• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    ওয়াগনার, শর্ট বল, উইকেট- গল্পটা এখন পুরোনো

    নেইল ওয়াগনারের শর্ট অফ আ লেংথ বলটা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে কাট করে ছয় মারলেন মাহমুদউল্লাহ। পেলেন ওয়াগনারের হাততালি। নিউজিল্যান্ড পেসারের ভাবটা এমন, “হ্যাঁ, শটটা ভাল ছিল। তবে ব্যাপারটা দেখছি আমি!” 

    ব্যাপারটা দেখলেন ওয়াগনার। পরের বলটা শর্ট, তবে লেগসাইডে একটু বাইরে বলে বিপদ হলো না তেমন। এরপরের ডেলিভারিতে আর ঠিক থাকতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। পুল করলেন। ব্যর্থ হলো। তার দৃঢ়তার শেষ ওখানেই। আর শুরু ওয়াগনারের উল্লাস। 

    নেইল ওয়াগনার ওয়েলিংটন টেস্ট নিলেন ৯ উইকেট। শর্ট বলে ৭ উইকেট। সে অর্থে শর্ট বল নয়, এমনটিতে একটি। আর শর্ট বলের ভীতির কারণে টেইল-এন্ডারের একটি। হ্যামিল্টনের মতো এখানেও বাংলাদেশকে অনেক বেশি অস্বস্তি দিলেন ওয়াগনার। শর্ট বলের ভূতটাও তাই সহসাই যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। 

    তিন দিনে নেমে আসা টেস্টের শেষদিন বাংলাদেশের সামনে ছিল অথৈ পাথার। টেস্ট বাঁচাতে ব্যাটিং করতে হতো দিনের বেশিরভাগ সময়। সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন শুরুটা ইতিবাচক করেছিলেন, তবে শীঘ্রই তাদেরকে পেয়ে বসলো নিউজিল্যান্ড। 

    বোল্টের বিপক্ষে অসস্তিতে থাকা সৌম্য ফিরলেন, এরপর শুরু হলো ওয়াগনারের শর্ট বল তান্ডব। এদিন বাংলাদেশের ৭ উইকেটের ৫টি নিয়েছেন ওয়াগনার, চারটিই শর্ট বলে। মিঠুন ও লিটন মাহমুদউল্লাহর মতোই পুল করতে গিয়েছিলেন, তাইজুল সামলাতে পারেননি শর্ট বলের গোলা। যে উইকেটটা ফুললেংথ থেকে পেলেন ওয়াগনার, সেটাতেও যেন মিশে আছে শর্ট বলের অবদান। এবাদত শর্ট বল ছাড়া কিছু ভাবতেই পারছিলেন না যেন, টেইল-এন্ডারদের চিরায়ত ধরনেই হারিয়েছেন স্টাম্প এরপর। 

    বেসিন রিজার্ভের উইকেট ছিল সবুজ। ছিল পেস। বাউন্সও। তবে প্রথম ইনিংসে নতুন বলে ঠিক সুবিধা করতে পারেননি বোল্ট-সাউদি। আর উইলিয়ামসন জমিয়ে রেখেছিলেন তার মোক্ষম অস্ত্রটা, সবার শেষের জন্য। ওয়াগনার নামের অস্ত্রটা ব্যর্থ হয়নি। ১১৯ রানে ১ উইকেট থেকে ২১১ রানে বাংলাদেশের গুটিয়ে যাওয়ার পেছনে তো অনেক বড় কারণ ওই ওয়াগনারের শর্ট বলই। 

    হ্যামিল্টনে সেটা বাংলাদেশকে নাস্তানাবুদ করেছে। ওয়েলিংটনে ধসে দিয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে হবে কেমন? মাহমুদউল্লাহ বারবার বলছেন, এ টেস্টে পারফরম্যান্সটা ভাল হতে পারতো। পরের টেস্টে সেটা করার চেষ্টা করবেন তারা। আর শর্ট বলের ক্ষেত্রে তার মত, ব্যাটসম্যানরা আটকে থাকতে পারছেন না তাদের পরিকল্পনায়। 

    “প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত পরিকল্পনা থাকে। কোন বলে কোন শট খেলবেন। এক্ষেত্রে (শর্ট বলের ক্ষেত্রে) বোধহয় ব্যাটসম্যানরা পরিকল্পনায় আটকে থাকতে পারছে না।” 

    শর্ট বলের ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন কি দেখা যাবে ক্রাইস্টচার্চে? নাকি পুনরাবৃত্তি হবে আগের দুই টেস্টেরই? 

    হয়তো বাংলাদেশ ভাল ব্যাটিং করছে। হয়তো কোনও ব্যাটসম্যানের শুরুটা ইতিবাচক। নিউজিল্যান্ডের দরকার উইকেট। ওয়াগনার, কই? 

     

     

    ওয়াগনার। শর্ট বল। বাংলাদেশের উইকেট। গল্পটা এ সিরিজেই পুরোনো হয়ে গেছে এখন। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন