• ক্রিকেট

মাশরাফিদের 'বিমান-ভীতিকেও' ছাপিয়ে যাচ্ছে কিউই-হুমকি

ছোট বিমান পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দেশেও সুযোগ পেলে সড়কপথে যাওয়াটা তাঁর পছন্দ, আর বিদেশেও তাই। নিউজিল্যান্ডে তো কম যাওয়া হয়নি, ২০০১ সালের ওই সফরের পর থেকে যত বার গেছেন, ছোট বিমান সম্ভব হলে বর্জন করেছেন। এই সফরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি, এবার সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন তামিম ইকবালকে। এসবই নতুন কিছু নয়, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটা ইংরেজি দৈনিকে আজ ছাপা হয়েছে তা। তবে নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমেও এ নিয়ে বেশ আগ্রহ, স্টাফ ডট কো তো এই শিরোনামে বড় একটা প্রতিবেদনই ছেপে দিয়েছে!

সমস্যাটা হয়েছে আসলে ক্রাইস্টচার্চ থেকে নেপিয়ের আসার জন্য। মধ্যে অকল্যান্ডে নেমে ফ্লাইট বদলে নিতে হতো, কিন্তু বিমানটা ছোট। তার ওপর নিউজিল্যান্ডের আকাশে বাতাসের খামখেয়ালিপনার জন্য বিমান কীভাবে গোত্তা খায়, সেখানে যারা গেছেন তারা জানেনই। আগের অভিজ্ঞতা থেকেই মাশরাফি ঠিক করে রেখেছিলেন, অকল্যান্ড থেকে নেপিয়ের ছয় ঘন্টা সড়কপথেই যাবেন। বিমানে গেলে অবশ্য সময় লাগত ঘন্টাখানেক। সেই যাত্রায় তামিম ইকবালকে পেয়েছেন সঙ্গী হিসেবে। অবশ্য দেশ থেকে একসঙ্গে আসা রুবেল হোসেন ও সাইফ উদ্দিন বিমানে আগেই পৌঁছে গেছেন।

 

 

এত কিছুর মধ্যে যেন খেলাটাই চাপা পড়ে যাচ্ছে। অথচ আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় সাতটায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। বিপিএলের কারণে প্রস্তুতি ম্যাচই খেলা হয়নি তামিম, মাশরাফিদের । তার চেয়েও বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে হুট করে সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে ফেলা। সেই ধাক্কা এতোটাই বড় হয়ে এসেছে, এখন পর্যন্ত সাকিবের বিকল্প কে হবে সেটিই জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস দেশ ছাড়ার আগে বলেছিলেন, অন্তত ওয়ানডেতে কিউইদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায় বাংলাদেশ। তবে সাকিব-ধাক্কার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স- সবকিছু মিলেই হয়তো রোডস এখন চলে গেছেন আরও ব্যাকফুটে, ‘সত্যি কথা হচ্ছে কাজটা হবে খুব খুব কঠিন (নিউজিল্যান্ডকে হারানো)। তবে আমরা আন্ডারডগ তকমাটা পছন্দই করছি। আমাদের হারাতে হলে ওদের এখনো খুব ভালো কিছু করে দেখাতে হবে।’

বিপিএলে ম্যাচ প্র্যাকটিস খুব ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত সাকিব-তাসকিনকে হারিয়ে ফেলায় টুর্নামেন্টটা যে বাংলাদেশের জন্য খুব মধুর হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। রোডস নিজেও মানলেন তা, ‘বিপিএল থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই আছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ওপরও ভালো ধকল গেছে আর প্রস্ততিটা আদর্শ হয়নি। এখন আমাদের দেখাতে হবে আমরা ভালো কিছু করতে পারি।’

ভারতের সঙ্গে অবশ্য মাত্রই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে সিরিজে যদিও হারতে হয়েছিল ৪-১ ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডের মাঠে কখনোই কোনো ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেহ। বোঝা যাচ্ছে, ইতিহাস গড়তে হলে এবার দুর্দান্ত কিছুই করতে হবে।