• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন ইয়ান চ্যাপেল

    ক্যান্সারের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ও কমেন্টেটর ইয়ান চ্যাপেল। পাঁচ সপ্তাহ ধরে ত্বকের ক্যান্সারের জন্য তার রেডিওথেরাপি শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে। গত বছরের আগস্টে কাঁধ, ঘাড় ও বগল থেকে অস্ত্রোপচার করে ক্যান্সার সরানো হয়েছে তার, এরপর রেডিওথেরাপি চলেছে সপ্তাহে পাঁচ দিন, পাঁচ সপ্তাহ ধরে। সামনে আরও বিশেষজ্ঞ দেখাবেন। অ্যাশেজে চ্যানেল নাইনের হয়ে কাজ করার আশাও জানিয়েছেন তিনি। 

    “বয়স ৭০ হলে আপনি যে করেই হোক, একটু নড়বড়ে হয়ে পড়বেন। তবে এই বাজে ক্যান্সারের সঙ্গে আমি অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। আরেকটা ব্যাপার হলো, এগুলোর একটাও মেলানোমা (স্কিন-ক্যান্সারের টিউমার) নয়, এ কারণেই একটু স্বস্তি আছি। আমার দিক থেকে ব্যাপারটা বোধহয় একটু ছেলেমানুষি”, বলেছেন ৭৫টি টেস্ট খেলা চ্যাপেল। 

    “একাধিক ক্যান্সার কাটা হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং অন্য সব উপায়ে সেগুলো থেকে নিস্তার পাওয়া গেছে। 
     


    মার্ক নিকোলাস ও মার্ক টেইলরের সঙ্গে চ্যানেল নাইনের কমেন্ট্রিতে ইয়ান চ্যাপেল (মাঝে)


    “তবে ৭০-এ গেলে আপনি চিন্তা করবেন, “ঈশ্বর, শেষ বোধহয় হয়ে এলো”। তবে আমি আমার মাকে দেখেছি, শেষ পর্যন্ত। মৃত্যু তাকে গ্রাস করেছে, সেটা দেখেছি। এরপরই মনে হয়েছে, “ধুর, এখন আমাকেও সেটা করতে হবে।' অবশ্যই আপনি তাড়াহুড়ো করবেন না, তবে যখন আসবে, ঠিক আছে। আমার মনে হয়, বেশ কিছুদিন ধরেই আমার এমন মনে হচ্ছে, যখন ঘটবে তখন শুধু আপনাকে বলতে হবে, ‘আমি ভাল একটা সময় কাটিয়েছি। এটাই'।” 

    চ্যাপেল মনে করেছেন চ্যানেল নাইনে তার কমেন্ট্রির সতীর্থ, আর দুজন কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো ও টনি গ্রেগের কথা, “যখন রিচি ও টনি চলে গেল… তখনও এটা মনে করিয়ে দিয়েছিল, সবার সঙ্গেই হবে ব্যাপারটা।” 

    এখনও অবশ্য বেশ চনমনেই আছেন চ্যাপেল, দুই ভাই গ্রেগ ও ট্রেভরের সঙ্গে পারিবারিক পুনর্মিলনী হয়েছে তার, বিশ্বকাপের আগে। রেডিওথেরাপির সময়ও কাজ করে গেছেন তিনি। আশা করছেন অ্যাশেজেও কাজ করার, “অ্যাশেজ আসছে, আমি নাইনের সঙ্গে কথা বলব। ‘দেখো, যদি তোমাদের প্রয়োজন হয়, তবে আমি প্রস্তুত’, এটিই বলবো শুধু।” 

    “আমি শুরুর দিকে খুব বেশি মানুষকে বলিনি, কারণ জানতাম না রেডিওথেরাপিতে কী কী থাকবে, আমার ক্লান্ত হয়ে পড়ব কতোখানি। তবে যেটা দেখা গেল, খুব খারাপ কিছু না। রাতে একটু ক্লান্ত লাগে, আর ত্বকে একটু অস্বস্তি আছে। সেসব বাদ দিলে আমি ভাল আছি। 

    “আমি পরিবারকে বলেছি, ধীরে ধীরে আমার কিছু সতীর্থকেও জানিয়েছি। নিয়মিত কল পাচ্ছি, ব্যাপারটা ভাল।”