• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: স্টামফোর্ড ব্রিজে ইতিহাস ফেরাতে পারবে বায়ার্ন?

    কবে, কখন 

    চেলসি-বায়ার্ন মিউনিখ 

    চ্যাম্পিয়নস লিগ, দ্বিতীয় রাউন্ড, প্রথম লেগ 

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, রাত ২.০০

    ২০১১-১২ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ, পোকাল কাপেও “দ্বিতীয়” ভাগ্য সঙ্গী হয়েছিল তাদের। ট্রফিহীন একটি মৌসুম কাটানোর দ্বারপ্রান্তে থাকা বায়ার্নের জন্য সেবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালটি ছিল আশীর্বাদের মতো। একে তো ভাগ্যগুণে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলার সুযোগ, তার উপর শক্তিমত্তায় অনেক পিছিয়ে থাকা চেলসি প্রতিপক্ষের ভূমিকায়। বাভারিয়ানরা আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু সে আশার ফুল ঝরে যেতে বেশি সময় লাগেনি। বর্তমান চেলসি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের নেতৃত্বে বায়ার্নের লাল দুর্গে সেদিন নীল পতাকা উড়িয়েছিল চেলসি। নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ের পরও ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় থাকে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বায়ার্নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করেছিল চেলসি।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে কাল আবারও দেখা হচ্ছে এই দুই দলের। ২০১১-১২ মৌসুমের ফাইনালে কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তিমত্তায় তফাৎ ছিল অনেক। বিশ্বকাপজয়ী নয়ার-লাম-মুলারদের দিয়ে গড়া বায়ার্নের সেই দল ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পার্থক্য ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়তে খুব একটা কষ্ট হয়নি রবার্তো ডি মাত্তেও-র শিষ্যদের। এবারও ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তিমত্তায় পার্থক্যটা অনেকটা একই রকম। ল্যাম্পার্ডের দল অভিজ্ঞতা এবং ফর্ম দুই দিক দিয়ে পিছিয়ে থেকেই বুন্দেসলিগার শীর্ষে থাকা বায়ার্নকে আতিথ্য দেবে। 

    অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বায়ার্নের আক্রমণাত্মক এবং পজিশনাল ফুটবলের জবাব দিতে ঠিক কতটা তৈরি চেলসি, ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে  ল্যাম্পার্ডের কথায় মিলল এই প্রশ্নের জবাব, “গ্রুপ পর্বে আমরা আয়াক্সের মাঠে গিয়ে যখন খেলেছি, বল পজিশনের দিক দিয়ে ওরা এগিয়ে ছিল। তবে বল ছাড়াও আমাদের মুভমেন্ট ভালো থাকায় আমরা সেই ম্যাচ জিততে পেরেছি। আমরা এবার লিগেও এভাবে খেলে অনেক ম্যাচে জয় পেয়েছি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্বে বায়ার্নের মতো দলের সঙ্গে খেলাটা অনেক কঠিন হবে। ম্যাচ জিততে হলে নিজেদের মান অনেক উপরে নিয়ে যেতে হবে।”

    এই দুই দলের আগের ম্যাচগুলো ঘাঁটলে একটি বিষয় নিয়ে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আর তা হচ্ছে গোল। চেলসি-বায়ার্নের আগের সব ম্যাচেই দুই বা তার বেশি গোল হয়েছে। গ্রুপ পর্বে ২৪ গোল দেয়া বায়ার্ন এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল দেয়া দল। সঙ্গে আক্রমণভাগের পুরোধা হিসেবে আছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি গোল করা রবার্ট লেভানডফস্কি (৬ ম্যাচে ১০ গোল)। 

    বায়ার্ন কোচ হানসি ফ্লিক তো লেভানডফস্কিকে নিয়ে চেলসির দিকে সতর্কবাণীই ছুড়ে দিলেন যেন, “সে এখন তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছে। সে সম্পূর্ণ ফিট এবং আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর।” বায়ার্নের এই পোলিশ গোলমেশিনকে রুখতে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে মানছেন ল্যাম্পার্ডও, “ম্যাচে সে আমাদের জন্য অনেক বড় হুমকি হবে। তাকে আটকাতে আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।”

    ২০১২ সালে মে মাসের সেই রাতে বায়ার্নের মাঠে তাদের হতাশায় ডুবিয়েছিল চেলসি। এবার বায়ার্নের সামনে সেই সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার। এই ম্যাচ জিতলে কোনও ট্রফি হাতে উঠবে না, এমনকি পরবর্তী রাউন্ডের টিকিটও হয়ত পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না আর ফাইনালে হারের দুঃখও তো শেষ ষোলর জয়ে মেটার কথা নয়! তবুও বায়ার্নের সামনে কাল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির সঙ্গে ম্যাচটি ‘বিশেষ’ আবেদন নিয়েই হাজির হবে। আর ‘তরুণ’ চেলসির সামনেও রয়েছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সুযোগ।  

     

    দলের খবর

    এই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ এবং ক্যালাম হাডসন-ওডয়কে পাচ্ছেন না ল্যাম্পার্ড। চোটের কারণে ম্যাচের আগেই ছিটকে গেছেন দুজন। তবে সদ্য চোট কাটিয়ে ফেরা ট্যামি আব্রাহামকে এই ম্যাচে শুরু থেকেই পেতে পারেন চেলসি কোচ। লিগে শেষ ম্যাচে টটেনহামের বিপক্ষে গোল পেলেও আব্রাহামকে টপকে শুরু থেকে সম্ভবত খেলবেন না অলিভিয়ের জিরু, সরাসরি না বললেও ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে  ল্যাম্পার্ড সেটি আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

     

    বায়ার্নের অবশ্য কোনও চোট সমস্যা নেই। তবে বার্সেলোনা থেকে ধারে খেলতে আসা ফিলিপে কুতিনহোকে শুরু থেকে খেলাবেন নাকি টমাস মুলার বা কিংসলে কোমানের কোনও একজনকে শুরু থেকে দেখা যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।  

     

    সম্ভাব্য একাদশ 

    চেলসি

    কাবায়েরো, আজপিলিকুয়েটা, ক্রিস্টেনসন, রুডিগার, জেমস, জর্জিনহো, কোভাচিচ, আলনসো, উইলিয়ান, মাউন্ট, আব্রাহাম

    বায়ার্ন মিউনিখ 

    নয়ার, কিমিখ, আলাবা, হার্নান্দেজ, অদ্রিওজোলা, তোলিসো, থিয়াগো, ডেভিস, কুতিনিয়ো, গেনাব্রি, লেভানডফস্কি

    হেড টু হেড 

    মোট ৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে চেলসি এবং বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩ বার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে চেলসি এবং বায়ার্ন, তাদের অন্য ম্যাচটি ছিল ইউয়েফা সুপার কাপে। ২০১১-১২ মৌসুমে ফাইনালে বায়ার্নকে হারিয়েই নিজেদের একমাত্র চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয় করেছিল চেলসি। এর আগে ২০০৪-০৫ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগের প্রথমটিতে বায়ার্ন আর দ্বিতীয়টিতে জয় পেয়েছিল চেলসি। ২০১৩ সালে ইউয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে অবশ্য বাভারিয়ানরাই শেষ হাসি হেসেছিল। 

    প্রেডিকশন 

    চেলসি ১-১ বায়ার্ন