• শাহরিয়ার নাফীসের বিশ্লেষণ
  • " />

     

    শুরুতে ভারতের উইকেট নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ভাগ্য

    ভারতের ৬৫ ভাগ, বাংলাদেশের ৩৫

    বিশ্বকাপে প্রতিটা দলই কঠিন, এবারের ফরম্যাটে তো সহজ প্রতিপক্ষ বলে আসলে কিছু নেই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আরও বেশি কঠিন। ওরা দারুণ ফর্মে আছে, এখন পর্যন্ত কেবল ইংল্যান্ডের কাছেই হেরেছে।  কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় মোটেও। ভারতকে আমরা চার বছর আগে দেশের মাটিতে দুইবার হারিয়েছি। গত এশিয়া কাপের ফাইনালে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছি। বাংলাদেশ দল সেটা থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে। সব মিলে আমি বলব, নিজেদের দিন হলে বাংলাদেশ ভারতকে হারাতেই পারে।

    এই বিশ্বকাপে ভারত যেমন খেলেছে তাতে আমি ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ৬৫ ভাগ আর বাংলাদেশের ৩৫ ভাগ বলেই মনে করি।

     

    পাঁচে থাকলেও হতাশ হব না

    এখনকার সমীকরণে বাংলাদেশের বাকি দুইটি ম্যাচ জিততেই হবে। বড় টুর্নামেন্টে এরকম চাপ একটা সময় হবেই। একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাটিংটা খুব ভালো করছে। আর ভারতের বিপক্ষে খেলার সময় ব্যাটিংটা ভালো করা খুব জরুরি। কারণ ওরা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বড় স্কোর গড়বে। আর বাংলাদেশ আসলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার পরেই বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো নকআউট হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটা আমরা জিতেছি, এখন বাকি আছে দুইটি ম্যাচ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পাঁচে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারলে বাংলাদেশের জন্য সেটা সাফল্য মনে করা উচিত। এখন পর্যন্ত দল যে জায়গায় আছে, তাতে সন্তিষ্টির বেশ কিছু জায়গা আছে বলে আমি মনে করি। বাকি দুই ম্যাচের যদি একটিতে জিততে পারে দল, বিশ্বকাপ থেকে কিছুটা প্রাপ্তি নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে পারব। সেক্ষেত্রে সেমিতে উঠতে না পারলে অবশ্যই হতাশ হব, তবে এই পারফরম্যান্স থেকে প্রেরণা নেওয়ার অনেক কিছু আছে। আমাদের হারানোর খুব বেশি কিছু নেই, কিন্তু পাওয়ার অনেক কিছুই আছে।

    সবাই বলছে, লড়াইটা হবে বাংলাদেশের ব্যাটিং আর ভারতের বোলিংয়ের বিপক্ষে।  ভারতের বোলিং অবশ্যই টুর্নামেন্টের সেরা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ব্যাটিংও এবার সেরার মধ্যেই থাকবে। সেই হিসেবে আমার মনে হয় ভারতের বোলিং আমাদের ব্যাটসম্যানরা মৌটামুটি ভালোমতোই সামাল দিতে পারবে। সমস্যাটা হবে আমাদের বোলিংয়ে। ভারতের টপ অর্ডারের পর ওদের মিডল অর্ডার কিছুটা ভঙ্গুর। সেক্ষেত্রে আমরা যদি শুরুতে এক দুইটি উইকেট নিতে পারি তাহলে ম্যাচ আমাদের পক্ষে আসতে পারে। সেটা আমরা শুরুতে ব্যাট বা বল যা-ই করি না কেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপও সামলাতে হবে

    বাংলাদেশ দল যত বড় হবে, তাদের কাছ থেকে আশাও তত বাড়তে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ের যেমন প্রশংসা হবে, তেমনি হেরে গেলে সমালোচনাও হবে। আমাদের উপমহাদেশের ধরনই এটা, প্রতিবেশি দেশগুলোতে আরও বেশি হয়। ভারতে তো বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। তবে এটা ঠিক, ধীরে ধীরে আমাদের এখানেও সবাই পরিণত হওয়া শিখবে। দেখুন, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট-ঐতিহ্য কতদিনের। আমাদের দেশে আর কয়দিনই বা হয়েছে? আশা করি, ধীরে ধীরে এখানেও সমর্থকদের মধ্যে ক্রিকেট মনস্কতা আসবে।

    এজবাস্টনে কষ্ট হবে বোলারদের

    এজবাস্টনের উইকেট কাল দেখা দেখা যা মনে হচ্ছে  বেশ রান হবে। ইংল্যান্ড কাল বেশ স্বচ্ছন্দেই রান তুলেছে, ভারতের ইনিংসের শেষ দিকে উইকেট অবশ্য একটু স্লথ ছিল। তারপরও বাংলাদেশের বোলারদের এখানে কষ্ট হবে। তবে বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনাল খেলতে চায় তাহলে এই কষ্ট সহ্য করেই খেলতে হবে তাদের।

     

    মিরাজের জায়গায় রুবেল আসতে পারে

    আমাদের দলে কিন্তু স্পেশালিস্ট স্পিনার ধরতে গেলে মিরাজই, সাকিব তো অলরাউন্ডার। এখন এজবাস্টনে একদিকের বাউন্ডারি বেশ ছোট, আর ভারতের দলে ডান হাতিও অনেক বেশি। এসব কিছু চিন্তা করে আমার মনে হয় কাল রুবেলকে নিয়ে আসা যেতে পারে। আর ভারতের সঙ্গে আগেও বেশ ভালো বল করেছে রুবেল। আর লিটনকে অবশ্য কাল পাঁচে নামানো উচিত। ওদিকে মাহমুদউল্লাহ ফিট হতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয় আছে। যদি না হতে পারে, তাহলে তার জায়গায় সাব্বিরের আসা উচিত। মাহমুদউল্লাহ এই মুহূর্তে বেশ ভালো করছে, কিন্তু  

    আমার একাদশঃ তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, লিটন, মাহমুদউল্লাহ/ সাব্বির, মোসাদ্দেক, সাইফ, রুবেল/ মিরাজ, মাশরাফি, মোস্তাফিজ।

     

    চোখ রাখতে হবে যে দ্বৈরথে

    সাকিব-বুমরা

    সাকিব এই মুহূর্তে আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান, শুরুতে উইকেট পড়লে বুমরাকে সামলাতে হবে ওর।

     

    পরিসংখ্যান যা বলছে: ওয়ানডেতে বুমরার চার বল খেলে ৫ রান নিয়েছেন সাকিব, একটু বাউন্ডারিসহ। আউট হননি একবারও।

     

    কোহলি-সাকিব

    কোহলি ওদের সেরা ব্যাটসম্যান, ওকে আটকানোর কাজটা বোলার সাকিবকেই নিতে হবে।

     

    পরিসংখ্যান যা বলছে: ওয়ানডেতে সাকিবের ৪৬ বলে ৭১.৭৪ স্ট্রাইক রেটে ৩৩ রান নিয়েছেন কোহলি, আউট হয়েছেন একবার।


    শাহরিয়ার নাফীস:  বাংলাদেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক।