• শাহরিয়ার নাফীসের বিশ্লেষণ
  • " />

     

    • শাহরিয়ার নাফীসের বিশ্লেষণ

    ভারতের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশকে বার্তা দিয়েছে আফগানিস্তান

    বিশ্বকাপ জমে গেল, শংকা আছে শুধু ইংল্যান্ডেরই

    খুবই দারুণ দুইটি ম্যাচ দেখলাম কাল। কেউ ভাবতে পারেনি আফগানিস্তান ভারতকে এভাবে কাঁপিয়ে দেবে। আরেকটু হলে জিতেও যেতে পারত তারা। আর পরে তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেল। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে চারটি দল সবার ওপরে আছে তাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া শেষ চারে চলে যাবে। ইংল্যান্ডের তিনটি কঠিন ম্যাচ আছে, সেখানে একটা জিততে হবে তাদের। আর তারা না গেলে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা বা অন্য কেউ সেই জায়গাটা নিতে পারে।

     

    অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য প্রেরণা

    অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে রান তাড়া করেছে, সেটা অবশ্যই বড় একটা প্রেরণা বলে আমি মনে করি। সাকিব ছাড়াও মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ রান পেয়েছে, চাপের মুখেও বাংলাদেশ ৩৩০ এর বেশি রান করেছে। পরের ম্যাচের আগে এটা বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস দেবে।

     

    আপাতত কালকের ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে

    বাংলাদেশের এখন যে অবস্থা, তাতে আপাতত তিনটি ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর অনেক হিসেব নিকেশ আসবে, সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আপাতত একটি একটি ম্যাচ ধরে এগুনো উচিত, কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততে হবে আগে। এরপর কী হবে না হবে, সেটা পরে দেখা যাবে

     

    আফগানিস্তান হেরে গেলেও একটা বার্তা দিয়েছে

    এই বিশ্বকাপে একন পর্যন্ত আফগানিস্তান তেমন কিছু করতে পারেনি। প্রথম পাঁচ ম্যাচে সেভাবে লড়াই করতে পারেনি তারা, দেখেও মনে হচ্ছিল না তারা খুব ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু ভারতের ম্যাচে হারলেও তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। তারা বার্তা দিয়েছে, বাংলাদেশের সামনে কঠিন একটা ম্যাচই অপেক্ষা করছে। দল হিসেবে বাংলাদেশ যে কোনো দিনই আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো। তবে গত এক বছরে ওরা আমাদের বেশ ভুগিয়েছে, এশিয়া কাপেও হারিয়েছে। বাংলাদেশ নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক না করলে ওদের না হারাতে পারার কারণ নেই।

     

    স্পিনে আফগানিস্তান এগিয়ে, তবে...

    যদি আমরা শুধু স্পিন নিয়ে চিন্তা করি, তাহলে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ আমাদের চেয়ে ভালো। আমাদের সাকিব ও মিরাজ আছে, যারা রান আটকে রাখার কাজটা ভালোই করতে পারে। নিখুঁত বোলিংয়ের মাধ্যমে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে ওদের স্পিনে রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণেরও সুযোগ আছে। রশিদ খান, মুজিব উর রেহমান ও মোহাম্মদ নবী মিলে বৈচিত্র্যও বেশি দিতে পারবে। তবে ওদের চেয়ে আমাদের ব্যাটিং অনেক এগিয়ে, পেস বোলিংও ওদের চেয়ে আমাদেরটা ভালো। ফিল্ডিংয়েও আমরা এগিয়ে থাকব। সব মিলে পাল্লাটা আমাদের দিকেই ভারি বলে মনে করি।

     

    সাউদাম্পটনের ভেন্যু ফিফটি-ফিফটি

    আগের ভেন্যুগুলোর সঙ্গে পার্থক্য হচ্ছে, সাউদাম্পটনের রোজ বলে বাউন্ডারি অনেক বড়। এটা খেলাটা অত সহজ হবে না, চার-ছয়ও হয়তো বেশি হবে না। মারার সময় আপনাকে হিসেব করে মারতে হবে। আমার মনে হয় এখানে সমান সুযোগ। তারপরও আফগানিস্তানের যেহেতু তিনটা স্পিনার আছে, ওরা একটু এগিয়ে থাকতে পারে। তো বাংলাদেশের শট খেলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

     

    একাদশে সাইফ উদ্দিন ও মোসাদ্দেকের আসা উচিত

    আগের ম্যাচে চোটের জন্য সাইফ উদ্দিন ও মোসাদ্দেক ছিল না। এই মুহূর্তে ওদের চোটের কী অবস্থা, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে ফিট থাকলে দুজনকেই আমি কালকের ম্যাচের একাদশে দেখতে চাই। সেক্ষেত্রে সাব্বির ও মিরাজকে একাদশের বাইরে রাখা যেতে পারে। রুবেলের আরেকটা সুযোগ প্রাপ্য, বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

     

    আমার একাদশ: তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, লিটন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক, সাইফ উদ্দিন, মাশরাফি, রুবেল, মোস্তাফিজ।

     

     

    যে দ্বৈরথে চোখ

    সাকিব-রশিদ

    সাকিব এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে। রশিদ এই মুহূর্তে অত ফর্মে নেই, তারপরও সে বড় একটা হুমকি

    পরিসংখ্যান কী বলে: রশিদের বিপক্ষে ২২ বল খেলে ৫৯ স্ট্রাইক রেটে ১৩ রান করেছেন, আউট হয়েছেন একবার।

     

    হাশমতউল্লাহ-মোস্তাফিজ

    শহিদি হুমকি হতে পারে, ওকে আউট করার জন্য মোস্তাফিজকে দরকার হতে পারে বাংলাদেশের।

    পরিসংখ্যান কী বলে: মোস্তাফিজের বিপক্ষে ১০ বল খেলে ৪০ স্ট্রাইক রেটে ৪ রান করেছেন শহিদি, আউট হননি একবারও।


    শাহরিয়ার নাফীস:  বাংলাদেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক।