• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    'সালাহকে ফাউল করা ছিল রামোসের মাস্টারস্ট্রোক'

    ২০১৮ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মোহাম্মদ সালাহকে ভাবে ফাউল করে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস। লিভারপুলের মূল অস্ত্রকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে রামোস ইচ্ছে করে সেই ফাউল করেছিলেন বলে তখন অভিযোগ করেছিলেন অনেকে। সেই ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে দুই বছর। তবে জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েলিনির চোখে রামোসের সেই ফাউল ছিল ‘মাস্টারস্ট্রোক’।

    স্প্যানিশ আউটলেট 'এএস' কিয়েলিনির অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর কিছু অংশ প্রকাশ করেছে। আর সেখানেই রামোসের প্রশংসা করে কিয়েলিনি বলেছেন, “সে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার। অনেকে বলে সে আবেগপ্রবণ, ট্যাকটিকাল না, তার ভুলে মৌসুমে রিয়াল ৮-১০ টি গোল বেশি হজম করে। তবে আমি বলব, তার টেকনিক অত্যন্ত ভালো, সে চাইলে স্ট্রাইকারও হত পারত। তার মাঝে সেই গুণ আছে, যেটা আমার মাঝেও নেই।”


    এরপর ডিফেন্ডার হিসেবে রামোস কোন জায়গায় সময়ের অন্য সেরা ডিফেন্ডারদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন সেটিও সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেন কিয়েলিনি, “ডিফেন্ডার হিসেবে তার দুটি বৈশিষ্ট্য আছে, যেটি আর কারো নেই। সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অভাবনীয় সব রক্ষণ কৌশল প্রয়োগ করে, যা যুক্তি দিয়ে হয়ত সবসময় ব্যাখ্যা করা যায় না। তার সেসব কৌশল প্রয়োগের ফলে অনেক সময় খেলোয়াড়রা চোটেও পড়ে যায়, তবে সে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় শয়তানী বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটিয়ে নিজের কাজ হাসিল করে নিতে ভোলে না।”

    চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সালাহকে ফাউল করার পেছনেও রামোস তেমনই কোনও কৌশলের প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন বলে মনে করেন কিয়েলিনি, “২০১৮ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সালাহকে করা ট্যাকলটি তো মাস্টারস্ট্রোক ছিল। সে বারবার বলেছে ফাউলটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তবে যেভাবে সে সালাহকে আটকে রাখতে চেষ্টা করেছে, এবং যেভাবে মাটিতে পড়ে গেছে দুজন, দশবারের মাঝে নয়বারই এই ধরনের ট্যাকলে প্রতিপক্ষের হাত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

    রামোস রিয়ালের জন্য কতো গুরুত্বপূর্ণ? কিয়েলিনি মনে করেন রিয়ালের রক্ষণের প্রাণই রামোস। তার অনুপস্থিতিতে বাকি ডিফেন্ডাররা কিয়েলিনির চোখে 'ছোকরা', “সে দলে থাকলে রক্ষণের শক্তিমত্তা এমনিতেই বেড়ে যায়। রামোসকে ছাড়া মাদ্রিদের অন্য চ্যাম্পিয়ন ডিফেন্ডার ভারান, কারভাহাল এবং মার্সেলোকে স্কুলবালক মনে হয়। রামোসকে ছাড়া খেললে তারা হঠাৎ করেই খারাপ খেলা শুরু করে, রিয়াল মাদ্রিদকে তখন রক্ষণবিহীন দল মনে হয়।”

    আয়াক্সের বিপক্ষে বার্নাব্যুতে ৪-১ গোলে মাদ্রিদের হারের পেছনে কারণ হিসেবে তার অনুপস্থিতিকেই তুলে ধরেছেন কিয়েলিনি, “বার্নাব্যুতে সে থাকলে স্প্যানিশরা কখনো ৩ গোলে ম্যাচ হারত না। আমি বাজি ধরতে পারি। প্রথম ম্যাচের পর তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কারণ সে সত্যি কথা বলেছিল।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন