• এএফসি কাপ
  • " />

     

    কিক অফের আগে : দীর্ঘ বিরতির পর বড় পরীক্ষার সামনে আবাহনী

    কবে, কখন 
    আবাহনী-মাজিয়া 
    এএফসি কাপ, সেকেন্ড রাউন্ড প্লে অফ, প্রথম লেগ 
    ৫ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৫.০০ 
    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম 


    আগেরবার সেমিফাইনালে উঠেও আয়াক্সকে বাছাইপর্ব উতরে এবার অংশ নিতে হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে। আবাহনী চাইলে নিজেদের মিল খুঁজে পেতে পারে আয়াক্সের সঙ্গে। আগেরবারের এএফসি কাপে চমক দেখিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেমিফাইনালে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেও অবশ্য স্বপ্নের ফাইনালে ওঠা হয়নি। তবে আবাহনীর ওই অর্জনটা ঢুকে গেছে বাংলাদেশ ফুটবলের সাফল্যগাথার ছোট গল্পতেও। 

    এশিয়া অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্লাব টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ থেকে সুযোগ মেলে শুধু লিগ জয়ীদের। সে কোটায় বসুন্ধরা কিংস এবার খেলছে সরাসরি। আর আগের মৌসুমে ফেডারেশন কাপ জয়ের সুবাদে আবাহনীর ঠাঁই হয়েছে বাছাইপর্বে। প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে আবাহনীর প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের ক্লাব মাজিয়া এফসি। মাজিয়াকে হারাতে পারলে এর পর আরও একটি দুই লেগের প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হবে আবাহনীকে। সফল হলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলবে দুইটি দল।

     


    আপাতত অবশ্য ওই পথটা বেশ দূরের। মাজিয়া মালদ্বীপ লিগে আছে সবার ওপরে। সপ্তাহের শুরুতেও তারা খেলে এসেছে টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে। আর অতীত রেকর্ডও আবাহনীর পক্ষে নয়। ২০১৭ সালে মাজিয়ার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশের জায়ান্টরা। 

    মাজিয়া যখন লিগে ব্যস্ত সময় পার করছে, তখন আবাহনীকে অবশ্য দিন গুণতে হয়েছে এই ম্যাচের জন্য। আবাহনী সবশেষ ম্যাচ খেলেছিল ৩৬ দিন আগে।  ফেডারেশন কাপে রহমতগঞ্জের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালের হার ছিটকে দিয়েছিল আবাহনীকে। লম্বা বিরতির পর প্রথম ম্যাচ, সেটাও আবার প্লে-অফ ম্যাচ, তাও আবার ঘরের মাঠে। আবাহনীর সামনে তাই ভুলের সুযোগ নেই।

    আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোসও সে কথাই বলছেন। নিখুঁত ফুটবল খেলতে চাইছেন তিনি, “আমরা গোল করতে চাই এবং গোল খেতে চাই না। আমি চাই, আমার দল আক্রমণে, রক্ষণে, সেট-পিসে, ট্রানজিশন পিরিয়ডে যেন আরও ভালো খেলে। আগামীকাল যেন আমরা নিখুঁত খেলি।” 

    ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে লেমোসকে বেশ আত্মবিশ্বাসীই মনে হলো। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন গতবার ঘরের মাঠে এএফসি কাপে একটি ম্যাচও হারেনি আবাহনী। তার হিসাব মতে আবাহনীর এ ম্যাচ জেতাই উচিত। তবে মাজিয়াকে খাটো করে দেখছেন না তিনি- যোগ করে দিয়েছেন সে কথাও। ছোট করে দেখার অবশ্য সুযোগও নেই।

    মালদ্বীপ লিগে এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে মাজিয়া। দুই সপ্তাহ ধরে তারা অনুশীলন সেরেছে আবাহনীর বিপক্ষে এই ম্যাচের জন্য। মাজিয়ার মেসেডোনিয়ান কোচ মারজান সেকুলোভস্কি অবশ্য এসব কিছু তার দলকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেবে- এমনটা মনে করেন না, "আমি সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবছি না। আমি শুধু একটা ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। আমাদের আবাহনীর বিপক্ষে খেলতে হবে। এর পর আবার খেলতে হবে ওদের বিপক্ষে।"

    মাজিয়া কোচ এর আগেরদিন অনুশীলন শেষে জানিয়েছিলেন ফেডারেশন কাপে আবাহনীর খেলা দেখে ধারণা নিয়েছেন তিনি। দুই বছর আগে আবাহনীকে হারালেও নিজেদের ফেভারিট মানছেন না তিনি। নিজের কথার পক্ষে যুক্তি হিসেবে টানছেন আবাহনীর গতবার জোনাল সেমিফাইনালে খেলার রেকর্ডটি। দুই কোচই অবশ্য বলছেন, আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে তাদের দল। এখন বাকি খেলাটা হবে মাঠেই।

    ট্যাকটিকসের টুকিটাকি 
    মাজিয়া সাধারণত ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলে। লেমোস প্রতিপক্ষকে আটাকাতে চাইছেন মিডফিল্ডেই, "আমার লক্ষ্য ওদেরকে মিডফিল্ডে পাসিং ফুটবল খেলতে না দেওয়া। সেটা আটকে ওদেরকে লং বলে খেলতে বাধ্য করতে চাই। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে আশা করি আমরাও গোল করতে পারব।"

    গোল করা নিয়ে অবশ্য খুব বেশি ভুগতে হয়নি লেমোসের দলকে। গত মৌসুমে লিগে সবচেয়ে বেশি গোল করেছিল আবাহনী। সানডে চিজোবা-কেরভেন্স বেলফোর্ট-নাবিব নেওয়াজ জীবনের ত্রয়ী লেমোসকে তো ভরসা যোগানোর মতোই। লেমোস মৌসুম শুরুর আগেই বলেছিলেন এবার তিনি রক্ষণে মনোযোগী হতে চান। অ্যাওয়ে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচতে হলে অবশ্য এর কোনো বিকল্পও নেই আবাহনীর সামনে। 

    দলের খবর 
    আবাহনী ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা  ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। তার একাদশে থাকার সম্ভাবনা তাই নেই। তবে অধিনায়ক নাবিব নেওয়াজ জীবন ফিরছেন। ইনজুরির কারণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলা হয়নি তার।

    মাজিয়ার কোচ জানিয়েছেন পুরো শক্তির দলই মাঠে নামাচ্ছেন তিনি। দলে নেই কোনো ইনজুরিও।