• " />

     

    বিপিএলে 'উপেক্ষিত' পাকিস্তানিরা হতাশ

    বিপিএলে 'উপেক্ষিত' পাকিস্তানিরা হতাশ    

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় তিনি। ব্যাট হাতে অনবদ্য ৬১ রান করে রংপুর রাইডার্সের জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু এরপর আরও চারটি ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে সাকুল্যে ৪৭ রান। সে বিবেচনাতেই কিনা নিজেদের শেষ সাত ম্যাচে তাঁকে সাইড বেঞ্চেই বসিয়ে রাখে রংপুরের টিম ম্যানেজম্যান্ট। কারণ যেটাই হোক, এভাবে টানা ‘উপেক্ষিত’ থেকে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। বিপিএলে খেলতে এসে ‘যথেষ্ট’ সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ আরও একাধিক পাকিস্তানি খেলোয়াড়।

     


    আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানিরা কি বিপিএলের 'বোঝা'?


     

    গণমাধ্যমের সাথে আলাপচারিতায় নিজের হতাশাটুকু গোপন রাখতে পারেন নি মিসবাহ, “এ ব্যাপারে খুব বেশী কিছু বলতে পারছি না। আমার মনে হয় দলের মালিকপক্ষ এবং কোচই ভালোমন্দটা ভালো বোঝেন। কিন্তু এভাবে লম্বা সময় সাইড বেঞ্চে বসে থাকাটাও সহজ নয়।”

     

     

    রবিবার বরিশাল বুলসের বিপক্ষে নক-আউট ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় রংপুর। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও মিসবাহকে প্রথম একাদশে না দেখে বিস্মিত পাকিস্তানের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই। একই দলে ডাক পাওয়া পাকিস্তানের পেসার ওয়াহাব রিয়াজ টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিলেন ১ ডিসেম্বর, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের টিটোয়েন্টি সিরিজ শেষে। ৩ ডিসেম্বর তাঁকে বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামায় রংপুর। ব্যাট হাতে ১২ রান ও বল হাতে ১২ রানের বিনিময়ে নেন ১ উইকেট। এরপর আর কোন ম্যাচে সুযোগ না পেয়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ঢাকা ছাড়েন তিনি, “বেশীরভাগ ম্যাচে উপেক্ষিত থাকাটা আসলেই সহজ না। মিসবাহর জন্য তো ব্যাপারটা আরও কঠিন।”

     

    চিটাগং ভাইকিংস দলে ভিড়িয়েছিল পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কামরান আকমলকে, “আমি আমার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ ও টিম ম্যানেজম্যান্টকে বলেছিলাম যে বিপিএলে আমি ইনিংস উদ্বোধন করতে চাই। কিন্তু প্রথম দু’ ম্যাচের পর আমাকে তাঁরা সেভাবে কোন গুরুত্ব দেয় নি।...আমি সেখানে শুধু টাকার জন্য খেলতে যাই নি। ভেবেছিলাম বিপিএলে খেলার মাধ্যমে পাকিস্তানের নির্বাচকদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছাতে পারবো যে আমি এখনও ফুরিয়ে যাই নি।”

     

     

    ঢাকা ডায়নামাইটসের সোহেল খানও একটিমাত্র ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। স্পিনার সাঈদ আজমলকে চিটাগং মাঠে নামায় দুই ম্যাচের জন্য।

     

    বিপিএলের এবারের আসরে মোট ১৭ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ায় বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। এদের মধ্যে চিটাগংয়ের মোহাম্মদ আমির দলটির হয়ে সবক’টি ম্যাচেই মাঠে নামার সুযোগ পান। পাকিস্তানের টিটোয়েন্টি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি মাঝপথে টুর্নামেন্টে যোগ দিলে তাঁর হাতে দলের নেতৃত্বভারই তুলে দেয় সিলেট সুপারস্টার্স। একই দলে যোগ দেয়ার পর থেকে সব ম্যাচ খেলেছেন আরেক পাকিস্তানি সোহেল তানভির। কুমিল্লার আহমেদ শেহজাদ, চট্টগ্রামের উমর আকমলরাও আরব আমিরাতে সিরিজ খেলে এসে নিজ নিজ দলের সাথে যোগ দেয়ার পর পেয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাচ খেলার সুযোগ। গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে কুমিল্লার জয়ের নায়ক শোয়েব মালিক আঙুলের চোট নিয়ে শেষ দু’ ম্যাচ খেলতে পারেন নি। তবে ফাইনালের দলে তাঁকে দেখা যাবে বলেই শোনা যাচ্ছে।

     

     

    প্রথম থেকেই দলের সাথে থাকা ঢাকার ইয়াসির শাহ সিংহভাগ ম্যাচেই মূল একাদশে ছিলেন। একই দলে শেষ চার ম্যাচের জন্য যোগ দেয়া মোহাম্মদ হাফিজও সবক’টি ম্যাচেই সুযোগ পান মাঠে নামার। সপ্রতিভ পারফরম্যান্সে দলে জায়গা পাকা রেখেছেন ফাইনালে ওঠা দুই দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের আসহার জাইদি ও বরিশাল বুলসের মোহাম্মদ সামি।