• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />
    X

     

    সুপার ওভারে 'বাউন্ডারির নিয়ম' ও স্টোকসের ছয় রান নিয়ে কাঠগড়ায় আইসিসি

    ক্রিকেটে এমনিতেই আইনের অভাব নেই। একেকটা ছোট ছোট নিয়ম যেমন পার্থক্য গড়ে দেয় কত কিছু। এই যে ধরুন, কালকের ম্যাচেই যা হলো। অভূতপূর্ব একটা ফাইনাল শেষে যখন রান দিয়েও দুই পক্ষকে আলাদা করা যায় না, তখন বাউন্ডারি সংখ্যা দিয়ে আলাদা করতে হয়। নিউজিল্যান্ডের (১৬) চেয়ে বেশি বাউন্ডারি পেয়ে ইংল্যান্ডই (২৪) হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। প্রশ্ন উঠে গেছে সুপার ওভারের এই নিয়ম নিয়ে। শুধু সেটাও নয়, বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে যখন চার হয়ে গেল সেটা পাঁচ রান হবে বা ছয় রান হবে কি না সেটি নিয়েও আছে প্রশ্ন।

    ওয়ানডে ক্রিকেটের এত বছরের ইতিহাসে সুপার ওভার হয়নি কখনো। ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্তও যদি সুপার ওভার হতো, ট্রফিটা ভাগাভাগি করে নিত দুই দল। এর আগে ২০০৫ ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে একবারই টাই হয়েছিল দুই দলের মধ্যে, সেবার ট্রফিটা ভাগাভাগিই হয়েছিল। কিন্তু এই বিশ্বকাপের আগে সুপার ওভারের নিয়ম হলো। কিন্তু সেখানেও যদি টাই হয়? তাহলে যে দল বেশি বাউন্ডারি পাবে, সে জিতবে সেরকম একটা নিয়ম ছিল। তবে সেটি যে বানিয়েছেন, হয়তো ভাবতেই পারেননি বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো জায়গায় কাজে লেগে যাবে তা।

    টুইটারে সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই যেমন সরাসরি সমালোচনা করেছেন বেশি বাউন্ডারি পাওয়ার এই নিয়মের। গৌতম গম্ভীর যেমন সরাসরি বলেছেন। এই নিয়মের যৌক্তিকতা নিয়ে। বাউন্ডারির হিসেবে এত বড় একটা ম্যাচের নিষ্পত্তিই হওয়াতে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সরাসরিই বলেছেন, ম্যাচটা টাই ছিল। ব্রেট লিও যেমন বলেছেন, বিজয়ী ঠিক করার জন্য এটা একটা জঘন্য নিয়ম। এই নিয়ম বদলানোর ব্যাপারে আইসিসির অবশ্যই ভাবা উচিত। রোহিত শর্মা পর্যন্ত সরাসরি বলেছেন, কিছু নিয়ম নিয়ে আইসিসির খুব সিরিয়াসলি ভাবা উচিত।

    কেউ কেউ অবশ্য বিকল্প ভাবনার প্রস্তাব দিয়েছেন। মোহাম্মদ কাইফ যেমন বলেছেন, ফুটবলের সাডেন ডেথের মতো যতক্ষণ ম্যাচের নিষ্পত্তি না হচ্ছে ততক্ষণ খেলে যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। কেউ কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগের নিয়মে হলে টাই ম্যাচে কম উইকেট হারানো দলটাই জিতত। সেই হিসেবে কাল নিউজিল্যান্ডের জেতার কথা। খেলাটা যে কতটা ব্যাটসম্যানদের হয়ে পড়ছে, এই নিয়ম সেই সাক্ষ্যই দেয় বলে মনে করছেন কেউ কেউ। ডিন জোন্স আবার প্রশ্ন তুলেছেন আরেকটা নিয়ম নিয়ে। মূল ম্যাচে যে দল পরে ব্যাটিং করে তাদের সুপার ওভারেই কেন আগে ব্যাটিং করতে হবে প্রশ্ন তুলেছেন তা নিয়েও।

    এই ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যদি একটা মুহূর্ত বাছতে বলা হয়, মার্টিন গাপটিলের থ্রো থেকে বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হওয়ার কথা হয়তো বলতে পারেন আপনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ওটা কি আসলেই ছয় ছিল না পাঁচ রান ছিল তা নিয়ে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, আম্পায়ার ধর্মসেনা ঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। গাপটিলের থ্রোটা যখন স্টোকসের ব্যাটে লাগে তখন দুই রান নিয়েই ফেলেছিলেন। সঙ্গে ওভারথ্রো থেকে চার রান হয়ে মোট ছয়।

    কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এমসিসির নিয়মে বলা আছে, ওভারথ্রো থেকে বাউন্ডারি আসলে সেক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে থ্রোয়ের সময় ব্যাটসম্যানদের একে অন্যকে অতিক্রম করেছেন কি না। কিন্তু গাপটিল যখন থ্রো করেছিলেন, স্টোকস বা রাশিদ একে অন্যকে অতিক্রম করেননি। সেক্ষেত্রে রানটা হিসেবে হওয়া উচিত ছিল পাঁচ। যদিও এই নিয়মে থ্রো আর ব্যাটসম্যানদের অবস্থান নিয়ে খানিকটা অস্পষ্টতা আছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে বিতর্ক উঠবেই। ওই এক রান কম হলেই তো ম্যাচটা হয়তো জেতে না ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড পেয়ে যায় ট্রফি। কালকের ম্যাচটা ছিল এমন সূক্ষ্ম ব্যবধানেরই!