• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    জোড়া গোলে জুভেন্টাসকে উদ্ধার করলেন দিবালা

    মৌসুমের প্রথম হার চোখ রাঙাচ্ছিল জুভেন্টাসকে। তাও ঘরের মাঠে, লোকোমোটিভ মস্কোর বিপক্ষে। দুই মিনিটে চোখের পলকে সেখান থেকে জুভেন্টাসকে উদ্ধার করেছেন পাউলো দিবালা। জোড়া গোল করে রাশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের স্বপ্ন ভেঙেছেন। জুভেন্টাস জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচ শেষে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সমান সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থেকে গেছে জুভেন্টাস। 

    এরপর দলে দিবালার জায়গা নিয়ে আরেকবার ভাবতেই হচ্ছে মাউরিসিও সারিকে। লোকোমোটিভের বিপক্ষে একাদশে বিরল এক সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন দিবালা। অবশ্য বাকিদের মতো তিনিও ধুঁকছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সহজ এক সুযোগ হাতছাড়াও করেছিলেন। প্রথমার্ধের গোলে তাই অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে জয় দেখছিল লোকোমোটিভ।

    লোকোমোটিভের জমাট রক্ষণ ভাঙতে দুর্দান্ত কিছুই করতে হত জুভেন্টাসকে। সেই কাজটাই করেছেন দিবালা ৭৭ মিনিটে। বক্সের ভেতর ঢোকাই যখন কঠিন হয়ে যাচ্ছিল তখন সুযোগ বুঝে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাম পায়ের বাঁকানো শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। চোখ ধাঁধানো ওই গোলেই কাজ শেষ হয়নি দিবালার।

    দুই মিনিট পর আরও দূর থেকে গোলে শট করেছিলেন লেফটব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো। লোকোমোটিভ গোলরক্ষক গুইলহেরেম শট ঠেকিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু গতি ছিল সান্দ্রোর শটে। তাই ঠেকানোর পর সেটা চলে যায় সিক্স ইয়ার্ড বক্সের কোণায়। দিবালা ছিলেন সতর্ক। ফাঁকা বারে বল ঢুকিয়ে দিয়ে বাকি কাজ সেরেছেন তিনি।

    ওই গোলের পরই বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন দিবালা। সারি অবশ্য এর আগেই আরও দুইটি পরিবর্তন করিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে দুই মিনিট পরই সামি খেদিরার বদলি হয়ে মাঠে নেমেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়াইন। আদ্রিয়েন রাবিওকে নামিয়েও মিডফিল্ডে ধার বাড়িয়েছিলেন সারি। আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, দিবালা, হিগুয়াইন মিলে জুভেন্টাসকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন এরপর থেকে। কিন্তু করলুকা-হাউদেসের ডিফেন্সিভ জুটিই বারবার হতাশ করে যাচ্ছিল তাদের।

    সেই সুযোগে তুরিনের মাঠে ঘরের সমর্থকদের চেয়ে লোকোমোটিভের তিন হাজার সমর্থকরা উল্লাস করে যাচ্ছিলেন বারবার। অবশ্য কারণ ছিল সেটার পেছনে। ম্যাচের আধঘন্টার সময় তুরিনকে চমকে দিয়ে লোকোমোটিভকে এগিয়ে নিয়েছিলেন আলিস্কি মিরানচুক। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বক্সের ভেতর ঢুকে হোয়াও মারিও করেছিলেন শট, সেটা ভোজায়েক সেজনি ঠেকিয়ে দিলেও ফলো থ্রুতে পেয়ে বাম পায়ের জোরালো ফিনিশে গোল পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

    এগিয়ে যাওয়ার পর আর লোকোমোটিভ আক্রমণে ওঠেনি তেমন। খেলা চলেছে একই ধারায়। জুভেন্টাস বল পজেশন রেখেও বারবার ফিরে আসছিল গোলের অনেক দূর থেকে। আর সেটা আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছিল লোকোমোটিভের। জয় পেয়ে গেলে জুভেন্টাসকে টপকে দুই নম্বরে উঠে যেতে তারা। শেষে অবশ্য সবকিছু হাতছাড়া হয়েছে তাদের দিবালার কাছে।

    গ্রুপের অন্য খেলায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও জিতেছে এক গোলের ব্যবধানে। বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন আলভারো মোরাতা।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন