• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    অ্যাটলেটিকোর অন্তিম শরে বিদ্ধ জুভেন্টাস

    ফুলটাইম 
    অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ২-২ জুভেন্টাস


    ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মিনিট দুয়েক বাকি থাকতে ডিয়েগো সিমিওনে যেন জেগে উঠতে বলছিলেন মেট্রোপলিটানোর দর্শকদের, তার চিরায়ত আগ্রাসী ভঙ্গিমায়। তখনও ১-২ গোলে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। মেট্রোপলিটানো জেগে উঠুক বা নাই উঠুক, অ্যাটলেটিকো জেগে উঠলো ঠিকই। শেষ মিনিটে গিয়ে হেরেরার হেড খুঁজে পেল লক্ষ্য, ২ গোলে পিছিয়ে থাকা অ্যাটলেটিকো ড্র করলো ম্যাচ। আর জুভেন্টাস ডুবলো দুই গোলের লিড হারিয়ে ফেলার হতাশায়। মাদ্রিদ থেকে তাদেরকে ফিরতে হচ্ছে ১ পয়েন্ট নিয়েই। 

    গোলশূন্য প্রথমার্ধ এ ম্যাচে ছিল যেন ‘অ্যাপেটাইজার’, ‘মেইন কোর্স’টা এলো দ্বিতীয়ার্ধে। যে অর্ধে হলো ৪ গোল। হুয়ান কুয়াদ্রাদো ও ব্লেইস মাতুইদির গোলে এগিয়ে যাওয়া গিয়েছিল জুভেন্টাস, স্টেফান সাভিচ ও হেক্টর হেরেরার গোলে যা শোধ করে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো। শেষ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলটা হেড করার জন্য লাফিয়ে উঠেছিলেন হেরেরা ও হিমিনেজ দুজনই, একজন মিস করলে আরেকজন ছিলেন অপেক্ষায়। হেরেরো মিস করলেন না, জুভেন্টাসের কাছে হারলো না অ্যাটলেটিকো। 
     


    দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মাথায় প্রথম ব্রেকথ্রু পেয়েছিল জুভেন্টাস, কুয়াদ্রাদোর দুর্দান্ত এক গোলে। কাউন্টার অ্যাটাকে টানতে থাকা বলটা গঞ্জালো হিগুয়াইন স্কেলমেপে দিলেন ডানদিকে থাকা কুয়াদ্রাদোকে। তার সামনে অপশন হিসেবে হিগুয়াইনের সঙ্গে ছিলেন রোনালদোও। তবে বাঁ-পায়ে নিজেই ছুঁড়লেন গোলা, যা গিয়ে আঘাত করলো অ্যাটলেটিকোর টপ কর্নারে, নড়ার সুযোগই পেলেন না ইয়ান অবলাক! এরপর একটা করে সুযোগ তৈরি করলো দুই দলই, তবে গোল হলো না আর। 

    ৬৪ মিনিটে গিয়ে আবার কাউন্টার অ্যাটাক জুভেন্টাসের, আবারও কপাল পুড়লো অ্যাটলেটিকোর। অ্যালেক্স সান্দ্রোর ক্রস মাতুইদি পেলেন ছয়-গজের বক্সের বাঁদিকে। হেড করলেন, উদযাপনের আগে পড়ে গিয়ে সে কাজটা সারলে শুয়ে থেকেই, সঙ্গে জুভেন্টাসকে জয়ের দিকে এগিয়ে দিলেন। তবে অ্যাটলেটিকোর গল্পটা যে বাকি তখনও। 

     

     

    ২ গোলে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকরা লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পেল মিনিট পাঁচেক পরই। গোলের সোজাসুজি অবস্থানে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে বাঁদিকে মাথার ওপর বল পেয়েছিলেন হিমিনেজ, তার হেড খুঁজে পেল সাভিচের মাথা। ম্যাচে দারুণ সময় কাটানো সেজনি প্রথমবারের মতো পরাস্ত হলেন, দুই দলের সমানে-সমান লড়াইটা যেন জমলো আরেকটু। 

