• এএফসি কাপ
  • " />

     

    উত্তর কোরিয়ায় স্বপ্নভঙ্গ দশ জনের আবাহনীর

    পিয়ং ইয়ংয়ে প্রথমার্ধে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে আটকে রেখেছিল ঢাকা আবাহনী। দ্বিতীয়ার্ধটা এভাবে কাটিয়ে দিতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যেত আবাহনীর। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গ হলো শেষে এসে। কিম ইল সুং স্টেডিয়ামে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের কাছে দ্বিতীয় লেগে ২-০ গোলে হেরেছে আবাহনী। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে হেরে এএফসি কাপের জোনাল সেমিফাইনালে যাত্রা থেমে গেল থমাস মারিয়া লেমোসের দলের।



    অবশ্য কীভাবে আবাহনী গোল খেয়েছে আর কেমন খেলেছে তার কিছুই জানার উপায় নেই। ম্যাচের স্কোরলাইন জানতেই ম্যাচ শেষেরও অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এএফসি কাপের অফিসিয়াল সাইট, ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট এসয়েছে বহু পরে। লাইভ টেলিকাস্ট বাঁ অনলাইন স্ট্রিমিং কোনোটারই নাগাল পাওয়া যায়নি। এমনকি দুইদলের শুরুর একাদশ নিয়েও কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। উত্তর কোরিয়ায় হওয়া এএফসি কাপের আগের ম্যাচগুলোতেই ছিল একই অবস্থা। এবার আবাহনীর সেখানে খেলতে যাওয়ায় একই সমস্যার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশের সমর্থকেরাও।

    প্রথম লেগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এএফসি লাইভ আপডেটের ব্যবস্থা রাখলেও উত্তর কোরিয়ায় ছিল না সেটা। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি কোনো ভিডিও হাইলাইটসও। ম্যাচ রিপোর্টে ম্যাচের খুঁটিনাটি পাওয়ার আশা নিয়ে পড়তে এসে তাই আপনাকে আশাহত করা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। কেবল মাত্র ম্যাচ শেষের স্কোরলাইনের ওপর ভিত্তি করেই লিখতে হচ্ছে পিয়ং ইয়ংয়ের গল্পটা। 

    এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের হয়ে দুইটি গোলই করেছেন স্ট্রাইকার কিম ইউ সং। এএফসি কাপে ১৮ ম্যাচে এই নিয়ে তাঁর গোল দাঁড়াল ২৩টি। গতবার এই টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন উত্তর কোরিয়ান স্ট্রাইকার। সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল যাকে নিয়ে, সেই কিম ইউ সংয়েই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আবাহনীর। ৪৯ ও ৮২ মিনিটে দুই গোল করেছেন তিনি।

    এক গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় আবাহনীর জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে গিয়েছিল ৭০ মিনিটে। ডিফেন্ডার মামুন মিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর দশ জনের দলে পরিণত হয় আবাহনীর। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে আবাহনী জিতেছিল ৪-৩ গোলে। ৪৯ মিনিটে এক গোল হজম করার পর জিততে হলে গোল করতেই হত আবাহনীকে। দশ জনের দল নিয়ে শেষে আরেক গোল খেয়ে বসে আবাহনী।

    জোনাল ফাইনালে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উঠল উত্তর কোরিয়ার চ্যাম্পিয়ন এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ। গতবার অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে ফাইনালে হেরেছিল তারা। ফাইনালে উঠতে না পারায় নতুন ইতিহাস গড়া হয়নি আবাহনীর। তবে সেমিফাইনালের প্লে অফে উঠেই একটা ইতিহাস গড়া হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের রানার্স আপদের। হারটা আবাহনীর জন্য বেদনার হলেও,  এএফসি কাপে আবাহনীর যাত্রাটা কম অনুপ্রেরণার নয়।