• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    • ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

    'যেটা হয়েছে হজম করা কঠিন, তবে আমরা অসাধারণ খেলেছি'

    লর্ডসে ক্রিকেট দেখেছে অলৌকিকতা। এমন কিছু আগে দেখেনি ক্রিকেট। সে গল্পটা এমনই যে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের কীর্তি ম্লান হচ্ছে না এতোটুকুও। কিন্তু ইংল্যান্ডের উদযাপনের পাশে লর্ডসের ব্যালকনিতে উইলিয়ামসনদের অবিশ্বাসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছবিটা ঢুকে গেছে ইতিহাসে। তাই ম্যাচ শেষে সব হতাশা নিউজিল্যান্ডেরই। বিশ্বকাপ ফাইনালে সুপার ওভারেও টাইয়ের পর নিউজিল্যান্ডের শিরোপা ছোঁয়া হয়নি বাউন্ডারির সংখ্যায় পিছিয়ে থেকে। ব্যবধান ছিল এতোখানি সূক্ষ্ম।

    এমন ম্যাচের শেষে যদি, কিন্তু আফসোসই সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল উইলিয়ামনদের। ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণীর আনুষ্ঠানিকতায় অবশ্য পুরোটা সময়ই হাসলেন। এর আগেই অবশ্য জেনে গেছেন ৯ ম্যাচে ৫৭৮ রান করে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে সেটা সান্ত্বনা হতে পারেনি আজ। 

    ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে টাইয়ের কথা না বলে, অনেকগুলো ঘটনার কথা এক করে বলেছেন উইলিয়ামসন, "দেখুন এটা শুধুমাত্র এক রান বেশি করার ব্যাপার ছিল না। ম্যাচের অনেক ছোট ছোট বিষয়গুলো যে কোনো পক্ষেই যেতে পারত। ইংল্যান্ডকে শুভেচ্ছা তাদের অসাধারণ এক ক্যাম্পেইনের জন্য। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। পিচ আমরা যেমন ভেবেছিলাম তার চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। অনেকেই ৩০০ এর বেশি রানের কথা বলছিলেন। তবে এবার আমরা তেমন স্কোর খুব বেশি দেখিনি, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলকে দারুণ লড়াইয়ের জন্য আমি ধন্যবাদ দিতে চাই দলকে এতোদূর নিয়ে আসার জন্য। যা হয়েছে সেটা হজম করা অবশ্যই কঠিন, তবে আমরা অসাধারণ খেলেছি।"

    এমন একটা ম্যাচের পর বোল্ট, নিশমদের পাণ্ডুর মুখ বলে দিচ্ছিল, কতটা বিহবল হয়ে পড়েছেন শোকে। উইলিয়ামসন সেটা বলেও তাকাচ্ছেন সামনের দিকে, "ফাইনালে টাই! খেলোয়াড়েরা একেবারেই বিধ্বস্ত এই মুহুর্তে। এটা বিধ্বংসী। তারা পুরো টুর্নামেন্টে একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করেছে।"

    যেভাবে খেলেছেন "পিচ শুকনো হয়ে আসছিল বেশ, আমরা সেটার ওপরই নির্ভর করছিলাম। স্কোর বোর্ডেও রান ছিল, সবমিলিয়ে চ্যালেঞ্জিং হত। আরও ২০টি রান হলে ভালোই হত অবশ্য, কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে ২৪০-২৫০ রান মেনে নেওয়া যায়। দুই দলই জান দিয়ে খেলেছে। এমন একটা ম্যাচ শেষ বলে যাওয়া, খুবই কঠিন ছিল।" 

    পঞ্চাশতম ওভারে বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে মার্টিন গাপটিলের থ্রো  বাউন্ডারি পরিণত হয়েছিল। ম্যাচটা নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে তখনই প্রায় ফসকে গিয়েছিল। তবে এটাকে শুধুমাত্র দুর্ভাগ্য বাদে আর কিছু মানতে নারাজ উইলিয়ামসন, ' স্টোকসের ওভারথ্রোটা খুবই বাজে মুহুর্ত ছিল, তাই না? আপনি আশা করবেন অমন মুহুর্তে এমন কিছু যাতে না হয়। এমন মুহুর্ত তো আর বাছাই করতে পারবেন না, হয়ত এটা আমাদের কপালেই ছিল। এমন সূক্ষ্ম পার্থক্য দিয়ে ম্যাচটা রিভিউ করা আসলে কঠিন।"