• শাহরিয়ার নাফীসের বিশ্লেষণ
  • " />

     

    • শাহরিয়ার নাফীসের বিশ্লেষণ

    এই অস্ট্রেলিয়া আগের অস্ট্রেলিয়ার মতো নয়

    সাকিব নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে

    প্রথমত, ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে সাকিব আল হাসানকে এরকম ফর্মে আমি আর দেখিনি। ও এখন নিজের ব্যাটিং ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাই কাটাচ্ছে। আমরা সবাই জানি ওর অলরাউন্ড সামর্থ্য। ওয়ানডেতে ও একটু নিচেই ব্যাট করেছে অনেক দিন। আইপিএলে আমরা ওকে খুব একটা ব্যাটিং করতে দেখিনি। গত দুই তিন বছরে বরং টেস্টেই ওর ব্যাটিংটা বেশি ভালো হচ্ছিল। তবে এখন সে নিজেকে আসলেই অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    দ্বিতীয়ত, তিন নম্বর পজিশনটা বাংলাদেশের জন্য অনেক দিন ধরেই একটা সমস্যা ছিল। এখানে আমরা অনেককে খেলিয়ে কাউকে ওভাবে স্থির করাতে পারিনি। বিশ্বকাপের মতো আসরে সেখানে সাকিবকে খেলতে দেখাটা আসলেই দারুণ আনন্দের। ব্যাটিং-বোলিং দুইটাতেই সে দুর্দান্ত, তবে বোলিংয়ে তার ধারটা একটু বেশি ছিল। কিন্তু ব্যাটিংটাও এখন দুর্দান্ত মনে হচ্ছে। সবকিছু মিলে এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যেমন খেলছে, সাকিবের অবদান এখানে ৯০ ভাগ।

    তৃতীয়ত, টেকনিক্যালি যে ওর ব্যাটিংয়ের খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমি বলব না। আমার মনে হয় মানসিকভাবেও ও অনেক বেশি বদলেছে নিজেকে। আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভার লাগছে। অনেক বেশি ফোকাসড মনে হচ্ছে। আগে মাঝে মাঝে মনে হতো একটু যেন তাড়াহুড়ো করে ফেলছে। কিন্তু এখন ও একদম ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে।

     

    লিটনের কারণে ম্যাচ সহজ হয়েছে

    ওইদিন সাকিব আরও একবার দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে লিটনের ব্যাটিংয়ের কারণেই খেলাটা এতটা সহজ হয়েছে। ওই সময় ওই পরিস্থিতিতে ও যদি অমন ইনিংস না খেলত তাহলে অনেক কিছু হতে পারত।  দলের জন্য ওই ইনিংস কতটা জরুরি ছিল, সেটা আসলে ম্যাচের ফল দিয়েও বোঝানো যাবে না।

    দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপের মতো আসরে নিজের প্রথম ম্যাচেই ও যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা আসলেই দুর্দান্ত। ওর ওপর কিন্তু চাপ কম ছিল না। কারণ মিঠুন বিশ্বকাপের আগে ভালো করলেও এখানে প্রথম কয়েক ম্যাচে সেরকম ভালো করেনি। আবার লিটনও কখনো পাঁচে খেলেনি। ওর ওপর চাপটাও ছিল বেশি। এসব কিছুই সে যেভাবে জয় করেছে সেটা আমি এককথায় অসাধারণ বলব। এই অনুভূতিটা খুবই বিশেষ কিছু হওয়ার কথা। লিটনের জন্য এখন যে চ্যালেঞ্জ, এই চার ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

    আরেকটা কথা, আমি আগেই বলেছিলাম লিটন পাঁচে ব্যাট  করতে পারবে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পেস নির্ভর দলের সঙ্গে। কারণ কোনো স্পিনার না থাকায়  এখানে টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারে টেকনিক্যালি খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। বরং পার্থক্যটা ছিল ম্যাচের পরিস্থিতিতে, যেটা সে ভালোভাবে পড়তে পেরেছে। ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানও যেমন পেস নির্ভর দল। সেখানেও তিন আর পাঁচে খুব ব্যবধান থাকবে না। এখন সে পরিস্থিতির সঙ্গে যত দ্রুত ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেটা তার নিজের জন্যও ভালো, দলের জন্যও ভালো।

     

    অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ডু অর ডাইই হয়ে গেছে

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচটা ছিল ডু আর ডাই, সেটা আমাদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রেখেছে। কালকের ম্যাচও আমাদের জন্য এক অর্থে তা-ই। কাল যদি আমরা হেরে যাই তাহলে পরের তিনটি ম্যাচে জয় ছাড়া আমাদের বিকল্প থাকবে না। সেই হিসেবে আমাদের জিততে হবে।

     

    অসি মিডল অর্ডারের ফাঁকটা কাজে লাগাতে হবে

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ যখন কোনো পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে খেলেছিল ২০১১ সালে, তখন আমি দলে ছিলাম (২০১৫ ও ২০১৭ তে দুইটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে)। আমার কাছে মনে হয়, এই অস্ট্রেলিয়া ঠিক আগের অস্ট্রেলিয়ার মতো নয়। এবারের দলটা একটু নবীন, তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞতা কম তাদের। এই দলে কিছু ফাঁকফোঁকর আছে, সেটা বাংলাদেশের কাজে লাগাতে চাইবে। ফিঞ্চ, ওয়ার্নার ও স্মিথের পর ওদের ব্যাটিং করবে খাওয়াজা, ম্যাক্সওয়েল, মার্শ বা স্টয়নিস। খাওয়াজা মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান নয়, মার্শও পাঁচের ব্যাটসম্যান নয়। ম্যাক্সওয়েলের ওপর এখনও ওভাবে ভরসা করা যাচ্ছে না। স্টয়নিস ফিট নাও হতে পারে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ওদের মিডল অর্ডার স্পিনের বিপক্ষে অতটা স্বচ্ছন্দ না। এই জায়গাটা আমাদের টার্গেট করা উচিত।

    ট্রেন্টব্রিজ নিয়ে অস্বস্তি নেই

    ট্রেন্টব্রিজের চার দিকের বাউন্ডারির মধ্যে পৌনে চার দিকই বড়, একপাশে একটু ছোট। এটা হাই স্কোরিং মাঠ, আমার মনে হয় না এটা বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হবে। আমার মনে হয় যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে আমরা দুর্দান্ত একটা ম্যাচ দেখতে পাব।

    একাদশ :

    আমার মনে হয় কাল বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে নামা উচিত।

     

    যে দ্বৈরথে চোখ রাখতে হবে

    সাকিব-স্টার্ক

    এই মুহূর্তে সাকিব বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান আর স্টার্ক অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার। এই দ্বৈরথ হবে দেখার মতো

    পরিসংখ্যান: ওয়ানডেতে কখনো স্টার্কের মুখোমুখি হননি সাকিব।

     

    স্মিথ-সাকিব

    পরিসংখ্যানঃ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন বার খেললেও সাকিবের মুখোমুখি হননি স্মিথ।


    শাহরিয়ার নাফীস :  বাংলাদেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক।