• ইউরো বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ইউরোতে ওয়েলস, জয়ে শেষ জার্মানির বছর

    ফুল-টাইম

    ওয়েলস ২-০ হাঙ্গেরি

    জার্মানি ৬-১ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড

    নেদারল্যান্ডস ৫-০ এস্তোনিয়া

    বেলজিয়াম ৬-১ সাইপ্রাস


    জিতলেই ইউরো ২০২০ মূলপর্বের টিকেট নিশ্চিত- এই সমীকরণ নিয়েই কার্ডিফ সিতি স্টেডিয়ামে হাঙ্গেরির মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েলস। 'ই' গ্রুপে নিজেদের মাঠে সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে রায়ান গিগসের দল, হাঙ্গেরিকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ইউরোর মূলপর্বে চলে গেল তারা। ওয়েলসের উল্লাসের রাতে বড় জয় পেয়েছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়াম।

    নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই হাঙ্গেরিকে চেপে ধরেছিল ওয়েলস। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে গ্যারেথ বেল, ড্যানিয়েল জেমসদের গতির সামনে অসহায় মনে হয়েছে হাঙ্গেরিয়ানদের। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই লিড নেয় ওয়েলস। বেলের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে ওয়েলসের স্বপ্নকে বাস্তবতার দিকে একধাপ এগিয়ে নেন অ্যারন রামসি। জুভেন্টাসের হয়ে এখনও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি, কিন্তু দেশের প্রয়োজনের সময় দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সে আবারও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন রামসি। প্রথমার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণও করতে পারত ওয়েলস। কিন্তু গোলমুখে কিফার মুর সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বেশকিছু। অবশ্য প্রথমার্ধে সমতায় ফেরারও একাধিক সুযোগ পেয়েছিল হাঙ্গেরি, কিন্তু ওয়েলশ গোলরক্ষক ওয়েন হেনেসি ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ডাবল সেভে সালাই-জুজাকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

     

     

    প্রথমার্ধে লিড নিয়ে ফেরা ওয়েলস দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল। কর্নারের পর জটলা থেকে বল পেয়ে আবারও জাল খুঁজে নেন রামসি। অবশ্য ওয়েলসের দ্বিতীয় গোল নিয়ে বিতর্ক আছে বেশ, রামসির পায়ে বল আসার আগে অফসাইডে থেকে পরোক্ষভাবে খেলাইয় প্রভাব ফেলছিলেন মুর। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফেরা হয়নি হাঙ্গেরির। ৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার পর রানার্স আপ হয়ে মূলপর্ব নিশ্চিত করল গিগসের দল।

    ওয়েলসের মত সহজ জয় পেলেও 'সি' গ্রুপে নিজেদের মাঠে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েছিল জার্মানি। ম্যানুয়েল নয়্যারের বদলে জার্মানির গোলবার রক্ষায় নেমেছিলেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই ক্লিনশিট রাখার স্বপ্ন হাতছাড়া হয় তার। টনি ক্রুসের ভুলে জার্মান ডিবক্সে বল পেয়েই স্টেগানকে পরাস্ত করেন মাইকেল স্মিথ। পিছিয়ে পড়লেও মিনিট দশেক পর দলকে সমতায় ফেরান সার্জ গ্যানাব্রি, লেফটব্যাক জোনাস হেক্টরের মাইনাস দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে গোল করেন তিনি।

    প্রথমার্ধে শেষদিকে লিওন গোরেৎস্কার গোলে লিড নেয় জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধে আইরিশদের ফেরার সব স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ করে দেন গ্যানাব্রি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে জোড়া গোলে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। শেষদিকে আবারও গোল করেন গোরেৎস্কা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন জুলিয়ান ব্রান্ডট। ৮ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপচ্যাম্পিয়ন হয়েই ইউরো মূলপর্বে গেল জোয়াকিম লোয়ের দল।

     

     

    জার্মানির মত বড় জয়ে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। আয়াক্সের মাঠ ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনাতে ম্যাচের ৬ মিনিটেই কুইন্সে প্রোমিসের ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে নেন জর্জিনিও ওয়াইনাল্ডাম। গোলের পর উদযাপনটাও দুর্দান্ত ছিল লিভারপুল মিডফিল্ডারের। বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের সাথে গোলের পেছনে ক্যামেরার দিকে পাশাপাশি হাত দেখিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায় ডাচ দল। ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাথান আকে, মেম্ফিস ডিপাইয়ের ক্রস থেকে গোল করেন তিনি।

    প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নেওয়া নেদারল্যান্ডসের পরের গোলও আসে ওয়াইনাল্ডামের পা থেকে। ৭৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকও পূরণ করেন লিভারপুল মিডফিল্ডার, প্রতি-আক্রমণে স্টেঙ্কসের পাস থেকে চমতকার বাঁকানো শটে গোল করেন ওয়াইনাল্ডাম। ম্যাচের শেষদিকে ডাচদের পঞ্চম গোল করেন অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড মো বোয়াদু। ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স আপ হয়ে মূলপর্বে যাচ্ছে কোমেনের দল।

    শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করেছিল ইতালি। এবার 'আই' গ্রুপে সাইপ্রাসকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে দুর্দান্ত এক বাছাইপর্ব শেষ করল বেলজিয়াম। জার্মানির মতই নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল বেলজিয়ানরা, কিন্তু হ্যান্স ভ্যানসেকেনের গোলে ১০ মিনিটেই সমতায় ফেরে রবার্তো মার্টিনেজের দল।

    ম্যাচের ৩৬ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ১-১ হলেও প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটের ঝড়ে উড়ে যায় সাইপ্রাস। জোড়া গোল করেন কেভিন ডি ব্রুইন, ইয়ানিক ফেরেরা-কারাস্কোও খুঁজে পান জাল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আত্মঘাতী গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে সাইপ্রাস। ৬৮ মিনিটে বাছাইপর্বে নিজেদের ৪০তম গোল করেন বেন্টেকে, বেলজিয়াম পায় ৬-১ গোলের বিশাল জয়।

    রাতের অন্যান্য খেলায় স্লোভেনিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পোল্যান্ড, সান মারিনোর মাঠে রাশিয়া জিতেছে ৫-০ ব্যবধানে। কাজাখস্তানকে স্কটল্যান্ড হারিয়েছে ৩-১ গোলে।