• বাংলাদেশের শ্রীলংকা সফর
  • " />

     

    বোর্ডের আস্থা পেলে যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান খালেদ মাহমুদ

    বোর্ডের আস্থা পেলে যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান খালেদ মাহমুদ    

    মিরপুরের মাঠ থেকে দুজন একসঙ্গেই এলেন। খালেদ মাহমুদ সুজন প্রথমে ঢুকলেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে, খানিক পর মাশরাফি বিন মুর্তজাও এলেন সেখানে। কোনো সিরিজের আগে কোচ ও অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনে আসাটাই রীতি, সেটির হিসেবে অধিনায়কের সঙ্গী হলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ খালেদ মাহমুদ। কথা বললেন অনেক কিছু নিয়েই, যেটির সারমর্ম দেশের কোচদেরও কাজ করার যোগ্যতা আছে জাতীয় দলে। শুধু বোর্ডের তাদের ওপর ভরসা রাখতে হবে।

    শুরুতেই মাহমুদের কাছে প্রশ্ন হলো, বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না। মাহমুদ বললেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড সভা না হওয়ায় এই ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মৌখিকভাবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বার বার এরকম সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন কদিন আগেই। আজও স্বীকার করলেন, ব্যাপারটা ঠিক তার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। কিন্তু আসলেই কি নিজেকে জাতীয় দলের জন্য যোগ্য বিবেচনা করেন? যদি সেটা করেনই তাহলে বিসিবি থেকে হেড কোচ নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে সেটাতে কি আবেদন করেছেন খালেদ মাহমুদ?

    এই ব্যাপারে তিনি বললেন অনেক কথাই, ‘এখনও স্থানীয় কোচের প্রতি আস্থা সেভাবে হয়নি বোর্ডের। তবে আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি, কতটুকু যোগ্য আমি জানি না। তবে আমি মনে করি এটি রকেট সাইন্স না, একটি দলের কোচিং করানো। যেটা অন্যান্য কোচরা করে ধরেন সবাই বলে যে লেভেল ৩-৪ করা, আমরাও লেভেল ৩ করেছি ২০০৬-০৭ সালে।’

    দেশী কোচ নিয়ে কাজ করার কিছু সুবিধার কথাও বললেন খালেদ মাহমুদ, ‘আমি মনে করি যেহেতু আমি এদেশে বড় হয়েছি, এই ছেলেদের সাথে খেলেছি বা মাঠে গিয়েছি তাই আমার জন্য পরিকল্পনা করা আরো সহজ হবে। এই কারণে একেকজনের মানসিকতা আসলে দ্রুত বুঝতে পারি। এটি মানসিক একটি খেলা আমি মনে করি। কারণ একটা মানুষ ১১টা মানুষকে এক করে, একটি টিম  স্পিরিট তৈরি করে ম্যাচ জেতানোর একটা ব্যাপার থাকে। আমি মনে করি সেটা আমি পারি। নতুন কোচ আসলে যেটি হয় একটি দলকে চেনা, নতুন খেলোয়াড়দের চেনা, তাঁদেরকে বোঝা-এটি করতে করতে হয়তো অনেক সময় চলে যায়, যেটি হয়তো বা আমার লাগবে না। জুনিয়র দলের খেলোয়াড় যারা আছে তাদের সবার সাথে কাজ করে আমি অভ্যস্ত আসলে।’

    ক্রিকেট ছাড়ার পর নিজের কোচিংয়েরও যে অনেক দিন হয়ে গেল, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মাহমুদ, ‘আমার কোচিং ক্যারিয়ার ১৩-১৪ বছর হয়ে গেল, বিভিন্ন বড় দলকে কোচিং করিয়েছি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের কথা না ধরি, অন্তত বিপিএলে শেষ ৫-৬ বছর ধরে প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছি। চিটাগাংয়ে ছিলাম, পরে ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে কাজ করেছি। সুতরাং এখন আমার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা আছেই। আমার ক্রিকেটের হাতে খড়ি ১৩ বছর বয়স থেকেই। ক্রিকেটের সাথেই আছি, অন্যান্য ধরণের কোচের সাথে কাজ করেছি, তাদের কাজ দেখেছি, তারা কি করতে চায়, কিভাবে একটি দলকে হ্যান্ডেল করতে হয়। মানে এটি সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছার ব্যাপার। আমার ইচ্ছাটা কতটুকু, আমি কতটা প্যাশনেট এই ব্যাপারে। আমি মনে করি ক্রিকেটের ব্যাপারে আমি আসলে দারুণ প্যাশনেট।’

    নিজের দাবির স্বপক্ষে এত প্রমাণ দেওয়ার পরও কি মাহমুদকে বড় দায়িত্ব দেবে বিসিবি? উত্তরটা সময়ই বলে দেবে।