• এএফসি কাপ
  • " />

     

    বার্কোসের ৪ গোলে এএফসি কাপে স্বপ্নের শুরু বসুন্ধরা কিংসের

    ফুলটাইম 
    বসুন্ধরা কিংস ৫-১ টিসি স্পোর্টস 
    এএফসি কাপ, গ্রুপ 'ই' 


    হের্নান বার্কোসের কাছে এর চেয়ে বেশি কী প্রত্যাশা করতে পারত বসুন্ধরা কিংস? বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বেতন দিয়ে কেবল এই এএফসি কাপের জন্যই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে দলে ভিড়িয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এর পর বসুন্ধরার জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচে বার্কোস যা করলেন সেটাও ঢুকে যাবে ইতিহাসে। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে বার্কোস একাই করলেন ৪ গোল। এক প্রান্তে বার্কোস যদি নায়ক হন, অন্যপ্রান্তের আনিসুর রহমান জিকো তাহলে পার্শ্বনায়ক। টিসি স্পোর্টস ক্লাবের পেনাল্টি ঠেকিয়ে বসুন্ধরাকে পথে রেখেছিলেন তিনি।  

    বার্কোস যদি নতুন নায়ক হন, তো পুরনো নায়ক দানিয়েল কলিনদ্রেসও কম গেলেন না। বার্কোসের দুই গোলে বড় অবদান তার। নিজেও পরে করেছেন এক গোল। এএফসি কাপের গ্রুপ ‘ই’ এর প্রথম ম্যাচে তাই টিসি স্পোর্টসকে উড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।


    বসুন্ধরা অবশ্য মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল আগেই। নতুন টানেল, সাইডবেঞ্চে ঠাসানো পোস্টার, স্টেডিয়ামের নতুন দুই জায়ান্ট স্ক্রিন সংযোজন, আর গ্যালারির সামনে এক মিনিট দূরত্ব পর পর স্টুয়ার্ডরা- বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এদিন ঝকঝকে। তার সঙ্গে মানানসই বসুন্ধরার মাঠের পারফরম্যান্সও। 

    স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকের জায়ান্ট স্ক্রিন ছিল শুধু মাত্র গোলের জন্য। ওই স্ক্রিন একদম শুরু থেকেই ব্যস্ত। বসুন্ধরার উদযাপনের শুরু বার্কোসকে দিয়ে। বাম দিক থেকে কলিনদ্রেসের ক্রস দূরের পোস্টে গিয়ে পড়েছিল। বার্কোসকে পাহারায় রেখেছিলেন টিসির দুই ডিফেন্ডার। তাতে কাজ হয়নি, বার্কোসকে তেমন লাফও দিতে হয়নি। দুই ডিফেন্ডারের মাঝে জায়গা করে নিয়ে হেডে গোল করে নিজের সহজাত সেই জলদস্যু উদযাপনে মাতলেন বার্কোস। কেন তার ডাকনাম ‘এল পিরাতা’- সেটা বার্কোস প্রমাণ করতে সময় নিলেন ১৮ মিনিট।  

    বার্কোস শো অবশ্য শুরুতে স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ম্যাচ শেষে বসুন্ধরার কেউ যদি আক্ষেপ সঙ্গী করে বাড়ি ফেরেন তাহলে তিনি ইয়াসিন খান। মালদ্বীপ ফরোয়ার্ড আলি আশফাকের ফাঁদে পা দিয়ে টিসিকে পেনাল্টি পাইয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসিন। জিকো ইসা ইসমাইলের পেনাল্টি কিক ফিরিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু রিবাউন্ডে আর রক্ষা হয়নি তার। ইসাই গোল করে তখন দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন। তবে জিকো-ইসার লড়াই তখন কেবল শুরু। যার শেষ অঙ্কে নায়ক জিকোই। 

    জিকোর গল্পে যাওয়ার আগে ২৬ মিনিটে আরেকবার দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন বার্কোস। আরও একবার হেডেই গোল করেছিলেন তিনি। বিপ্লু আহমেদের বক্সের ভেতর ডান প্রান্ত থেকে উঠিয়ে দেওয়া বল এবার সিক্স ইয়ার্ড বক্সের কোণা থেকে গ্ল্যান্সিং হেডারে জালে জড়ান লিওনেল মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলে খেলা বার্কোস। বিরতির সময় তাই স্বস্তিই সঙ্গী হয়েছিল অস্কার ব্রুজোনের। 

    অবশ্য রেফারির এক উদ্ভট সিদ্ধান্তে বিরতির পরপরই সেই স্বস্তি উবে যাওয়ার দশা হয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের। ভুগতে থাকা ইয়াসিনকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উঠিয়ে আলমগীর কবির রানাকে নামিয়েছিলেন ব্রুজোন। রানা খেলেছেন মিডফিল্ডে আর নিকোলাস দেলমন্তেকে সরে গেছেন সেন্টারব্যাকের ভূমিকায়। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বক্সের ভেতর সৈয়দ আব্দেল রাহিমকে পাহারায় রাখছিলেন। রাহিমও তখন পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছেন। পরে রিপ্লে দেখলে হয়ত রেফারি নিজেই তার ওই সিদ্ধান্তে ধন্ধে পড়ে যেতে পারেন। 

    স্পট কিক থেকে এবারও ইসমাইলকে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন জিকো। কিন্তু গোললাইন ছেড়ে সামনে আসায় বাতিল হয় পেনাল্টি। মাঠের হাজার পাঁচেক লাল সমর্থকের উল্লাসও থামল তাতে। পুনরায় কিক নিয়ে ইসমাইল এবার মারলেন ডানদিকে, এবারও জিকো আরও দুর্দান্ত এক সেভে ফেরত পাঠালেন বল। এবার আর উল্লাসে বাধা নেই বসুন্ধরা সমর্থকদের। 

    ম্যাচশেষে  টিসির কোচ মোহাম্মদ সাজলি বললেন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ওই পেনাল্টি সেভটিই। তার কথায় অবশ্য যুক্তি আছে, ম্যাচের বাকি সময়ে তো আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি টিসি স্পোর্টসকে। বসুন্ধরাও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে গেলে হ্যাটট্রিক পূরণের সুযোগ এসে যায় বার্কোসের সামনে। বাম কোণায় নিচু পেনাল্টি কিকে গোল করে কাজটা সেরে ফেলেন বার্কোস। 

    বসুন্ধরার এমন দিনে কলিনদ্রেস গোলবঞ্চিত থাকলে সেটা একরকম অন্যায়ই হত। বিশ্বনাথ ঘোষ ৭৬ মিনিটে ক্রসটা করেছিলেন আসলে বার্কোসের উদ্দেশ্যে। তিনি নাগাল পাননি, পেছন থেকে কলিনদ্রেস হেডে গোল করে নিজের নামটাও প্রথমবারের মতো লিখিয়ে ফেললেন এএফসিতে। আর টিসির দুর্ভোগের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে যোগ করা সময়ে। এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে ঠেলে  চতুর্থ গোলটিও করে ফেলেন বার্কোস। এমন অভিষেক তো স্বপ্নের, সেটা আর্জেন্টিনায়ই হোক আর বাংলাদেশেই হোক!