• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    ডি মারিয়ার জোড়া গোলে প্যারিসে নাজেহাল রিয়াল


    চ্যাম্পিয়নস লিগ
    গ্রুপ 'এ'
    ফলাফল পিএসজি ৩-০ রিয়াল মাদ্রিদ


    নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে, এডিনসন কাভানি- তিনজনের কেউ নেই। পিএসজির হাল ধরতে হত অন্য কাউকে। সেই কাজটা করলেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড অ্যানহেল ডি মারিয়া। আক্রমণের মূল তিনজনকে তাই মনেই পড়ল না পিএসজির। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেছেন ডি মারিয়া, তাতেই ছিটকে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে আর এক মুহুর্তের জন্যও পিএসজির লাগাম টেনে ধরতে পারেনি তারা। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে তাই গ্রুপ 'এ'-তে শীর্ষস্থানে উঠে বসেছে পিএসজি। আর ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচ হেরেছে রিয়াল।

    জিনেদিন ফিরেছিলেন ফ্রান্সে, ফিরেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। ফেরার রাতটা ভালো যায়নি তার দলের। এডেন হ্যাজার্ড, গ্যারেথ বেল, করিম বেনজেমাকে দিয়ে শুরু করেছিলেন আক্রমণভাগে। রিয়াল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে মিডফিল্ডেই। তাই কাজে আসেননি ওই তিনজনের কেউই।

    প্রাক ডি প্রিন্সেসকে আনন্দে মাতাতে পিএসজি সময় নিয়েছিল মাত্র ১৪ মিনিট। মাউরো ইকার্দির একাদশে অভিষেক হয়েছিল এদিন। প্রথম গোলে কিছুটা অবদান থাকল তার। হুয়ান বার্নেটের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রথম সুযোগেই আরেকটু সামনে উইংয়ে বল বাড়িয়েছিলেন তিনি। বার্নেটও এরপর প্রথমবারেই ক্রস করেছিলেন। ডি মারিয়া কাজে লাগিয়েছেন  উপস্থিত বুদ্ধি। পা টা কোনোমতে লাগিয়ে দিয়েছেন, তাতে বলের গতি বদলে চোখের পলকে কাছের পোস্ট ঘেঁষে বল ঢুকে গেছে থিবো কোর্তোয়ার জালে। 

    ডি মারিয়ার দুই গোলের পরই দুইবার আশার আলো দেখেছিল রিয়াল। প্রথমবার এডেন হ্যাজার্ড ভালো জায়গায় বল পেয়ে মেরেছেন বাইরে দিয়ে। আর ডি মারিয়ার দ্বিতীয় গোল ৩৩ মিনিটে। ইদ্রিসা গানা গায়ের ডান দিক থেকে বল নিয়ে ডি মারিয়াকে দিয়েছিলেন ডিবক্সের ঠিক মাথায়। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সেখান থেকেই মেরেছেন নিখুঁত শট। রাতটা তখনই নিজের করে নিয়েছেন তিনি।


     

    পরের মিনিটেই সুযোগ পায় রিয়াল। হ্যাজার্ডের মতো মিস করেননি বেল। দারুণ এক ফিনিশে বল জালেই জড়িয়েছিলেন পিএসজির। কিন্তু তার আগে বল নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাত দিয়ে। তাই ভিএআরে অবধারিতভাবেই বাতিল হয় সেটা।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভালো একটা শুরু দরকার ছিল রিয়ালের। সেটা পেয়েছিলও তারা। কিন্তু সময়ের সাথে আবারও মিলিয়ে যায় রিয়ালের ধার। এরপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে পিএসজি। ম্যাচের সময় ঘন্টার কাঁটা ছোঁয়ার সময় হ্যাটট্রিক করে ফেলতে পারতেন ডি মারিয়া। এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন সে সময়, কিন্তু তখন আর নিখুঁত হতে পারেননি। মেরেছেন ওপর দিয়ে। হয়ত একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন!

    হ্যাটট্রিক না হলেও একটা অ্যাসিস্টও প্রায় জমা করে ফেলেছিলেন ডি মারিয়া নিজের নামের পাশে। পরের মিনিটে  ডি মারিয়ার কাছ থেকে পাস পেয়ে তখন পাবলো সারাবিয়া অল্পের জন্য লক্ষ্য মিস করে গেছেন। ডি মারিয়ার অবশ্য শেষে গিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তৃতীয় গোলেও অবদান আছে তার। তাছাড়া জোড়া গোলেই তো অনন্য একটি রেকর্ড হয়ে গেছে। চ্যাম্পিনস লিগের ইতিহাসে রিয়াল ও বার্সেলোনা দুই ক্লাবের বিপক্ষেই জোড়া গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার এখন তিনি।  

     

     

    চোট সমস্যা ছিল রিয়ালেও। সার্জিও রামোস, লুকা মদ্রিচরা ছিলেন না। নেইমার, এমবাপ্পে গ্যালারিতে বসে আমোদ করে খেলা দেখেছেন। পিএসজিকে ভুগতে না হলেও রিয়াল টের পেয়েছে হাড়ে হাড়ে। হ্যাজার্ড পুরোপুরি ফিট নন, তাকে জিদান তুলে নিয়েছিলেন ৭০ মিনিটে। একই সময়ে হামেস রদ্রিগেজের জায়গায় নামেন লুকা ইয়োভিচ। এরপর করিম বেনজেমা দারুণ দুইটি সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথমবার গোল করেও হতাশ হতে হয়েছে তাকে বদলি লুকাস ভাস্কেজের জন্য। অফসাইডে ছিলেন তিনি, তাই গোল বাতিল হয়েছে বেনজেমার। পরেরবার বেনজেমা নিজেই নিজেকে হতাশ করেছেন। ডানদিক আসা ক্রসে গোলটা বোধ হয় করাই উচিত ছিল বেনজেমার।

    শেষে রিয়াল গোলের জন্য আরও একটু হন্যে হয়ে ঘুরলে কাউন্টার অ্যাটাকে খেয়ে বসে আরেকটি। রিয়ালের রক্ষণে গিয়ে থমাস মুনিয়ের ও বার্নেট রীতিমত কে কাকে দিয়ে গোল করাবেন সেই প্রতিযোগিতায় মেতেছিলেন। শেষে বার্নেট ঠিক করেছেন, গোলটা মুনিয়েকে দিয়েই করাবেন। আর এসব অসহায়ের মতো ডাগ আউট থেকে দেখেছেন জিদান। শেষের মুহুর্তটাই পুরো ম্যাচের গল্প বলে দিয়েছে এক নিমিষে। পুরো ম্যাচে একটি শট অন টার্গেটও নেই রিয়ালের। সদ্য সাবেক রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস তাই পিএসজির গোলবারের নিচে আরামে কাটিয়েছেন পুরোটা সময়।

    ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও এক ম্যাচে গোলে কোনো শট না করার স্বাদ পেলেন জিদান। সেবার খেলোয়াড় হিসেবে, এবার কোচ। নড়বড় মৌসুমে তার দলকে নিয়ে এরপর শঙ্কিত হওয়ার লোক নিঃসন্দেহে বাড়বে আরও। জিদান কি জবাব দিতে পারবেন এবারও?