• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    নয়্যার-বিতর্কে জার্মানির জন্য কাউকে ছাড়বে না বায়ার্ন!

    গোলরক্ষক বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না জার্মানির। মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগান এবং ম্যানুয়েল নয়্যারের কে থাকবেন জার্মানির মূল গোলরক্ষক- তা নিয়ে আলোচনা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। টের স্টেগান দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও ইনজুরি থেকে ফেরা নয়্যারেই আস্থা রাখছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। টের স্টেগান প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। বার্সেলোনা গোলরক্ষকের এমন আচরণ এবং তাকে জাতীয় দলের মূল গোলরক্ষক হিসেবে দেখার দাবিতে বেশ চটেছেন বায়ার্ন মিউনিখ প্রেসিডেন্ট উলি হোয়েনেস। টের স্টেগান নয়্যারের বদলে জার্মানিতে খেললে বায়ার্নের আর কাউকে দেশের হয়ে খেলার জন্য না ছাড়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

     হোয়েনেসের ক্ষোভটা শুধু নয়্যারের ব্যাপারটি নিয়ে নয়। গত বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বায়ার্ন ত্রয়ী ম্যাটস হামেলস (বর্তমানে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলছেন), থমাস মুলার এবং জেরোম বোয়াটেংয়ের জাতীয় দলের দরজা বন্ধ ঘোষণা দিয়েছিলেন লো। হোয়েনেস মনে করেন; বায়ার্নের প্রতি বৈষম্য করছে 'ডি ম্যানশ্যাফট'রা, "ম্যানুয়েল গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বসেরা গোলরক্ষক। তার ধারেকাছে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কেউ নেই। সে ইনজুরিতে পড়েছিল বলে তার জায়গা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে- ব্যাপারটি হাস্যকর।"

     

     

    "কারণ গোলরক্ষক এবং আউটফিল্ড ফুটবলারদের মধ্যে তফাৎ আছে অনেক। আপনি চাইলেই প্রতি সপ্তাহে বা এক ম্যাচ পর পর গোলরক্ষক বদলাতে পারবেন না, এতে দলেরই ছন্দপতন হতে পারে। নয়্যারকে নিয়ে যা হচ্ছে, এর চেয়েও বাজেভাবে আমাদের তিন ফুটবলারকে রীতিমত জাতীয় দল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বায়ার্নের প্রতি জার্মান ফেডারেশনের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। টের স্টেগান নয়্যারের জায়গায় খেললে জাতীয় দলে খেলার জন্য বায়ার্নের ফুটবলারদের ছাড়ব না আমরা।"

    নয়্যার-টের স্টেগান বিতর্কে দক্ষিণ জার্মানি প্রেসের অবস্থানকে একহাত নিয়েছেন হোয়েনেস, "পশ্চিম জার্মানি টের স্টেগানের ব্যাপারে এমনভাবে কথা বলে যেন সে ১৭টি বিশ্বকাপ জিতে বসে আছে। কিন্তু নয়্যারের পক্ষে দক্ষিণ জার্মানির কোনও সমর্থন নেই। বিশ্বকাপ জেতানো গোলরক্ষকের প্রতি এতটুকু শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা নেই তাদের।" টের স্টেগান, নয়্যারের দর কষাকষি অনেকদিন ধরে চললেও কখনও মিডিয়ায় এসে নিজের মনোভাব প্রকাশ করেননি কেউই। কিন্তু বার্সার হয়ে চমৎকার ধারাবাহিকতা দেখালেও নেদারল্যান্ডস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইপর্বে জার্মানির শেষ দুই ম্যাচে সুযোগ পাননি টের স্টেগান। ইনজুরি থেকে ফেরা নয়্যারই ছিলেন গোলরক্ষকের দায়িত্বে। এরপর যেন ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে টের স্টেগানের, "লোয়ের দলে সুযোগ পেতে হলে আর কী করা লাগতে পারে, সেটা জানা নেই আমার।"

     

     

     

    বার্সা গোলরক্ষকের প্রকাশ্যে এমন মন্তব্যে কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন নয়্যার, টের স্টেগানের এমন মন্তব্য দলের জন্য ইতিবাচক নয় বলে ফিরতি জবাব দিয়েছিলেন তিনি। নয়্যারের ব্যাপারে টের স্টেগেন এভাবে কথা বলায় আরও চটেছেন হোয়েনেস, 'দলের ভেতরের ব্যাপার নিয়ে শুধুমাত্র কোচের সাথেই আলোচনা করা উচিত ছিল টের স্টেগানের। এভাবে প্রকাশ্যে বলা ঠিক হয়নি তার। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে সে। এজন্য তার উচিত নয়্যারের কাছে ক্ষমা চাওয়া।"

     

     

    অবশ্য হোয়েনেসের জাতীয় দলের জন্য ফুটবলারদের না ছাড়ার হুমকি ধোপে নাও টিকতে পারে। কারণ, ফিফার নিয়মানুযায়ী; জাতীয় দলে ডাক পড়লে ফুটবলারদের যোগ দিতেই হবে। এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই ক্লাবের কারোই। জার্মান ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অলিভার বিয়েরহফও নিশ্চিত করেছেন ব্যাপারটি। যার দলে এত বিতর্ক; সেই লোকেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড। জার্মান কোচ জানিয়েছেন, "হোয়েনেসের হুমকিতে দল নিয়ে আমার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।"