• এফ এ কাপ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    গার্দিওলার সিটিকে বিদায় করে ফাইনালে আরতেতার আর্সেনাল

                                                                                   ফুলটাইম                                                

                             আর্সেনাল ২-০ ম্যানচেস্টার সিটি


    ২০১৭। ওয়েম্বলি।

    ২০২০। ওয়েম্বলি।

    মাঝের তিন বছরে ম্যানচেস্টার সিটিকে আর হারাতে পারেনি আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত পেপ গার্দিওলাকে হারিয়ে দিলেন তারই শিষ্য মিকায়েল আরতেতা। ওয়েম্বলিতে এফএ কাপে সিটির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় আর্সেনালকে তুলে দিল ফাইনালে। ভুলে যাওয়ার একটা মৌসুমে এবার ট্রফির হাতছানি আর্সেনালের। সেখানে তাদের বাধা চেলসি বা ম্যান ইউনাইটেড।

    ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং, তবে সমান অবদান রেখেছে আর্সেনালের রক্ষণও। উলভস আর লিভারপুলের ম্যাচের মতো আজও দারুণ ডিফেন্ডিং করে গেছেন ডেভিড লুইজ এবং শকুদ্রান মুস্তাফি। অনুমিতভাবেই বল পজেশন থেকে শুরু করে শট নেওয়াতে সিটি এগিয়ে ছিল। কিন্তু ম্যাচে পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছে আর্সেনালই। আরতেতা সেজন্য আলাদা করে একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

    গার্দিওলার পূর্ণশক্তির সিটির বিপক্ষে জয়ের জন্য যেটা করা সেটাই করেছেন। কাউন্টার অ্যাটাকের দিকে মনযোগ দিয়েছেন। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই অবশ্য প্রথম গোলটা পেয়ে যেতে পারত আর্সেনাল। লুইজ ডিফেন্ডার হলেও থ্রু বল দেওয়ার অভ্যাস আছে ভালোমতোই, সেটার প্রমাণ দিলেন আরও একবার। মধ্যমাঠ থেকে আচমকা বাড়ানো সোজা থ্রু খুঁজে নিল অবামেয়াংকে, হঠাৎ আর্সেনাল স্ট্রাইকার আবিষ্কার করলেন সামনে শুধু সিটি গোলরক্ষক এডারসন। কিন্তু সোজাসুজি বলটা মেরে দিলেন এডারসনের গায়ে। কিন্তু তিন মিনিট পরেই অবামেয়াং প্রায়শ্চিত্ত করলেন দারুণভাবে। এবার ডান দিকে বল পেয়েছিলেন নিকোলাস পেপে। বক্সের ভেতর বাঁ পায়ে দারুণ একটা ক্রস ফেললেন। সেটা ডান পায়ের বুটের বাইরের অংশ দিয়ে তার চেয়েও দারুণভাবে জালে জড়িয়ে দিয়েছেন অবামেয়াং, আগের গোলের আক্ষেপ ভুলতে তিন মিনিটও সময় নেননি। আর্সেনালে আসার পর সব প্রতিযোগিতা মিলে ৬৫ গোল করেছেন অবামেয়াং, এই সময়ের মধ্যে এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু ইংলিশ লিগে মো সালাহ।

    সিটি এরপর ধাতস্থ হয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ফাইনাল থার্ডে এসে বার বার খেই হারিয়ে ফেলেছে। কখনো মেন্ডি, কখনো ডি ব্রুইন বক্সের ভেতর ঢুকে আর ফাইনাল পাস ঠিকমতো দিতে পারেননি। প্রথমার্ধে বেলেরিন তো বল তুলেই দিয়েছিলেন ডি ব্রুইনকে, সেই সুযোগও নিতে পারেনি সিটি। ৪০ মিনিটে বরং আরেকটি দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় আর্সেনাল। এবার কর্নার থেকে মুস্তাফির হেডটা বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন এডারসন। ১-০ গোলেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    ৪৭ মিনিটে অবশেষে ভালো একটা ফাইনাল পাস দিতে পারলেন ডি ব্রুইন। বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো ক্রসটা পায়েও লাগিয়েছিলেন স্টার্লিং, কিন্তু পোস্টের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। এই যাত্রা বেঁচে যায় আর্সেনাল। পুরো ম্যাচে এটাই সম্ভবত সিটির সেরা সুযোগ।

    ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আরেকবার বাঁচিয়ে দিয়েছেন আর্সেনালকে। এবার বক্সের ভেতর কাট করে ঢুকে বাঁ পায়ে শট নিয়েছিলেন রিয়াদ মাহরেজ। নিয়ার পোস্টে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পরে দারুণভাবে সেটি ধরে ফেলেছেন মার্টিনেজ। ৬০ মিনিটে ডি ব্রুইন আরেকবার কাছাকাছি গিয়েছিলেন। এবার তার ফ্রিকিক একটুর জন্য চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে বাইরে। ৬৩ মিনিটে স্টার্লিংকে ফেলে দিয়েছিলেন মুস্তাফি, ভিএআর কয়েকবার দেখে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টির পক্ষে রায় দেয়নি।

    শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে আর্সেনালই পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল। এবার প্রতি আক্রমণ থেকে প্রথমে পেপের কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন টিয়ের্নি। তার থ্রুটা খুঁজে নেয় অবামমেয়াংকে, হাই লাইন খেলতে মেন্ডি অনসাইড খেলেছিলেন। অবা সুযোগটা মিস করেননি, বেশ কিছুটা দৌড়ে এডারসনের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দিয়েছেন জালে।

    সিটি এরপর অবশ্য যথারীতি বল দখলে রেখেছে একের পর এক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আর্সেনালের জমাট রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি। স্টার্লিংয়ের গোলমুখী শটে দারুণ ব্লক করেছেন লুইজ, ৮৪ মিনিটে লাপোরতের বুলেট শট একটুর জন্য চলে গেছে পোস্টের পাশ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে গার্দিওলাকে, শেষ হয়েছে ওয়েম্বলিতে সিটির জয়রথ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন