• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    • বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর

    বাংলাদেশের হারের ম্যাচে রান পেলেন শুধু মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-সাব্বির

    স্কোর

    বাংলাদেশ ৪৬.১ ওভারে ২৪৭ (মাহমুদউল্লাহ ৭২, মুশফিক ৬২, সাব্বির ৪০, নাঈম ১৭*; ম্যাকপিক ৪/৩৮)

    নিউজিল্যান্ড একাদশ ৪৮.১ ওভারে ২৫১/৮ (ফ্লেচার ৯২, রাভাল ৫২; মোস্তাফিজ ২/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ২/৩৭, মিরাজ ২/৪৬, সৌম্য ১/২৮, নাঈম ১/৪৩)

    ফলঃ নিউজিল্যান্ড একাদশ ২ উইকেটে জয়ী


     

    প্রায় জোড়াতালি দিয়েই নামাতে হয়েছে দল। টেস্ট দল থেকে মুমিনুল হককে উড়িয়ে নিতে হয়েছে আগেভাগে। তার পর বিপিএল খেলার ধকলটা এখনো তাজা অনেকেরই। ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটা বার্তা দিল, বুধবার থেকে শুরু নিউজিল্যান্ড সিরিজ কতটা কঠিন হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান ছাড়া রান পাননি কেউ, বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্যটা ২ উইকেট আর ১১ বল হাতে রেখে টপকে গেছে নিউজিল্যান্ড একাদশ।

    এমনিতে প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পরাজয় বড় ব্যাপার নয়। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে আউট হয়েছে, সেটা জানান দিয়েছে দেশের উইকেট থেকে নিউজিল্যান্ডে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন। লিটন দাসের সঙ্গে আজ ওপেন করতে নেমেছিলেন মুমিনুল হক। হ্যাজেলডাইনের শরীর বরাবর আসা বাউন্সারটা সামলাতে না পেরে ৬ রানেই দিয়েছেন সহজ ক্যাচ। পরের ওভারে শরীর থেকে অনেক দূরে ব্যাট চালিয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস, ৩ রানেই আউট। ৩ ওভারের মধ্যেই ১২ রানে ২ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

    সৌম্য বিপিএলে রান পাননি, প্রস্তুতি ম্যাচেও নেই রানের দেখা। এবারও অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন কাভারে, মাত্র ১ রানেই আউট। অন্যদিকে মোহাম্মদ মিঠুনও যখন ১ রানে লিটনের মতো আউট হলেন, ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।

    সেখান থেকে হাল ধরলেন মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে দুজনের জুটিতে ৫০রান এলো ঠিক ৫১ বলে। এর পরেই মুশফিক ফিফটি পেয়ে গেছেন ৪৬ বলে, আটটি চার ছিল তাতে। দুজনের জুটিতে ১০০ এসেছে ১০৪ বলে, তার খানিক পর ৬৬ বলে ফিফটি পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ যখন বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছে, তখনই ছন্দপতন। সোলিয়ার বল কাট করতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক, ৬১ বলে ৬২ রান করে আউট।

    মাহমুদউল্লাহ অবশ্য সাব্বির রহমানকে নিয়ে চালিয়ে গেছেন লড়াই। ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১৬৩। অন্তত ২৬০-২৭০ হতেই পারত। কিন্তু এর পরেই মাহমুদউল্লাহ ম্যাকপিকের বল তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ৭২ রানে। মিরাজ থাকেননি বেশিক্ষণ , ৭ রান করেই আউট। ১৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। তবে সাব্বির রহমান আরও কিছুক্ষণ পালটা আক্রমণ চালিয়ে গেলেন। ৪১ বলে ৪০ রান করে যখন আউট হলেন, ২২২ রানে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছে অষ্টম উইকেট। এরপর নাঈমের ১৭ রানে আড়াইশর কাছাকাছি যেতে পেরেছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪৬.১ ওভারেই অলআউট হয়ে গেছে ২৪৭ রানে।

    ক্রাইস্টচার্চের ব্যাটিং উইকেটে এই রান আসলে খুব বেশি ছিল না। প্রতিপক্ষ একাদশের একমাত্র আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় জিট রাভাল আর অ্যান্ড্রু ফ্লেচার উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেছেন ১১২ রান। প্রথম ৫০ রান চারের কাছাকাছি রান রেটে এলেও ১০০ করতে মাত্র ১১৪ বল লেগেছে নিউজিল্যান্ড একাদশের। এর মধ্যে শফিউল ছিলেন দারুণ ব্যয়বহুল, ৫ ওভারে ৪০ রান দিয়ে কোনো উইকেটই পাননি।

    জিট রাভালকে ৫২ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন নাঈম। সোলিয়া ১১ রানে মাহমুদউল্লাহর বলে ক্যাচ দেন লিটনকে, ১৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে ফ্লেচার আর রবীন্দ্রর ৫০ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিই হারটা প্রায় নিশ্চিত করে দেয় বাংলাদেশ। ফ্লেচার তো সেঞ্চুরির সুবাসই পাচ্ছিলেন, শেষ পর্যন্ত ৯২ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান মোস্তাফিজের বলে। ৬ রানের মধ্যে রবীন্দ্রকেও বোল্ড করেন সৌম্য।

    তবে নিউজিল্যান্ড একাদশের জয় নিয়ে সংশয় ছিল না তেমন। পঞ্চম উইকেটে এলেন আর ক্লার্কের ৩৯ রান রায় নিয়ে গেছে জয়ের দুয়ারে। ক্লার্ককে এলবিডব্লিউ করে জুটিটা ভাঙেন মিরাজ। ২৪১ থেকে ২৪৫ রানের মধ্যে আরও তিনটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। মিরাজ, মোস্তাফিজ, মাহমুদউল্লাহ সবাই নিয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। কিন্তু অভাবনীয় কিছু আর করতে পারেনি বাংলাদেশ, ২ উইকেট আর ১১ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে নিউজিল্যান্ড একাদশ।