    আক্রমণ অবশ্য চালিয়ে যাচ্ছিল জুভেন্টাস, হিগুয়াইনের দূর থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দিলেন অবলাক, ফিরতি শটটা নিয়েছিলেন মাতুইদি, এবার বাধা হয়ে দাঁড়ালেন কিয়েরন ট্রিপিয়ের। পাল্টা সুযোগ তৈরি করলো অ্যাটলেটিকোও, জুভেন্টাসের ডিফেন্স চিড়ে ঢুকে পড়া ভিটোলোর শটটা অবশ্য দারুণভাবে আটকে দিলেন সেজনি। পরের মিনিটে একটা পেনাল্টির আবেদন করেছিল অ্যাটলেটিকো, তবে বনুচ্চির হ্যান্ডবলটা ইচ্ছাকৃত বলে মনে করেননি রেফারি বা ভিএআর অফিশিয়ালরা, দ্বিতীয়ার্ধে মাথায় আঘাত পেয়ে বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকা জার্মান রেফারি এদিন ছিলেন দারুণ। 


    তবে সে পেনাল্টি না পাওয়া দমাতে পারলো না অ্যাটলেটিকোকে। সেট-পিস থেকে হাওয়ায় ভাসা বলে জুভেন্টাসের দুর্বলতা আরেকবার প্রকাশ পেল এই ম্যাচে, এবং সেটা এক মোক্ষম সময়ে। হেরেরার হেডটা এরপরই বিদ্ধ করলো জুভেন্টাসকে। 

    অতিরিক্ত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে সব আলো নিজের ওপর নিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো, বক্সে ঢুকে সাভিচকে পরাস্ত করেছিলেন ক্ল্যাসিক-রোনালদো স্টাইলেই। তবে তার নেওয়া শটটা গেল গোলের বাইরে দিয়েই, অনেক কিছু করেও, ২ গোলে এগিয়ে থেকেও রাতটা যে জুভেন্টাসের হচ্ছে না, সেটিরই প্রতীকী ঘোষণা দিল যেন সে মিস। 

    প্রথমার্ধ অবশ্য ছিল না কোনও দলেরই। তুলনামূলক বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছিল অ্যাটলেটিকো, তবে সাফল্য আসেনি। হিমিনেসজ, ফেলিক্স তখনও চেষ্টা করছিলেন হেডে কিছু একটা করার, সেজনি দেওয়াল পার হওয়া হয়ে ওঠেনি তাদের।
     
    রোনালদোর বাইরে থেকে নেওয়া একটা শট আটকে দিয়েছিলেন অবলাক, বাঁদিক থেকে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটায় আসেনি কোনও ফল। বাইরে থেকে চেষ্টা করেছিলেন পিয়ানিচও। 

    প্রথমার্ধেও অ্যাটলেটিকো চেষ্টা করেছে হেডে কিছু করার, জুভেন্টাস দূর থেকে নেওয়া শটে। সেবার সফল হয়নি তারা, দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে। সে সাফল্যও এসেছে সমানে-সমান হয়ে। মাদ্রিদের এ রাতে যেন কোনো দলেরই হার প্রাপ্য ছিল না, তবে অন্তিম মুহুর্তের ওই গোলে হতাশাটা বেশি হওয়ার কথা জুভেন্টাসেরই। 

    একাদশ 

    জুভেন্টাস : সেজনি, দানিলো, বনুচ্চি, ডি লিট, সান্দ্রো, খেদিরা, পিয়ানিচ, মাতুইদি, কুয়াদ্রাদো, হিগুয়াইন, রোনালদো 

    অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ : ওবলাক, ট্রিপিয়ার, সাভিচ, হিমিনেজ, লোডি, কোকে, নিগুয়েজ, পারটি, লেমার, ফেলিক্স, কস্তা