• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    বার্নাব্যু থ্রিলারে রিয়ালের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনল ব্রুজ

    চ্যাম্পিয়নস লিগ

    ফলাফল রিয়াল মাদ্রিদ ২-২ ক্লাব ব্রুজ


    প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম হারের পর দারুণভাবে ছন্দে ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। যা নিয়ে 'লস ব্লাঙ্কোস'দের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা, সেই রক্ষণও রুখে দিয়েছিল সেভিয়া, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মত দলগুলোকে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ ফিরতেই যেন রিয়ালকেও পেয়ে বসল পুরনো জুজু। দূর্বল রক্ষণ, বিবর্ণ আক্রমণ- যেন পিএসজি ম্যাচেরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৯-২০ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও হারতে বসেছিল রিয়াল; কিন্তু কাসেমিরোর শেষদিকের গোলে অল্পের জন্য মান বাঁচিয়ে ফিরেছে তারা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্লাব ব্রুজের কাছে ২-২ গোলে ড্র করেছে রিয়াল।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এবারই প্রথম গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকল তারা। নিজেদের মাঠে শেষ দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচেই হেরেছিল রিয়াল (সিএসকেএ মস্কো, আয়াক্স)। আরেকটু হলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্নাব্যুতে রিয়ালকে হারের 'হ্যাটট্রিক' উপহার দিতে ব্রুজ। ৮৪ মিনিটে রিয়ালের বদলি ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রুজ অধিনায়ক ভরমির। ঐ ফ্রিকিক থেকেই হেড করে দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। প্রথমার্ধে এমানুয়েল বনাভেনচুরের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সার্জিও রামোস এবং শেষে কাসেমিরোর গোলে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম পয়েন্ট পেল রিয়াল।

    ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে গ্যারেথ বেল এবং হামেস রদ্রিগেজকে বিশ্রামে রেখেছিলেন জিদান। একাদশে ফিরেছিলেন লুকাস ভাজকেজ এবং লুকা মদ্রিচ। শক্তিশালী রিয়ালের বিপক্ষে বার্নাব্যুতে এতটুকু দমে যায়নি বেলজিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে লিডটাও নিয়েছিল তারাই। ১০ মিনিটে টাউয়ের ক্রসে ডিবক্সে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে একা পেয়ে যান এমানুয়েল বনাভেনচুর। টাউয়ের ক্রসে বনাভেনচুরের মিসহিট কর্তোয়া গোল বাঁচাতে ডাইভ দিয়ে দেওয়ায় সৌভাগ্যক্রমে জড়ায় রিয়ালের জালে। প্রথমে অফসাইডে গোল বাতিল করলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, ক্রসের সময় অনসাইডেই ছিলেন টাউ। রেফারির সিদ্ধান্ত বদল করে গোলের সিদ্ধান্ত দেয় 'ভিএআর'৷

     

    "সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে..."

    -বনাভেনচুরের উদযাপন দেখেই হয়তো এমনটাই ভাবছিলেন রিয়াল সমর্থকেরা

     

    নিজেদের মাঠে আবারও হারের চোখরাঙানিতে নড়েচড়ে বসে রিয়াল। ২৫ মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারত তারা, কিন্তু টনি ক্রুসের কর্নার থেকে রাফায়েল ভারানের হেড অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দেন ব্রুজ গোলরক্ষক সিমন মিনিওলে৷ প্রথম গোলে ভুল করলেও ৩৪ মিনিটে কিছুটা হলেও শাপমোচন করেন কর্তোয়া। প্রতি-আক্রমণে টাউয়ের শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। পুরো প্রথমার্ধ প্রতি-আক্রমণে রিয়ালের ডিফেন্ডারদের রীতিমত নাচিয়ে ছেড়েছেন ডেনিস-টাউরা। ৪০ মিনিটে এমনই এক প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বনাভেনচুর।

    মদ্রিচের ভুলে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ডিবক্সে ঢুকে পড়েন বনাভেনচুর। প্রথম গোলের মত এবারও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি, কিন্তু এগিয়ে আসা কর্তোয়াকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি। নিজেদের ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এবারই প্রথম টানা তিন ‘হোম’ ম্যাচে ২ বা তার অধিক গোল হজম করল রিয়াল। রিয়ালের কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটেটা এরপরই দেন বনাভেনচুর, বার্নাব্যুর কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে গোল উদযাপনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ট্রেডমার্ক ‘সিইইইইউ’ উদযাপনকেই বেছে নেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষে সমর্থকদের দুয়ো শুনেই মাঠ ছাড়তে হয় জিদানের দলকে।

     

    "আর একটা গোল দরকার!"

    -দলকে সমতায় ফেরানোর পর সতীর্থদের উদ্দেশ্যে কাসেমিরো

     

    প্রথমার্ধ শেষে দুই গোলে পিছিয়ে আছে দল, দরকার গোল। এমন সময় সবাইকে চমকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলরক্ষক বদল করেন জিদান; কর্তোয়াকে উঠিয়ে আলফন্স আরিওলাকে নামিয়ে দেন তিনি। ম্যানেজারের আস্থার প্রতিদানটাও দিতে ভোলেননি আরিওলা। ৪৯ মিনিটে রামোসের ভুলে আরিওলাকে একা পেয়ে যান টাউ; কিন্তু অসাধারণ সেভে ব্রুজকে ব্যবধান বাড়াতে দেননি তিনি। আরিওলার সাথে নাচো ফার্নান্দেজের বদলে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মার্সেলোকেও নামিয়ে দিয়েছিলেন জিদান। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় যেন লেফট উইঙ্গার হিসেবেই খেলেছেন তিনি।

    মৌসুমের অন্যান্য ম্যাচের মত এবারও চরম হতাশ করেছেন এডেন হ্যাজার্ড। বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডের আরও এক নিষ্প্রভ দিনে ফুলব্যাক এবং লেফট উইঙ্গার- দুই রোলেই খেলতে হয়েছে মার্সেলোকে। কাজটা দারুণভাবে করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক। সমতায় ফিরতে মরিয়া রিয়ালকে ৫৫ মিনিটে আশার আলো দেখান অধিনায়ক রামোস; করিম বেনজেমার ক্রসে হেড করে ব্যবধান কমান তিনি। এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলেছে ব্রুজ। ছোট ছোট পাসে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল।

    তাই দূরপাল্লার শট বা ক্রসনির্ভর খেলাই খেলতে হয়েছে তাদের। ৬৪ মিনিটে আরেকটু হলেই সফল হতেন মদ্রিচ; কিন্তু তার জোরাল শট দক্ষহাতে ফিরিয়ে দেন মিনিওলে। মিনিট দশেক পর আবারও সেটপিস থেকে রামোসের হেড; এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান বেলজিয়ান গোলরক্ষক। জাতীয় দলে কর্তোয়ার ‘আন্ডারস্টাডি’ বার্নাব্যুতে এসে ছাড়িয়ে গেলেন কর্তোয়াকেই। শেষ পর্যন্ত হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরেছে রিয়াল; সমতায় ফেরার পর জয়সূচক গোলেরও চেষ্টা চালিয়েছিল তারা। কিন্তু ব্রুজ রক্ষণব্যূহ আর ভেদ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দু’দলকে।