোগ পাই আমরা যেন মিস না করি। ‘’

    ১৩ ফেব্রুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চ ও ডানেডিনে হবে পরের দুইটি ওয়ানডে।