• জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    অধিনায়ক তামিমের চাওয়া 'সময়', দলের জন্য কিছু করতে না পারলে ছেড়ে দেবেন দায়িত্ব

    তামিম ইকবাল অধিনায়কত্ব পেলেন টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে। এরপর বাংলাদেশের ওয়ানডে খেলার কথা সামনের মাসে, পাকিস্তান সফরে একটি ম্যাচ। তবে আপাতত করোনা ভাইরাসের কারণে সে সফর হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। এরপর মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে আছে ওয়ানডে, করোনা ভাইরাসের প্রভাব ততোদিন পর্যন্ত থাকবে কিনা, সেটি তো বলার উপায় নেই এখনও। তবে তামিমের হাতেই এখন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের দায়িত্ব। বিসিবি বলেছিল, দীর্ঘমেয়াদেই তাকে অধিনায়ক হিসেবে চিন্তা করছেন তারা। এবার তামিমও বললেন, দীর্ঘমেয়াদেই দায়িত্ব চেয়েছিলেন তিনি। দলকে বিশ্বের সেরা তিনের মধ্যে আনার স্বপ্ন দেখেন, চান দলীয় সংস্কৃতির উন্নতি। তবে সেজন্য ‘সময় প্রয়োজন’ তার। 

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর আগে ২০২৩ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন অধিনায়ক আনার ইঙ্গিত দেওয়া বিসিবি তামিমকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করতেও খুব বেশি সময় নেয়নি। আপাতত তামিমের চাওয়া, একটা ‘বড় জয়’। বিশ্বকাপের পর মাশরাফির অনুপস্থিতিতেই শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তামিম, তবে দল হয়েছিল তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে অবশ্য জয়ের ধারায় ফিরেছে আবার তারা। 

    ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে তামিম জানালেন অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে নিজের ভাবনার কথা, “অধিনায়কত্বের ব্যাপারটা যেটা জানেন যে, এটা একটা সম্মিলিত প্রক্রিয়া। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে আমার একটা কারণ ছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত (তো) থাকে। আমি হই বা অন্য কেউ, আমরা এখন এমন পর্যায়ে ধরুন একটা, দুইটা বা তিনটা সিরিজে খুব কঠিন অধিনায়কের জন্য কোনো কিছু পরিকল্পনা করা।

    “আমি চাচ্ছিলাম লম্বা সময়ের জন্য। লম্বা সময় পেলে দলে আপনি একটা ব্যবধান গড়তে পারেন। আর দল হিসেবে যেটা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, আপনি যদি দেখেন ২০১৫ সালে যখন আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জিতি তখন মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে আমাদের যে গ্রুপটা ছিল সেটার মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মালো যে ‘না, ঠিক আছে। আমরা হারাতে জানি।’”

    “আমার মনে হয় ওয়ানডে দল হিসেবে আমাদের একটা বড় ম্যাচ জেতা খুব জরুরি। তা এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে যে, আমরা আবার জিনিসগুলো ভালো করতে পারি। এটাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে। যত দ্রুত আমরা একটা বড় ম্যাচ জিততে পারি যা দলের জন্য ভালো হবে। আর অধিনায়কত্বর জিনিসটা যেটা বললাম, এটা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। আমার এটাই (চাওয়া) ছিল যে লম্বা সময়ের জন্য (যাতে পাই)।”

     


    সব ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশকে এর আগে ৪ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম। ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ছিলেন না তিনি। বিপিএলেও সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে মাঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তামিমের উপস্থিতি অবশ্য সবসময়ই সরব ছিল। 

    তামিম বলছেন, ‘অনভিজ্ঞ’ হলেও তার প্রতি বিশ্বাস রাখতে, “সত্যি বলতে আমি খুব অভিজ্ঞ অধিনায়ক না। যদি বলেন আমি অনেক জায়গায় অনেক অধিনায়কত্ব করেছি তা না। এই কারণে আমার প্রতিও ওটা (বিশ্বাস) রাখবেন। একটু সময় দিতে হবে আমাকে যে কোনো কিছুর।”

    অধিনায়কত্বের চাপ নিজের পারফরম্যান্সের ওপর পড়তে পারে, তামিম সেটি জানেন ভালভাবেই, “খুব স্বাভাবিক একটা কথা যে দায়িত্ব কেউ নিলে (যেটা) চলে আসে (যে) ব্যাটিং পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যায়, এটা ওটা হয়ে যায়। আমি নিজেও জানি না আজ থেকে ছয় মাস বা একবছর পর কীভাবে (কেমন থাকবে) আমার পারফরম্যান্স। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। আপনাদেরও একটু ধৈর্য রাখতে হবে। আমাদের দর্শক যারা আছেন তাদেরও একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমার এটাই কাজ থাকবে যে দলের ভালর জন্য যা যা (দরকার) আমি তাই করার চেষ্টা করব। আমি সফল হবো কি হবো না এটা আমি জানি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করবো সবকিছু ঠিক করার।”

    “যে কোনো কিছু আপনার এক সিরিজ, পাঁচ-ছয় ম্যাচ দিয়ে বিচার করা কঠিন। বিশেষ করে, অধিনায়কত্ব একেবারে ভিন্ন একটা ব্যাপার। আর আমি এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নিচ্ছি যে এটা খুব কঠিন সোজাসুজি উনার পর্যায়ে চলে যাওয়া। আমি এটাও খুব ভালো করে জানি। তিনি এতো বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধীনে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। সোজাসুজি উনার পর্যায়ে চলে যেতে পারলে ভালো। আর যদি যেতে না পারি আমাকে আপনাদের কিছু সময় দিতে হবে।” 

    তবে মাশরাফির অধীনে থাকা সময়টা কাজে দেবেই বলে বিশ্বাস তার। বলছেন দলকে নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখেন তিনি, “আমি যদি বলি আমি সেরা তিন দলের একটি হতে চাই.. এটি অনেক লম্বা একটা প্রক্রিয়া। আমি শুধু বলার জন্য এটা বলতে চাই না। আমাদের এই মুহুর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছোট ছোট জিনিসগুলো কীভাবে ঠিক করতে পারি। অনুশীলনে কীভাবে আরও ভাল করতে পারি। দল হিসেবে কীভাবে খেলতে পারি। আমি অন্য ক্রিকেটারের জন্য কীভাবে অবদান রাখতে পারি, যে আমার সাহায়্যে অন্য কেউ আরও ভালো কীভাবে খেলতে পারে। অথবা ওর সহায়তায় আমি ভালো খেলতে পারি। এইসব বিষয় নিয়ে আমি শুরু করতে চাই। দীর্ঘ প্রক্রিয়া চিন্তা না করে ছোট-খাটো বিষয়গুলো চিন্তা করলে এমনিতেই (সব) হয়ে যাবে।”

    “আমি আক্রমণাত্মক থাকতেই পছন্দ করি। পরিস্থিতি অনেক সময় বুঝতে হবে, আমাদের শক্তিমত্তার বিষয়ও আমাদের বুঝতে হবে। সবকিছু দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আপাতত এতোটুকু বলতে চাই এক্ষেত্রে আপনারা একটু ধৈর্য রাখবেন। এক সিরিজ, দুই সিরিজ, কিংবা ৫ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাজে অবস্থা হতেই পারে। আশা করি হবে না। আপনার অধৈর্য হবেন না, দর্শকদের অনুরোধ করবো আপনারা অধৈর্য হবেন না। আমি এটাই চেষ্টা করবো যেন তাড়াতাড়ি এটা ঠিক হয়ে যায়। আর যদি ছয় মাস, ১ বছর কিংবা দেড় বছর হোক- আমি যদি দলের জন্য কিছু করতে না পারি তাহলে অবশ্যই এই দায়িত্ব ছেড়ে দিবো।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন