• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X

     

    রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মেস্তায়া থেকে ড্র নিয়ে ফিরল চেলসি

    ফুল-টাইম

    ভ্যালেন্সিয়া ২-২ চেলসি


    আয়াক্সের সাথে আগের ম্যাচ ৪-৪ গোলে ড্র করেছিল চেলসি, লিলেকে নিজেদের মাঠে হারিয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। ৪ ম্যাচ শেষে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষ তিন দলের পয়েন্ট ছিল ৭। এস্তাদিও মেস্তায়ায় তাই পরের রাউন্ডে যাওয়ার রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নেমেছিল চেলসি-ভ্যালেন্সিয়া। আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ, পেনাল্টি মিস, গোলের সুযোগে ঠাসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি কেউই। ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।

    চেলসি-ভ্যালেন্সিয়া ড্র করায় গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ এসেছে সুযোগ আয়াক্সের সামনে। লিলেকে হারিয়ে দিলে ৫ ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্ট হবে ডাচ চ্যাম্পিয়নদের, সমান ৮ পয়েন্ট হলেও হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় দুইয়ে থাকল ভ্যালেন্সিয়া। মেস্তায়াতে অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে সমানে সমান টেক্কা দিয়েছে দু’দল। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে গোলের নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিল চেলসি, ভ্যালেন্সিয়া দু’দলই। কিন্তু গোলমুখে আব্রাহাম-গোমেজরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি একেবারেই।

    আব্রাহামের চেয়ে হয়তো হতাশাটা বেশি গোমেজেরই। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে চেলসি গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। তবে সেজন্য অবশ্য ভুগতে হয়নি ‘লস চে’দের, ৪০ মিনিটে লিড নিয়েছিল স্বাগতিকরাই। ডানপ্রান্ত থেকে রদ্রিগো মরেনোর ক্রস থেকে কেপাকে পরাস্ত করেন কার্লোস সোলের। কিন্তু মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার লিড নেওয়ার উল্লাস স্থায়ী হয়নি এক মিনিটও।

     

    ক্যাপ্টেন আমেরিকা!

     

    গোল হজমের পরের আক্রমণ থেকেই দলকে সমতায় ফেরান মাতেও কোভাসিচ। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে ভ্যালেন্সিয়াকে। সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করলেও পুরোপুরি নির্ভার থাকতে পারেননি চেলসি ম্যানেজার ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। যোগ করা সময়ে পাঁজরের ইনজুরিতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়েছেন স্ট্রাইকার ট্যামি আব্রাহাম, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার বদলি হিসেবে নেমেছিলেন মিচি বাতশুয়াই।

    বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে দলের মূল স্ট্রাইকারকে হারিয়েও ভেঙে পড়েনি চেলসি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লিড নিয়েছিল ল্যাম্পার্ডের দলই। উইলিয়ানের কর্নার থেকে কার্ট জুমার হেড পাওয়া বল আলতো টোকায় ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঠিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, পুলিসিচকে অনসাইডে রেখেছিলেন ‘লস চে’ ডিফেন্ডার এজেকুইল গারায়। রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে গোলের সিদ্ধান্ত দেয় ভিডিও রেফারি। এতক্ষন উৎসবমুখর মেস্তায়ার উল্লাস মিলিয়ে যায় মুহূর্তেই।

     

    ওয়াট আ হিট, সন!

     

    কিন্তু চেলসির মত হাল ছাড়েনি তারাও। দুর্দান্ত সব আক্রমণে চেলসির রক্ষণভাগকে রীতিমত নাচিয়ে ছেড়েছিল তারা। ৬৫ মিনিটেই সমতায় ফেরার দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। ডিবক্সে হোসে গায়াকে ফাউল করে বসেন জর্জিনহো, পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু ১২ গজ থেকে অবিশ্বাস্য সেভে ভ্যালেন্সিয়া অধিনায়ক দানি পারেহোকে পরাস্ত করেন কেপা। ম্যাচের শেষদিকে লিড ধরে রাখতে ৪-৫-১ ফর্মেশনে দলকে খেলিয়েছেন ল্যাম্পার্ড, কিন্তু লাভ আর হয়নি। ৮২ মিনিটে পারেহোর পাসে ডানপ্রান্ত থেকে অবিশ্বাস্য এক শটে দলকে সমতায় ফেরান ভ্যালেন্সিয়া রাইটব্যাক দানিয়েল ওয়াস।

    ম্যাচে নাটক বাকি ছিল তখনও। একেবারে ৯০ মিনিটে কর্নার থেকে বাতশুয়াইয়ের হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গারায়। তবে খুব সম্ভবত দ্বিতীয়ার্ধের সেরা সুযোগটা আক্ষরিক অর্থেই ম্যাচের শেষ মিনিটে পেয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু গায়ার চমৎকার ক্রসে কেপাকে একা পেয়েও শট বাইরে মেরেছেন রদ্রিগো। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল দুই দলকে।

    গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তলানীর দল লিলেকে আতিথেয়তা দেবে চেলসি। আয়াক্সের মাঠে খেলবে ভ্যালেন্সিয়া। পুরো মৌসুমে নিজেদের মাঠে মাত্র একবার হেরেছে আয়াক্স, তাও চেলসির কাছে। আপাতত ‘এইচ’ গ্রুপের তিন-এ থাকলেও তাই হয়তো পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে চেলসি।