• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    ২০১৫-এর বিদায়ের পর ফাইনালের কথা বললে 'হাসতেন' মরগান

    কতোটা পথ পেরিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড? 

    বিস্ময়ের চোটে হাসি আসা আর খুব স্বাভাবিকভাবে রোমাঞ্চিত হওয়ার মাঝে যে পথ, ততোটা। ইংল্যান্ড অধিনায়ক অইন মরগান বলছেন, চার বছর আগে অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের সঙ্গে হেরে তাদের বিদায়ের পর যদি কেউ বলতেন যে ইংল্যান্ড পরেরবার ফাইনাল খেলবে, তাহলে তিনি হাসতেন। সেই ইংল্যান্ডই পরের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো চলে গেছে ফাইনালে। 

    এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তা দেয়নি ইংল্যান্ড, এ ম্যাচ নিয়ে কার্যত তারা জিতল তিনটি ‘নক-আউট’ ম্যাচ। এর আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হতো তাদের, সে দুটিতেও জিতেছিল তারা। গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও ‘আসল’ জায়গায় ঠিকই পুরোনো প্রতিদ্বন্দীদের উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। 

    এ ইংল্যান্ডকে বলা হচ্ছে নতুন ইংল্যান্ড, যারা ওয়ানডে ক্রিকেটে তৈরি করেছে নতুন এক ব্র্যান্ড। তবে এজন্য বেশ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। মরগান বলছেন, এই চার বছরে তাদের উন্নতিটা নাটকীয়, “২০১৫ বিশ্বকাপে যেদিন আমরা বিদায় নিলাম, এর পরদিন আপনি যদি ফাইনাল খেলার কথা বলতেন আমাদের, তাহলে আমি হাসতাম আপনাকে নিয়ে। ২০১৫ সালে আমরা যেখানে ছিলাম, আর রবিবার আমরা যেখানে থাকব, সেসবের দিকে ফিরে তাকালে দেখি যে খেলার ধরনে ও প্রত্যাশা তৈরিতে আমরা নাটকীয় উন্নতি করেছি।” 

    “২০১৫ সালে আমরা বেশ পিছিয়ে ছিলাম। শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলির সঙ্গে ভুগছিলাম, এমনকি যারা শীর্ষে ছিল না তাদের সঙ্গেও। আমরা যেভাবে ৫০-ওভারের ক্রিকেট খেলেছি, এ ফরম্যাটকে দেখেছি, নিশ্চিতভাবেই সেখানে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গত চার বছর ধরেই একটা প্রক্রিয়া চলেছে।” 

    সেই প্রক্রিয়ারই একটা ধাপ লর্ডসের ফাইনাল। মরগান বলছেন, উপলক্ষ্যটা উপভোগ করতে তার দলকে, “রবিবার এমন দিন, যেটা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটা তাকিয়ে থাকার মতো দিন। আমরা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ তৈরি করেছি। আমরা যা কিছু পারি, পারফরম্যান্স অনুযায়ী সেসব করে দেখানোর দিন, তবে উপভোগের দিন।

    “এটা একটা সুযোগ। বড় সুযোগ। এ সুযোগ তৈরি করা দারুণ, তবে সেখানে যাওয়াটা অসাধারণ।” 

    এ ফাইনাল দিয়ে আরেকটা স্মৃতিও ফিরে আসছে ইংল্যান্ডে। ২০০৫ সালের পর থেকে ‘পে-পার-ভিউ’তে চলে যাওয়া টেলিভিশন ব্রডকাস্টিংয়ে ফিরে আসছে ‘ফ্রি-টু-এয়ার’ পদ্ধতি। আগেই বলা হয়েছিল, ইংল্যান্ড ফাইনালে গেলে ফ্রিতে দেখানো হবে খেলা। চ্যানেল ফোর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ের পর নিশ্চিত করেছে, স্কাইয়ের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়ে গেছে। 

    এই ব্যাপারটিকেও দারুণ হিসেবে দেখছেন মরগান, “দারুণ একটা ব্যাপার। বিশেষ করে ২০০৫ অ্যাশেজ যেমন ছিল, এই ব্যাপারগুলি দারুণ। পুরো গ্রীষ্মেই ক্রিকেট সংবাদপত্রের সামনের ও পেছনের পাতায় ছিল, সবাই কথা বলছিল। এটা ক্রিকেটের জন্য ভাল একটা ব্যাপার। আর এই ক্রিকেটকেই আমি ভালবাসি। ফ্রি-টু-এয়ারে এটা ফেরার খবরটা তাই দারুণ।”