• বাংলাদেশের শ্রীলংকা সফর
  • " />
    X

     

    প্রস্তুতি ম্যাচে মিঠুনের ৯১, মুশফিকের ফিফটিতে জিতল বাংলাদেশ

    প্রস্তুতি ম্যাচ, পি সারা ওভাল
    শ্রীলংকা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ ২৮২/৮, ৫০ ওভার (শানাকা ৮২*, জয়াসুরিয়া ৫৬, রাজাপাকশে ৩২; সৌম্য ২/২৯, রুবেল ২/৩১, ফরহাদ ১/২২, মোস্তাফিজ ১/২৯, তাসকিন ১/৫৭)
    বাংলাদেশ ২৮৫/৫, ৪৮.১ ওভার (মিঠুন ৯১, মুশফিক ৫০, তামিম ৩৭, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সাব্বির ৩১*, মোসাদ্দেক ১৫, সৌম্য ১৩, কুমারা ২/২৬, রাজিথা ১/৫৭, দনঞ্জয়া ১/৪৭, ডি সিলভা ১/৩৯)
    বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী


    প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিলেন মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিমরা। ২৮৩ রানের লক্ষ্যে মিঠুনের ৯১ রানের সঙ্গে মুশফিকের ৫০, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমানের ত্রিশ-পেরুনো রানের ইনিংস ও মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যামিওতে ৫ উইকেট ও ১১ বল বাকি রেখেই শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ। অবশ্য রানতাড়ায় সুযোগ পেয়েও ইনিংস বড় না করার আক্ষেপ থাকতে পারে তামিম, মাহমুদউল্লাহর। সৌম্য ফিরেছেন আগেভাগেই। 

    অবশ্য বোলিংয়ে সৌম্যর দিনটা গেছে ভাল, ২৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা বোলার ছিলেন তিনিই। মোট নয়জন বোলারকে এনেছিলেন অধিনায়ক তামিম। রুবেল, সৌম্যের সঙ্গে মোস্তাফিজও উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ছিলেন মিতব্যয়ী। তাসকিন ১ উইকেট পেলেও সেজন্য খরচ করেছেন ৫৭ রান।  নিউজিল্যান্ড সিরিজে কাঁধে ব্যথা পাওয়ার পর অবশেষে বল করতে পেরেছেন মাহমুদউল্লাহ। 

    বাংলাদেশের রানতাড়ায় ওপেনিং জুটি ভেঙেছে ১০ম ওভারে, সৌম্য সরকার ২৪ বলে ১৩ রান করে ক্যাচ দিয়েছেন লাহিরু কুমারার বলে, শুরুর জুটিতে বাংলাদেশ তুলেছে ৪৫ রান। তামিম অবশ্য শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, কুমারার দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৬ চারে ৪৭ বলে তিনি করেছেন ৩৭ রান। 

    মিঠুন ও মুশফিক তৃতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ৭৩ রান। ৪৬ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ঠিক ৫০ করে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিঠুনের জুটিতে এরপর উঠেছে ৯৬ রান, আকিলা দনঞ্জয়ার বলে বোল্ড হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৩৭ বলে ৩৩। মিঠুন সেঞ্চুরি মিস করেছেন ৯ রানের জন্য, ১০০ বলের ইনিংসে ১১ চার ও ১ ছয় মেরেছেন তিনি, সাব্বিরের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৩৫ রানের। মিঠুন ফিরলেও সাব্বিরের অপরাজিত ২৬ বলে ৩১ ও মোসাদ্দেকের ১০ বলে ১৫ রানের ক্যামিওতে লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। 

    এর আগে কলম্বোর পি সারা ওভালে প্রস্তুতি ম্যাচের মোড়কে ভালো একটা পরীক্ষাই হয়ে গেছে বাংলাদেশের বোলারদের। শ্রীলংকা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশে জাতীয় দলে খেলা বেশ কজন ক্রিকেটার ছিলেন। রুবেল আর তাসকিনে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষদিকে দাসুন শানাকার অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসে স্বাগতিকরা তুলেছিল ২৮২ রান। 

    প্রস্তুতি ম্যাচে টসের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না সেরকম, বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজের পছন্দমতো আগে বল করার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। শুরুটা দারুণই হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। নতুন বলে প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছিলেন রুবেল হোসেন, বিশ্বকাপে বাদ পড়া নিরোশান ডিকওয়েলাকে এলবিডব্লুতে ফিরিয়ে দিয়েছেন ইনিংসের মাত্র তৃতীয় বলেই। এরপর সপ্তম ওভারে ওশান্দা ফার্নান্দোকেও তুলে নিয়েছেন রুবেল। দানুশকা গুলনাথিলাকা ভালোই খেলছিলেন, ২৭ বলে ২৬ রানও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু অষ্টম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে আউট হয়ে যান তিনিও। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলংকা একাদশ।

    এরপর ভানুকা রাজাপাকশে ও শেহান জয়াসুরিয়া চতুর্থ উইকেটে একটু হাল ধরেন স্বাগতিক দলের হয়ে। দুজন যোগ করেন ৮২ রান, রাজাপাকশেকে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভাঙেন সৌম্য সরকার। অ্যাঞ্জেলো পেরেরা টেকেননি বেশিক্ষণ, মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। ১২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলংকা একাদশ। জয়াসুরিয়া ভালোই খেলছিলেন, ফিফটিও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৮ বলে ৫৬ রান করে সৌম্যের বলে রুবেলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ১৪৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলংকা একাদশ। বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে অনেকটাই।

    কিন্তু সেখান থেকে পালটা আক্রমণ শুরু করেন দাসুন শানাকা। প্রথমে ওয়ানিদু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে যোগ করেন ৪৯ রানের জুটি। হাসারাঙ্গা ২৮ রানে আউট হলে এরপর বাংলাদেশের বোলারদের একাই শাসন করে গেছেন শানাকা। এরপর শুধু আকিলা দনঞ্জয়া রান আউট হয়েছেন, কিন্তু শানাকা শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬৩ বলে ৮৬ রান করে। শেষ ১৫ ওভারে ১২০ রান তুলেছে শ্রীলংকা বোর্ড একাদশ। 

    ডেথ ওভারের বোলিং তাই দুশ্চিন্তাই ফেলতেই পারে তামিমকে।