• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    শর্ট বলে 'আত্মহত্যা' এবং তামিমের 'পরামর্শ'

    শর্ট বলে 'আত্মহত্যা' এবং তামিমের 'পরামর্শ'    

    অথচ এমন হওয়ার কথাই ছিল না আজ। তামিম ইকবাল সংবাদ সম্মেলনে আসবেন, বাংলাদেশের দুর্দান্ত একটা দিনের গল্প শোনাবেন, চিত্রনাট্যটা হতে পারত এমন। কিন্তু দিন শেষে ভাঙা রেকর্ডারের মতো সেই পুরনো গল্পটাই শোনাতে হয়েছে। হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম দিনে নিজের অমন একটা ঝলমলে ইনিংসের পরও সতীর্থদের ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে হয়েছে। একের পর এক পুল শটে আত্মহত্যায় সবাইকে নিজের আয়নায় দেখারই পরামর্শ দিয়েছেন তামিম।

    অথচ তামিমের জন্যই চ্যালেঞ্জটা ছিল অনেক বড়। ওয়ানডে সিরিজটা কেটেছিল দুঃস্বপ্নের মতো, তিন ম্যাচের একটিতেও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। নিজেকে প্রমাণ করার আর কিছু নেই, তবে হ্যামিল্টন টেস্টের চ্যালেঞ্জটা তামিমের কাছে একটু বেশিই ছিল। সেই চ্যালেঞ্জটা এর চেয়ে ভালোভাবে আর নিতে পারতেন না। চোখ ধাঁধাঁনো সব শটে ৩৭ বলে ফিফটি, লাঞ্চের আগে সেঞ্চুরিটা হয়ে যেত আরেকটু হলে। নবম টেস্ট সেঞ্চুরি অবশ্য এসেছে এর পরেই, কিন্তু ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। সেই হতাশা ম্যাচ শেষেও ছুঁয়ে যাচ্ছে তামিমকে, ‘সত্যি বললে এরকম একটা কন্ডিশনে এরকম শুরু পাওয়াটা স্বপ্নের মতোই ছিল আমাদের কাছে। টেস্টের প্রথম দিন, সবুজ উইকেট; দুই তিনটা উইকেট পড়ে যেতে পারত। যেটা আমাদের সাথে আগেও হয়েছে। কিন্তু এত ভালো শুরুর পরও সেটা কাজে লাগাতে না পারায় আমরা হতাশ। আমি শুধু সেঞ্চুরি করেছি বলেই নয়, যারা ড্রেসিংরুমে ছিল তারাও কমবেশি হতাশ। কারণ একটা সময় আমরা জানতাম, আমরা ওদের চেয়ে গিয়ে ছিলাম।’

    তামিম থাকতে থাকতেই শুরু হয়ে গেছে শর্ত বলে ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যা। মুমিনুলের আউট দিয়ে যেটির শুরু, এরপর মিঠুন, সৌম্য, মাহমুদউল্লাহ; বাংলাদেশের পুরো মিডল অর্ডার নিউজিল্যান্ডের ওই এক ফর্মুলাতেই ভেঙে পড়েছে। তামিম নিজের উদাহরণ দিয়েই বললেন, ওয়াগনাররা এমন কোনো আহামরি বল করেননি, ‘আপনি যদি ওদের ডেলিভারিগুলো দেখেন, ওরা কিন্তু কোনো দারুণ বলে আউট হয়নি। ওদের যে প্ল্যান ছিল সেটাই ওদের সাফল্য দিয়েছে। আর আপনার ভুলের অপেক্ষায় ছিল। আমার মনে হয় আমার পরিকল্পনাটা ছিল খুবই পরিষ্কার। বল মারার জায়গায় থাকলে আমি মারব। আমি শুরুতে কিছু বাউন্ডারি পেয়ে যাই, আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেট ব্যাট করার জন্য খুব ভালো ছিল। দিন শেষে নিজেদেরকেই দোষ দেওয়ার আছে। কালকে আর পরশু সবচেয়ে ভালো দিন থাকবে উইকেট। যে একটু স্লোনেস আর একটু ডাবল পেস ছিল সেটা কেটে যাবে। তাই আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেন আমরা পুরোটা ব্যাটিং করতে পারি। ’

    কিন্তু ওয়াগনার যে এভাবে বল করবেন তা তো জানাই ছিল। তামিমও সেটা ‘ডাক’ করে বা কখনো কখনো পুল মেরে ভালোমতোই সামলাচ্ছিলেন।  কিন্তু অন্য সবাই কেন তা পারলেন না ? তামিম বাকিদের নিজেদের আয়নায় তাকাতে বললেন, ‘সবার আলাদা আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমার একটা প্ল্যান ছিল, আরেকজনের আরকটা থাকবে। আমার কাছে যেটা মনে হয় আমরা ভালো করতে করতে হঠাৎ করে ভুল করেছি। আজকে থেকে না পাঁচ বছর ধরেই আমরা জানি, ও (ওয়াগনার) এই কাজটাই করবে। এটা সামলাতে কে কী করবে, সেটা পরিকল্পনার ব্যাপার। অনেকে আছে পুল শট খেলতে পছন্দ করে, অনেকে আছে ‘ডাক’ করতে পছন্দ করে। আমার জন্য পরেরটা ছিল সহজ পথ, আমি সেটাই করেছি। ’

    দ্বিতীয় ইনিংসে কি বাকিরা এই শিক্ষা নেবেন?