• " />

     

    বিপিএল খুলে দিল জাতীয় দলের দুয়ার

    এমনিতে বিগ ব্যাশ, আইপিএল বা পিএসএলের ভীড়ে বিপিএল ক্রিকেটারদের কাছে খুব কাঙ্খিত কোনো তীর্থক্ষেত্র নয়। তবে গত বিপিএল বেশ কিছু ক্রিকেটারদের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে খুলে দিয়েছে জাতীয় দলের দুয়ার। তাঁদের কেউ বিপিএলের পারফরম্যান্সের জোরেই সুযোগ পেয়ে গেছেন, আবার কেউ বিপিএলের পর সুযোগ পেয়ে জাতীয় দলে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।  

     

    জুনাইদ খান

     

     

    ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজটিই ছিল তাঁর খেলা শেষ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। এরপর লাহোরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেন একটি ম্যাচ। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে একসময় অপরিহার্য হয়ে ওঠা এই বাঁহাতি পেসার এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে একরকম হারিয়েই গিয়েছিন। সেই তিনি এবারের বিপিএলে খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলে ২০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক। ফলস্বরূপ, দেড় বছরেরও বেশী সময় পর ডাক পেলেন জাতীয় দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে ৪ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

     

    লিয়াম ডসন

     

    ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়াচ্ছেন নিয়মিতই। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও ডাক পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানো হয়ে ওঠে নি। গত বছর সুযোগ পেয়েছিলেন একটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলার নিরাপত্তাজনিত কারণে ইংলিশ ক্রিকেটারদের সংগঠনের বারণ উপেক্ষা করেই এসেছিলেন বিপিএল খেলতে। এক ম্যাচে অধিনায়কত্বও করেছেন রংপুর রাইডার্সের। পারফরম্যান্সে খুব সপ্রতিভ ছিলেন না অবশ্য। ১২ ম্যাচ খেলে করেছেন ১১৪ রান আর বল হাতে ৭ উইকেট। তবে দেশে ফিরে গিয়ে আবার ফিরেছেন উপমহাদেশে, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকটা হয়ে গেছে গত ডিসেম্বরে

     

    টাইমাল মিলস

     

    তাঁকে বলা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের নতুন বিস্ফোরক। ঘরোয়া ক্রিকেটে রীতিমতো ঝড় তুলে যখন ২০১৫ সালে জাতীয় দলে ডাক পাবার অপেক্ষায়, পিঠের এক সমস্যায় ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়লো তাঁর। সুস্থ হয়ে ফিরে গত বছর দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলেছেন একটি টি-টোয়েন্টি। কিন্তু নিজেকে প্রমাণের জন্য বড় একটা মঞ্চ চাইছিলেন খুব করেই। বিপিএলে নাম লেখানোটাও ছিল সে উদ্দেশ্যে। অবশ্য তারকা ক্রিকেটারদের ভীড়ে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে নিজেকে সেভাবে চেনানোর সুযোগ পান নি, ৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তবে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আবার। ভারতের বিপক্ষে আজই শুরু হওয়া ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে মিলস ৪ ওভারে ২৭ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।

     

    সেকুগে প্রসন্ন

     

     

    ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও শ্রীলংকার এই অলরাউন্ডার দলে ঠিক নিয়মিত ছিলেন না। এবারের বিপিএলে তারকাবহুল ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়েও পারফর্ম করার সুযোগ সেভাবে পান নি। খুলনার বিপক্ষে ২২ বলে ৭ ছয়ে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেও অবশ্য দলকে জেতাতে পারেন নি। তবে বিপিএলের পর শ্রীলংকার টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজের শেষ ম্যাচে দলের জয়ের বড় ভূমিকা রেখেছেন অপরাজিত ৩৭ রানে।

     

    উমর আকমল

     

    দলে নিয়মিত নন অনেকদিন থেকেই। অথচ ক্ল্যাসিক ব্যাটিংয়ে একসময় মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেছেন ধারাবাহিকভাবে। বিপিএলের গত আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খুব সুবিধে করতে পারেন নি। এবার রাজশাহী কিংসের হয়েও ৯ ম্যাচ মিলিয়ে রান করেছেন সাকুল্যে ১০৬। মূলত আলো ছড়িয়েছেন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে একটি ম্যাচেই, ড্যারেন স্যামির সাথে তাঁর ৩১ বলে ৭০ রানের জুটিটিই শেষতক রাজশাহীকে ১২ রানের জয় এনে দেয়। বিপিএল খেলে গিয়ে বছর দেড়েক পর ডাক পেয়েছেন ওয়ানডে দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন সবক’টিতেই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন