• বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ
  • " />

     

    জার্মানির সঙ্গে সেই ম্যাচের পর যা করেছিলেন সিজার

    ঢাকায় এসেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে। ২৩ জানুয়ারি সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন হুলিও সিজার। লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচটি দেখা। সিজার বঙ্গবধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বসে বাংলাদেশ-বুরুন্ডির সেমিফাইনাল দেখেছেন। বাংলাদেশ অবশ্য বুরুন্ডির কাছে হেরে আর ফাইনালে উঠতে পারেনি। তবে হুলিও সিজার যা বলে গেছেন সেটা হারের পরও নতুন প্রেরণা যোগাতে পারে বাংলাদেশকে।

    সাবেক ব্রাজিল ও ইন্টার মিলান গোলরক্ষকের ক্যারিয়ার শিরোপায় মোড়ানো। ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের হয়ে ইতিহাস গড়া ট্রেবলও জিতেছিলেন তিনি। হয়েছিল ২০১৩ কনফেডারেশন কাপের সেরা গোলরক্ষকও। তবে এসবের মাঝেও ২০১৪ বিশ্বকাপের ব্রাজিল-জার্মানির সেমিফাইনালটা সিজারের জন্য বড় হতাশার কারণ হয়ে থেকেছে। ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে উড়ে যাওয়া ম্যাচটিতে ব্রাজিলের গোলবারের নিচে গোলবারের ছিলেন সিজার।



    বাফুফে ভবনে  সংবাদ সম্মেলনের  শুরুতেই মজা করে সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেছিলেন, "দেখো আমাকে কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানির সঙ্গে ওই ম্যাচ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না"- বলে নিজেই উচ্চস্বরে হেসেছেন কিছুক্ষণ। এর পর বলেছেন, "নিছকই মজা করেছেন।"  

    পরে নিজেই জানিয়েছেন কীভাবে ওই ম্যাচের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি, “ওই ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেনি। ওই মুহুর্তটা আমার আর আমাদের জন্য অতিবাস্তবের মতো ছিল। ওই ম্যাচে কী হয়েছিল সেটা কেউ বুঝতে পারেনি। ড্রেসিংরুমে সবাই চুপচাপ ছিল কেউ কেউই অনেক কেঁদেছিল। যারা কেঁদেছিল তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম।" 

    "ফুটবলে এমনটা হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আপনি ওটা ভুলতে পারবেন না। আপনাকে সামনের দিকে তাকাতে হবে। মাথা উঁচু করে সামনে এগুতে হবে। ওই বিশ্বকাপে অনেক তরুণ ছিল। তাদের ২০১৮ তে আরেকটি সুযোগ ছিল। আমার জন্য ওটাই শেষ সুযোগ।"

    ২০১৪ বিশ্বকাপের পর আর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চড়াননি সিজার। তবে জার্মানির কাছে হারের পর আরও কষ্টের ছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ খেলতে নামা- সিজার নিজেই জানিয়েছেন সেটা। নেদারল্যান্ডসের কাছেও ৩-০ গোলে হেরে পরে চতুর্থ হয়ে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ শেষ করেছিল ব্রাজিল। 

    "সবচেয়ে কঠিন ছিল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফিরে আবার তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ খেলা। আমি কখনও অমন ম্যাচ খেলেনি। কারণ সেমিতে উঠলেই আমি ক্যারিয়ারে ফাইনালে খেলেছি।" 

    তবে জীবন যতই কঠিন হোক ভালোবাসার কাজটা করে যেতে বলেছেন এই কিংবদন্তী গোলরক্ষক। জীবনের অপ্রত্যাশিত গল্পের কাছেও হারতে মানা তার, "জীবনে এরকম কিছু ঘটতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ মাথা উঁচু করে যা ভালোবাসো সেটাই করে যাওয়া উচিত।" 

    সেমিফাইনালে হারের হতাশাটা সিজারের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা নয় আশরাফুল ইসলাম রানাদের। আপাতত সিজারের এই কথাগুলো থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় খুঁজতে পারেন তারা।