• বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্কুল ক্রিকেট
  • " />

     

    সিলেটে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পাইলট হাই স্কুলের

    দিনশেষে নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে সিলেট পিডিবি হাই স্কুলের ছেলেরা। প্রথমে ব্যাট করে তায়েফের (৭১) ব্যাটে ভর করে ১৮৮ রানের ছোট স্কোর, সেটাকেও একসময় পর্বতসম মনে হচ্ছিলো সিলেটের পাইলট হাই স্কুলের কাছে। পিডিবির বোলারদের সামনে যে এক ইফতিখার (৬৯) বাদে দাঁড়াতে পারছিলেন না কেউই! এক পর্যায়ে মাত্র ১৭১ রানের মাথায় ৯ টি উইকেট খুঁইয়ে বসে তারা। ইফতিখারও ফিরে গেছেন ততক্ষনে, নেই কোন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান। জিততে তখনও ১৮ রান বাকি, হাতে ১৫ বল। কিন্তু শেষ উইকেটটি আর ফেলতে পারেনি পিডিবির ছেলেরা। দশম ব্যাটসম্যান ইমতিয়াজ (৭*) আর শেষ ব্যাটসম্যান ফাহিমের (৫*) ব্যাটে ভর করে ১ উইকেটের জয়ে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ে পাইলট হাই স্কুলের ছেলেরা, হাতে তখনও ছিল ৫ বল।

    প্রাইম ব্যাংক বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আজ ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে সিলেট দেখেছে এই নখ কামড়ানো ম্যাচ। ম্যাচটি যেন আসলে ছিল দুই স্কুলের দুই জনের ব্যাটিং বীরত্বের গল্প। পিডিবি স্কুলের সর্বোচ্চ রান স্কোরার তায়েফ, ১২টি চারের সাহায্যে তার ১২৬ বলের ইনিংস বাদে দুই অংক ছুঁয়েছেন মাত্র ৩ জন! অন্যদিকে পাইলট স্কুলের ইনিংসটিও প্রায় একই, ইফতিখারের ১১৩ বলে ১০টি চারে মোড়ানো ৬৯ রানের ইনিংসের সাথে এক সায়েম (৩৬) ছাড়া যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি কেউই।

    পিরোজপুরে হেরে গেছে তেজদাসকাঠী স্কুল। আগের দিনের নায়ক জাহিদুল আজ করতে পারেননি কিছুই, ওপেন করতে নেমে আউট হয়েছেন মাত্র ৩ রান করে। অন্য ওপেনার সাব্বিরের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০, আর অতিরিক্তের খাতায় ছিল ৩০ রান। তারপরও হুলারহাট স্কুলের ছুঁড়ে দেয়া ১২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে তারা অলআউট ৮২ রানে। সাব্বির বাদে বাকি ১০ জনের ২২ রানও করতে না পারা টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য অশনী সংকেত হিসেবেই দেখতে পারে তেজদাসকাঠী দলের কর্মকর্তারা। হুলারহাট স্কুলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেয় রমজান, ২ ওভার বল করে মাত্র ৯ রান দিয়েই সে গুটিয়ে দেয় তেজদাসকাঠীর মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার।

    লালমনিরহাটে কুয়াশার কারণে দেরীতে শুরু হওয়া ম্যাচটি নেমে এসেছিল ৩৫ ওভারে। প্রথমে ব্যাট করে গিয়াস উদ্দিন হাই স্কুল অলআউট হয় ১৭৭ রানে। ফিফটি পেয়েছেন স্কুলটির ওপেনার রহিম বাদশা। জবাবে ৩ উইকেট হাতে রেখেও ২০ রানে হেরে গিয়েছে সরকারী অদিতমারী জিএস মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভালোই খেলছিলেন দ্বীন মোহাম্মদ (৪০) ও রবিউল ইসলাম (৪৫), জুটিতে এসেছিল ৫৮ রান। কিন্তু আস্কিং রেটের সাথে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হয় তারা। বিশেষ করে ৮৬ বলে খেলা ৪০ রানের দ্বীন মোহম্মদের ইনিংসে কার্যত শেষ ৯ ওভারে ৭৬ রান তাড়া করাটা কঠিনই হয়ে পড়ে বাকিদের জন্য।

    মাদারীপুরেও ম্যাচ নেমে এসেছিল ৩৫ ওভারে। প্রথমে ব্যাট করা ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারী হাই স্কুলের ছেলেদের ব্যাটে ঝড় থাকলেও উইকেট রক্ষা করে খেলতে পারেনি তারা, ফলাফল- ২৪.৪ ওভারে ১৫৮ রান করে সব কয়টি উইকেট খুইয়ে বসা। দিনশেষে সেই রানটুকুই যথেষ্ট তাদের জন্য। কুলপাড্ডি হাই স্কুলের ছেলেরা অলআউট হয় ১১৯ রানে। ১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েও ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারী হাই স্কুলের সহজ জয় তাই ৩৯ রানের। কুলপাড্ডির উইকেটগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ইসলামিয়া স্কুলের সায়েম মোল্লা (৪), মিমজাল ব্যাপারী (৩) ও আল জাবের (২)। অন্য উইকেটটি রানআউট।

    একপেষে ম্যাচ দেখেছে বরিশাল। ব্যাটিং বা বোলিং - কোন বিভাগেই জিলা স্কুলের ছেলেদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মহারাজ হাই স্কুল। টসটাই শুধু জিতেছে তারা, কিন্তু প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটি বুমেরাং হয়ে যায় জিলা স্কুলের বোলাররা মাত্র ১৯ ওভারেই তাদের সব কয়টি উইকেট তুলে নিলে। স্কোরকার্ডে তখন তাদের সংগ্রহ মাত্র ৭৫ রান। মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ৭৬ রানের মামুলী লক্ষ্যমাত্রা জিলা স্কুল পেরিয়ে যায় দশম ওভারেই।

    বরিশালে একপেশে ম্যাচ শেষে করমর্দন করছে দুই স্কুলের খেলোয়াড়রা

    অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফাইনালে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাই স্কুলকে ২ উইকেটে হারিয়েছে তারা। টস জিতে প্রতিপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাই স্কুলকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে তাদের ইনিংস মাত্র ১২১ রানেই গুটিয়ে দেয় রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বোলাররা। সমান জবাব দিচ্ছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাই স্কুলের বোলাররাও, ১০৩ রানে তুলে নেয় রেসিডেনশিয়ালের অষ্টম উইকেট। কিন্তু দশম ব্যাটসম্যান মেহেদিকে সঙ্গে নিয়ে আর কোন বিপদ হতে দেয়নি মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামা জুনায়েদ (৩৫*)। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপ পর্যায়ে ৩ ম্যাচেই বিজয়ী অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২টি খেলায় জয়লাভ করলেও গ্রুপ পর্যায়ে অন্নদার কাছেই পরাজিত হয়। আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন