• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    'চ্যাম্পিয়নস লিগ' শিশুদের ভিডিও কলে চমকে দিলেন ইনিয়েস্তা

    ৬ মে ২০০৯, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল। ম্যাচের শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে লিওনেল মেসির স্কয়ার পাস ইনিয়েস্তার উদ্দেশ্যে, বল দখলে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে চেলসির জালের টপ কর্নার কাঁপিয়ে তুললেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ওই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বার্সেলোনা। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে জিতে পেপ গার্দিওলার অধীনে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ট্রেবল পূরণ। সময়টা বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতোই। তাতে অবশ্য ইনিয়েস্তার ওই গোলে ছিল বিরাট ভূমিকা।

    সেই গোলের ঠিক ৯ মাস পর কাতালুনিয়ায় হঠাৎ জন্মহার বেড়ে যাওয়ার পর দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে খবর ছাপা হয়েছে অনেক। সে সময় জন্ম নেওয়া শিশুরা এতোদিনে ১০ বছরে পা দিয়ে ফেলেছে। এই খবর জানেন ইনিয়েস্তাও।


    বুধবার জাপানে লকডাউনের মাঝে থাকা ইনিয়েস্তা কাতালুনিয়ায় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া দুজন ১১ বছর বয়সী কিশোরকে ভিডিও কলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের মাঝে ইগনাসিও নামের এক কিশোরের জন্ম হয়েছিল ১৮ জানুয়ারি, ভিডিও কলে ইনিয়েস্তা তাকে নিজের সেই বিখ্যাত গোলটি দেখেছিল কিনা জিজ্ঞেস করেছেন। জবাবে ইগনাসিও সেই গোল দেখেছে জানিয়ে বলে, “আপনি সেরা ছিলেন।” ইগনাসিও-র মা আন্দ্রিয়া বেরি এরপর ইনিয়েস্তাকে জানিয়েছেন যে, সেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের জন্য রোমের বিমানে ওঠার আগেই তিনি জানতে পেরেছিলেন তার গর্ভধারণের ব্যাপারে।

    আর অপর কিশোরের নাম জোসিপ এনরিক, তার জন্ম হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। বার্সেলোনার জার্সিতে ভাইকে নিয়ে ইনিয়েস্তার সঙ্গে ভিডিও কলে এসেছিলেন সেই কিশোর, সঙ্গে বাবা জোসেপ সালভাতও ছিলেন। সালভাত ইনিয়েস্তাকে সেই ম্যাচ দেখার অনুভূতি জানিয়েছেন ভিডিওকলে, সঙ্গে এও জানিয়েছেন যে তার ভাই এনরিকের জন্মের পর দিনক্ষণ গুনে বুঝতে পেরেছিলেন ইনিয়েস্তার গোলের ফলেই পৃথিবীতে এসেছে এনরিক।

    চেলসির বিপক্ষে সেই ম্যাচের পরই জেরার্ড পিকে সংবাদমাধ্যমকে রসিকতা করে বলেছিলেন, “আজ রাতে অনেক ভালোবাসা আদান-প্রদান হবে।” পিকের সেই মন্তব্য অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিল। কাতালুনিয়ার কুইরন হাসপাতালের ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে এক মুখপাত্র পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, যেখানে দৈনিক সেই হাসপাতালে ৯-১০ জন শিশু জন্ম নিত, ইনিয়েস্তার সেই গোলের নয় মাস পরে সেই হাসপাতালে দৈনিক ১৪-১৫ জন করে শিশু জন্ম নিয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বার্সেলোনার সেই জয়ের ফলে প্রায় ১৬ শতাংশ জন্মহার বেড়ে গিয়েছিল কাতালুনিয়ায়।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন