• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    পিএসজিকেই দুষছেন নেইমার

    বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে তুরুপের সেরা তাসগুলো ব্যবহার করেও জয়ের দেখা পায়নি পিএসজি। নেইমার, এমবাপ্পে, ডি মারিয়ার তারকাখচিত আক্রমণভাগ ম্যাচজুড়েই নিষ্প্রভ ছিল। চার ম্যাচ পরে চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমার গোল পেলেও দল জয় না পাওয়ায় নাখোশ। আর ম্যাচ শেষে তার রাগটা গিয়ে পড়ল পিএসজির চিকিৎসক দলের ওপর। পাঁজরের চোট থেকে সেরে ওঠার পরেও তাকে নিয়ে অতি রক্ষণাত্মক আচরণ করেছে পিএসজির মেডিক্যাল টিম, এমনটাই অভিযোগ নেইমারের।

    এ মাসের প্রথম দিনে মঁপেলিয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর পাঁজরের চোট নিয়ে দল থেকে ছিটকে যান নেইমার। এর পর তার সাড়ম্বরে পালন করা জন্মদিনের পার্টি নিয়ে কোচ থমাস টুখেলের বিরাগভাজনও হয়েছেন। মূলত পার্টির দুদিন পরেই ছিল নঁতের বিপক্ষে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেই ম্যাচের আগে নেইমারের পার্টিতে দলের অন্য সব খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করলে প্রস্তুতিতে ব্যঘাত ঘটতে পারে, সে কারণেই নেইমারের পার্টি নিয়ে কিছুটা নাখোশ ছিলেন টুখেল। নঁতের বিপক্ষে ম্যাচের পর লিগে লিঁও এবং আমিয়ের বিপক্ষে এবং ফ্রেঞ্চ কাপে দিজোর বিপক্ষে ম্যাচেও নেইমারকে মাঠে নামাননি তিনি। মোট চার ম্যাচ বিরতিতে অবশেষে কাল খেললেন তিনি।


    গতরাতে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরলেন, গোলও পেলেন। কিন্তু এই ম্যাচের আগে অন্য কোনো একটা ম্যাচে খেলতে পারায় নিজের এবং দলের জন্য ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন নেইমার, “এভাবে এখানে (ডর্টমুন্ডে) আসাটা ঠিক হয়নি। শেষ কয়েকটি ম্যাচ আমি খেলতে পারিনি। সেটা ক্লাব চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে এই সিদ্ধান্ত মানতে হয়েছিল। তাদের প্রস্তাবটা আমার পছন্দ হয়নি, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্লাবের। তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আমার এবং আমার সতীর্থদের জন্য বাজে হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।” 

    তবে মঁপেলিয়ের বিপক্ষে চোটে পড়ার পর খুব দ্রুতই সেরে উঠেছিলেন তিনি, “আমি ইনজুরিতে ছিলাম, আমার পাঁজরে একটি ক্র্যাক ছিল। তবে এটার কারণে খেলতে না দেওয়ার কোনও কারণ ছিল না। লিঁওর বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত ছিলাম আমি। তবে তারা আমার ফেরা পিছিয়ে দিয়েছিল। তারপর আমার ফেরার সময় আরও দুবার পিছিয়ে দেয় তারা।”

    ২০১৭ তে বিশ্বরেকর্ড ফি দিয়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে দলে টানে পিএসজি। কিন্তু পরপর দুই বছর মৌসুমের মাঝপথে এসে দীর্ঘমেয়াদি চোটে পড়েন নেইমার। গত চ্যাম্পিয়নস লিগে যেমন চোটের কারণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে শেষ ষোলতে খেলা হয়নি তার। আর এজন্যই বোধহয় এবার নেইমারকে নিয়ে কিছুটা অতি সাবধানী হতে চেয়েছিল পিএসজির মেডিক্যাল টিম, বিষয়টি নেইমার নিজেও জানেন, “আমি তাদের ভয়টা বুঝি। গত দুই মৌসুমে আমি চোটে পড়েছিলাম। আমি সে বিষয়টা বুঝি, তবে এটা এভাবে চলতে পারে না। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ এভাবে খেলা আমার জন্য কঠিন ছিল। শারীরিকভাবে আরেকটু ভালো অবস্থায় থাকলে ম্যাচে আরও ভালো খেলতে পারতাম।”