• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    টটেনহামকে সাত গোল দিয়ে শাসিয়ে গেল গ্যানাব্রির বায়ার্ন

    চ্যাম্পিয়নস লিগ
    গ্রুপ 'বি'
    টটেনহাম ২-৭ বায়ার্ন মিউনিখ


    নর্থ লন্ডনে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। কাপ কম্পটিশনে যেমনটা হয় আর কী। প্রথমার্ধই দেখল তিন গোল। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। তবে টটেনহাম হটস্পার ভালো মতোই ম্যাচে টিকে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ এক লড়াই হতে পারত। হলো না সাবেক আর্সেনাল উইঙ্গার হুট করে অতিমানব হয়ে যাওয়ায়। দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে বায়ার্নকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্দয় বায়ার্ন থামেনি সেখানেও, দ্বিতীয়ার্ধে গুণে গুণে মোট ৫ গোল দিয়েছে তারা। নর্থ লন্ডনে এসে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা শাসিয়ে গেছে টটেনহামকে।

    অথচ ম্যাচের হাব-ভাবে প্রথম ৪৫ মিনিটে এরকম কিছুর ইঙ্গিত ছিল না। টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিট দেখেছে মোট ৯টি শট অন টার্গেট। এর ভেতর চারটি একদলের, পাঁচটি অন্য দলের। কে জানত এটাই হবে ম্যাচ শেষে মোট গোল সংখ্যা।

    দুই প্রান্তের দুই বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক হুগো লরিস ও ম্যানুয়েল নয়্যার দুর্দান্ত সব সেভ করে যাচ্ছিলেন। শুরুটা করেছিলেন গ্যানাব্রিই। লরিসকে তখন ভালো সেভে আটকাতে হয়েছে তাকে। অন্যপ্রান্তে হিউং মিন সন এরপর আটকে গেছেন নয়্যারে। ১২ মিনিটে ম্যাচ দেখেছে প্রথম গোল। সেটা নিয়ে কিছুটা আফসোস থাকতে পারে নয়্যারের। সনের কোনাকুনি শট হাতের নিচ দিয়ে ঢুকে গেছে তখন বায়ার্নের গোলে।

    অমন শুরুর পর শেষটা এমন বিদঘুটে হবে সেটা ভাবেনি টটেনহাম। ভাবার আসলে কারণও ছিল না। যদিও সনের গোলের ১৯৪ সেকেন্ডের মাথায় জশুয়া কিমিচ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে ততোক্ষণে বায়ার্নকে ফিরিয়ে এনেছিলেন ম্যাচে। এরপরও একপেশে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল না। কারণ প্রথমার্ধে বাকিটা সময় টটেনহাম ছিল সমান তালে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছিল বায়ার্নের সঙ্গে। টাঙ্গি এনদম্বেলেকে দারুণ এক সেভে নয়্যার ফিরিয়ে না দিলে তখন আরেকবার লিড নিত টটেনহাম।

    নয়্যারের সেভের পুরো ফায়দা লুটে প্রথমার্ধ শেষের আগেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন। রবার্ট লেভানডফস্কি থ্রো থেকে দারুণ এক ফ্লিকে আক্রমণের সূচনা করেছিলেন। এরপর তিনিও বক্সের মাথা থেকে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করেন ৪৫ মিনিটে।


     

    ম্যাচ দেখে যে যা ভেবেছিলেন সব হিসেব নিকেশ পালটে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। শুরু হয় গ্যানাব্রি শো। আর টটেনহামের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার খেলা। গ্যানাব্রি প্রথম গোল করেন ৫৩ মিনিটে, মিডফিল্ড থেকে দৌড় শুরু করে বক্সের ভেতর ঢুকে কাট করে ডান পায়ের শটে। কিছুক্ষণ পর হ্যারি উইংক্সের ভুল থেকে টটেনহামের আক্রমণভাগে বল পান কিংসলে কোমান। পাস বাড়ান গ্যানাব্রিকে, তিনি এরপর করেন নিজের দ্বিতীয় গোল।

    টটেনহাম অবশ্য এরপর একটি পেনাল্টি পেয়ে কিছুটা আশা দেখছিল। হ্যারি কেইন গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন। কিন্তু এ রাতে আর কোনো রূপকথা হয়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার আপদের। যা হয়েছে সেটা এরপর ভুলে যেতে চাইবেন মাউরিসিও পচেত্তিনো। ৮৩ থেকে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত সময়ে আরও তিন গোল হজম করে স্কোরলাইনটা নিমিষেই একপেশে বানিয়ে ফেলে বায়ার্ন। আর হতভম্ভ টটেনহাম শুধু বল কুড়িয়ে এনে কিক অফের জন্য মাঠের মাঝ বরাবর গেছে, শেষ বাঁশি বাজলেই যেন স্বস্তি

    গ্যানাব্রি হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন ৮৩ মিনিটে। এরপর বায়ার্ন ছেলেখেলা করেছে টটেনহামকে নিয়ে। ৮৫ মিনিটে লেভানডফস্কি করেছেন নিজের দ্বিতীয় গোল, অনেকটা অনুশীলনের ছলে। আর ৮৭ মিনিটে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন আবার গ্যানাব্রি।

    বড় টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠে এতো অস্বস্তিকর ব্যবধানের হার আগে কখনও আসেনি টটেনহামের। ঘরের মাঠে সাত গোলও হজম করল তারা এবার প্রথম। এরপর ঘোরেই থাকার কথা কেইনদের। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে খেলার মধুচন্দ্রিমা ফুরিয়ে এসেছে তাদের। লিগের বাজে ফর্মের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের এমন হারের পর হয়ত টটেনহামে ওলট-পালট হবে অনেক কিছুই। পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনাও ঝুলে গেল দুই ম্যাচ শেষে, প্রথম ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে ড্র করার পর টটেনহাম এখন আছে পয়েন্ট টেবিলের তিনে। দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বায়ার্ন সবার ওপরে।